/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/03/bur-2026-02-03-18-10-01.jpg)
Purba Bardhaman News: খুনের অভিযোগে ধৃত বছর পঁয়তাল্লিশের এই ব্যক্তি।
ভরদুপুরে শহরের বুকে ঘটে গেল হাড়হিম করা এক হত্যাকাণ্ড। রোগীর চিকিৎসার চেম্বারের ভেতরেই এক হাতুড়ে ডাক্তারকে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুন করল এক যুবক। নৃশংস এই ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজেই সোজা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত চিকিৎসকের নাম রাজা ভৌমিক (৪৫)। তাঁর বাড়ি বর্ধমান শহরের বাবুরবাগ এলাকায়। অভিযুক্ত যুবক জীবন রুইদাস শক্তিগড়ের আমড়া গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজা ভৌমিক গত দু’বছর ধরে বাদামতলা এলাকায় চেম্বার চালাচ্ছিলেন। প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ তিনি চেম্বার খোলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই একটি ব্যাগ হাতে চেম্বারে প্রবেশ করে জীবন রুইদাস।
অভিযোগ, ব্যাগের মধ্যে আগে থেকেই লুকানো ছিল ধারালো কাটারি। চেম্বারে ঢুকেই কিছু বুঝে ওঠার আগে রাজা ভৌমিকের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় সে। কাটারি দিয়ে মাথায় এলোপাথাড়ি কোপ মারলে চেম্বারের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। আশ্চর্যের বিষয়, জনবহুল এলাকায় এত বড় ঘটনা ঘটলেও প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছুই টের পাননি।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত জীবন রুইদাস সোজা বর্ধমান থানায় গিয়ে হাজির হয় এবং নিজের দোষ স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি শুনে পুলিশ দ্রুত তাকে নিয়ে বাদামতলার ওই চেম্বারে পৌঁছায়। সেখান থেকে রাজা ভৌমিকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কেন এই নৃশংস খুন?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এর নেপথ্যে রয়েছে প্রতিশোধের স্পৃহা। প্রায় এক মাস আগে অভিযুক্ত জীবন রুইদাসের ঠাকুমা মারা যান। জীবনের দাবি, রাজা ভৌমিকের কাছে চিকিৎসা করানোর ফলেই তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পনা করে সে আজ কাটারি নিয়ে হামলা চালায় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
মৃতের ভাইপো আকাশ ভৌমিক বলেন, "কাকা রোজকার মতোই সকাল ১০টায় চেম্বারে যান। তাঁর দুটি সন্তান আছে। বাড়িতে বসে এই খবর পেয়ে আমরা ছুটে এসেছি। কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না।"
আরও পড়ুন- Murshidabad News: মহাকাশ এবার স্কুলের মাঠে! লালবাগে ইসরোর অভাবনীয় চমক
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক ব্যানার্জী জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত খুন করে নিজেই থানায় এসে ধরা দিয়েছে। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। খুনের আসল কারণ কী, কবে থেকে সে এই পরিকল্পনা করেছিল বা অভিযুক্তের কোনো মানসিক বিকার আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার বিশদ তদন্ত শুরু করেছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us