/indian-express-bangla/media/media_files/4kExS0pvewiO4SQuDJew.jpg)
Durga Puja 2025: প্রতীকী ছবি।
Durga Puja: ভগবানপুরের বেরা বাড়ি প্রায় ২৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করে আসছে। জমিদার দর্পনারায়ণ বেরা এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। সময় বদলেছে, জমিদারি প্রথা হারিয়ে গেছে, আচার–অনুষ্ঠানের অনেক দিক সহজ হয়েছে, কিন্তু এখানকার কিছু রীতি আজও অটুট।
বিশেষত হোমে অগ্নি সংযোগের প্রথা—আজও দেশলাই বা লাইটার নয়, আতস কাঁচের উপর সূর্যের আলো ফেলেই আগুন জ্বালানো হয়। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে দাঁড়িয়েও প্রকৃতির আলো–আগুনের এই যোগসূত্র ভগবানপুরের পুজোকে আলাদা মাত্রা দেয়। প্রতি বছর এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায় এলাকাবাসী।
এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা কাহিনি। স্থানীয়দের বিশ্বাস, একসময় দেবী গাংচিল রূপে এসে পুজো গ্রহণ করতেন। আজও সেই বিশ্বাস অটুট। মানত পূরণের জন্য অনেকে আসেন—কেউ পুত্র কামনায় বড় বাতাসা দেন, কেউ আবার বোবা সন্তানের মুখে কথা ফোটার আশায় ওল উৎসর্গ করেন।
প্রথা অনুযায়ী এখনও দু’জন অবিবাহিত ব্রাহ্মণের কাঁধে ভর করে কলাবউকে দিঘিতে স্নান করানো হয়। এখানে পশুবলি হয় না। কনকষষ্ঠীর দিন থেকে প্রতিমা গড়া শুরু হয়। আগে লক্ষ দুর্গা মন্ত্র জপ করা হলেও এখন তা আর হয় না, তবে নৈবেদ্যে এখনও এক কুইন্টাল চাল দেওয়া হয়। একসময় নবমীতে পাত পেড়ে ভোজন ও নৌকায় ঘট আনার রীতি ছিল, যা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে। এখন সামান্য দেবোত্তর সম্পত্তি ও স্থানীয় সাহায্যেই খরচ বহন হয়।
দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের আগে দিঘি প্রদক্ষিণ করানো হয়। সব মিলিয়ে ভগবানপুরের বেরা বাড়ির দুর্গাপুজো আজও প্রমাণ করে—আড়ম্বর কমলেও ঐতিহ্যের আলো কখনও ম্লান হয় না।
আরও পড়ুন-পুজোয় বাঙালির পাতে পদ্মার ইলিশ, রসনা তৃপ্তিতে মন জুড়াবে
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us