/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/31/tender-2025-12-31-08-15-30.jpg)
West Bengal tender corruption: ঠিকাদারের যন্ত্রপাতি আটকে রাখার অভিযোগ।
তৃণমূলের বহুবলী নেতাদের দাবি মতো ১ লক্ষ টাকা 'কমিশন' দিতে পারেননি সরকারি প্রকল্পের কাজ করা ঠিকাদার। সেই কারণেই নাকি আটকে দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারের কাজের যাবতীয় যন্ত্রপাতি।
বিধানসভা ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার আগে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মানস ভট্টাচার্য ও সরাইটিকর অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি বাবু হাজরার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এমন ঘটনার বিহিত চেয়ে ঠিকাদার শেখ সুখচাঁদ পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক ও জেলাপরিষদের সভাধিপতির দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন- West Bengal weather: পারদ নামছে হু হু করে! নতুন বছরের শুরুতেই কনকনে ঠান্ডার পূর্বাভাস
ঠিকাদার শেখ সুখচাঁদ প্রশাসনকে জানিয়েছেন, তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের টেণ্ডার অনুযায়ী সরাইটিকর থেকে নতুনগ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের বরাত পান। সেই রাস্তা নির্মাণের কাজ তিনি গত ১৮ ডিসেম্বর সম্পূর্ণ করেন। কিন্তু কাজ সম্পূর্ণ হলেও রোড রোলার সহ অন্য যন্ত্রপাতি এখনো তিনি কাজের জায়গা থেকে নিয়ে যেতে পারেননি।
এর কারণ হিসাবে সুখচাঁদ প্রশাসনকে জানিয়েছেন, তিনি রাস্তা নির্মানের কাজ করার জন্য তাঁর কাছে ১ লক্ষ টাকা কমিশন দাবি করেন বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মানস ভট্টাচার্য এবং সরাইটিকর অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি বাবু হাজরা। ওই টাকা তিনি দিতে চাননি বলে ওই নেতাদের নির্দেশে তাঁর রোড রোলার সহ অন্য সব যান্ত্রপাতি নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি।
যদিও ওই ঠিকাদারের আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বর্ধমান ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মানস ভট্টাচার্য।তিনি পরিস্কার
জানিয়ে বলেছেন, “এক লক্ষ টাকাতো দূরের কথা তিনি বা অঞ্চল সভাপতি ওই ঠিকাদারের কাছে ১ টাকা চেয়েছেন, এমনটা যদি ঠিকাদার প্রমাণ করতে পারেন তাহলে তিনি তাঁর রাজনৈতিক পদ ছেড়ে দেবেন।" পাল্টা অভিযোগে মানাস বাবু বলেন, "ওই ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের পথশ্রী প্রকল্পের রাস্তা তৈরি করেছেন।"
তা নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এই ঘটনার মোড় ঘোরাতেই ঠিকাদার আমার ও অঞ্চল সভাপতির নামে এক লক্ষ টাকা চাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। তাই তিনিও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানা ও জেলা পরিষদে অভিযোগ জানিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন বলে মানস ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনা নিয়ে শাসক দলকে বিঁধতে ছাড়েনি বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা বিজেপির মুখপাত্র শান্তিরূপ দে বলেন, “তৃণমূলের রাজত্বে টেণ্ডার ডাকা থেকে টেণ্ডার পাশ করানো,সবেতেই কাটমানি দিতে হয় তৃণমূল নেতাদের। তৃণমূল নেতারা ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভাবে শেষ কামড় দিচ্ছে।"
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us