/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/10/rabi-2026-01-10-15-15-46.jpg)
Rabindranath Ghosh resignation: পুরসভার চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল কোচবিহার জেলা রাজনীতিতে। কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তাঁর এই আচমকা পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই উত্তরের এই হেরিটেজ শহরের রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোরদার গুঞ্জন।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ শুধুমাত্র একজন পুর-চেয়ারম্যান ছিলেন না, তিনি ছিলেন উত্তরবঙ্গ তথা কোচবিহার জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান স্থপতি। দীর্ঘ সময় ধরে জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলে দলকে শক্তিশালী করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে জয়ের পর দলের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর কোচবিহার পুরসভার প্রশাসনিক গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। তাঁর জমানায় শহরের রাস্তাঘাট উন্নয়ন থেকে শুরু করে হেরিটেজ শহর সংরক্ষণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন- West Bengal news live Updates: মমতাকে আইনি নোটিস শুভেন্দুর! ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামে তোলপাড় রাজনীতি
রবীন্দ্রনাথবাবু নিজেই পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একাধিক সমীকরণ কাজ করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তৃণমূলের বর্তমান নীতি অনুযায়ী, প্রশাসনিক কাজে নতুন মুখ ও তরুণ প্রজন্মকে সামনের সারিতে আনার যে প্রক্রিয়া চলছে, এটি তারই অংশ হতে পারে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে কি দলের বড় কোনও সাংগঠনিক দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হবে?
এই প্রশ্নটিও ঘোরাফেরা করছে।সম্প্রতি শহরের নিকাশি ব্যবস্থা ও নাগরিক পরিষেবার মান নিয়ে দলের অন্দরে একাধিক আলোচনা চলছিল। কাজের গতি আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যেই হয়তো এই নেতৃত্বের রদবদল।
আরও পড়ুন- Champahati explosion: বছরের শুরুতেই কেঁপে উঠল চম্পাহাটি! বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ
বাইরে থেকে একে সাধারণ ‘পদত্যাগ’ মনে হলেও, বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ দেড় বছরের টানাপড়েন, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে পদত্যাগের নির্দেশ এবং অবশেষে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নতুন রণকৌশল। শুক্রবার তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কোচবিহারের জেলা রাজনীতিতে এক অস্থির অধ্যায়ের অবসান ঘটাল।
তৃণমূল সূত্রে খবর, ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দুই বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের ‘ঠান্ডা লড়াই’ শুরু হয়। শহরের কর বৃদ্ধি নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রবির বিরুদ্ধে নালিশ জানান অভিজিৎ। এরপর ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বিরোধ এবং বোর্ড মিটিং করতে সমস্যার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
আরও পড়ুন- Uttarpara rape case : হিন্দমোটর কারখানায় নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের জালে তৃণমূলের যুব নেতা
গত নভেম্বরে সংঘাত চরমে পৌঁছায় যখন জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক খোদ রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ সাহাকে পরবর্তী চেয়ারম্যান করার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করে ফেলা হয়। এমনকি কাউন্সিলরদের ডেকে অনাস্থা আনার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সাদা কাগজে সই করিয়ে নেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটে।
সেই সময় রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দমে না গিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) নিজে না বললে আমি সরব না।” পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহার সফরে এসে জেলা নেতৃত্বকে কড়া নির্দেশ দেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো প্রবীণ নেতাকে দলে যোগ্য সম্মান দিতে হবে। নেত্রীর এই হস্তক্ষেপে তাঁর গদি সাময়িকভাবে বেঁচে গেলেও দলের অন্দরে আড়াআড়ি বিভাজন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন- ৬ ডিগ্রির ঘরে দক্ষিণবঙ্গ! ঠান্ডার লড়াইয়ে উত্তরবঙ্গকে টেক্কা, শনিবার কোথায় কত নামল তাপমাত্রা?
তবে আচমকা রবির এই পদত্যাগের পিছনে রয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে ফিরে এক বছর পর জেলা কমিটির বর্ধিত সভায় যোগ দেন তিনি। বর্তমানে তাঁকে নাটাবাড়ি, কোচবিহার উত্তর এবং তুফানগঞ্জ, এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। ১০ জানুয়ারি থেকে তিনি পূর্ণশক্তিতে বিধানসভা ভিত্তিক কাজে নামছেন।
দলীয় সূত্রের খবর, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বড় কোনও রদবদল না হলে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ফের তাঁর পুরনো কেন্দ্র নাটাবাড়ি থেকেই প্রার্থী হতে পারেন। একদিকে তিনটি বিধানসভার সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানো এবং অন্যদিকে নিজের কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া, এই জোড়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সম্ভবত তিনি পুরসভার প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি নিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সরে দাঁড়ানোর পর এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— কে বসছেন কোচবিহারের পুর-সিংহাসনে? তৃণমূলের অন্দরমহলে কান পাতলে সবথেকে বেশি শোনা যাচ্ছে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ সাহার নাম। এছাড়াও আরও দু-একজনের নাম নিয়ে চর্চা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন- Lingtam: মনের শান্তি খুঁজছেন? ছবির মতো সাজানো লিংটাম গ্রামে প্রকৃতির কোলে রিসেট করুন জীবন!
রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার ইস্তফা কোচবিহারের রাজনীতিতে একটি বড় শূন্যস্থান তৈরি করল। এখন দেখার, নতুন চেয়ারম্যানের হাত ধরে কোচবিহার শহর কোন পথে এগিয়ে যায় এবং আসন্ন ভোটে এই রদবদলের প্রভাব ঠিক কী হয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us