/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/01/raghunath-jeo-mandir-controversy-bjp-councillor-2025-12-01-21-16-40.jpg)
তৃণমূল করায় সেবাইতকে বঞ্চনা! দাপুটে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ
ইংরেজবাজারের শতাব্দী প্রাচীন রঘুনাথ জিউ মন্দিরের সেবাইতের পরিবারকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠলো স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে দিয়ে ওই মন্দিরের বজরংবলী মূর্তি উদ্বোধন ও নতুন করে মন্দিরের দ্বারোদঘাটনের উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা কাউন্সিলর অম্লান ভাদুড়ি, এমনটাই অভিযোগ করেছেন ওই মন্দিরে সেবাইতের পরিবার।
ইতিমধ্যে ওই সেবাইতের পরিবারের বর্তমান সদস্য সুজিত দাস সমস্ত ঘটনার বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ই-পোর্টালে অভিযোগ জানিয়েছেন। সুজিতবাবু জানান, যেহেতু তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর দলকে সমর্থন করেন। তাই তাঁদের পূর্বপুরুষের এই দেবত্ব সম্পত্তির কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সামনে বিধানসভার ভোট। তাই রাজনীতি করতে বিজেপি কাউন্সিলর এই মন্দিরে বজরংবলীর মূর্তি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হাত দিয়ে করানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। একটি ধর্মীয় স্থানে বিজেপি কাউন্সিলরের এভাবে রাজনীতি করাটা মোটেই ভালো চোখে দেখছে না ওই সেবাইতের পরিবার।
আরও পড়ুন- SSC-তে দাগি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে কড়া নির্দেশ, ফের আদালতে মুখ পুড়ল কমিশনের
ইতিমধ্যে শহরের শতাব্দী প্রাচীন রঘুনাথ জিউ মন্দিরের বিজেপি বিধায়কের মাধ্যমে উদ্বোধনকে ঘিরে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংরেজবাজার পুরসভার ফুলবাড়ী পাকুরতলা সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে প্রায় ২৬ শতক জমির ওপর শতাব্দী প্রাচীন রঘুনাথ জিও মন্দিরটি। এখানে রয়েছে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার মূর্তি। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তিও। এই মন্দিরের মেন গেটের সামনেই বসানো হয়েছে বিশাল একটি বজরংবলির পূর্ণ মূর্তি। দীর্ঘদিন আগে বজরংবলীর এই মূর্তিটি বসানো হলেও মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর হাত দিয়ে উদ্বোধন ও মন্দিরের নতুন করে দ্বারোদ্ঘাটন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
আরও পড়ুন- অর্থসংকটে ভুগছে শতাব্দী প্রাচীন পুরসভা, তড়িঘড়ি বিরাট সিদ্ধান্ত, কেন দেরিতে বাস্তবায়ন? উঠছে প্রশ্ন
মন্দিরের বর্তমান সেবাইত সুজিত দাস বলেন, "প্রায় ১০০ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই মন্দিরটি ২৬ শতক জায়গার ওপর তৈরি করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পরিবারই সেবায়েত হিসেবে যুক্ত রয়েছে। কিন্তু আচমকাই ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি দলের কাউন্সিলর নিজের ইচ্ছা মতো মন্দির কমিটি গঠন করে। তাঁদেরকে সেই কমিটি থেকে বার করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিবারটি বরাবরই তৃণমূল করে এসেছে। কোনও ধার্মিক প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির রং লাগুক কখনোই আমরা চাই না। যেহেতু সামনে বিধানসভা নির্বাচন তাই এই ভাবেই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে বিজেপি।"
আরও পড়ুন- 'ঈশ্বরের পা ছুঁয়ে 'বিরাট' প্রণাম', 'জীবন সার্থক' আরামবাগের যুবকের
সেবায়েতের পরিবারের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন বিজেপি কাউন্সিলর। বরং তিনি পাল্টা অভিযোগ এনেছেন ওই পরিবারের বিরুদ্ধে। অম্লান ভাদুরি বলেন, "এটা বহু পুরনো মন্দির। একসময় এই মন্দিরের নামে অনেক জায়গা ও জমি ছিল। ওই সেবায়তের সদস্যরা সেগুলো ধ্বংস করেছে। এখন তারা মন্দিরের দিকে ফিরে তাকায় না। এলাকার মানুষ একটি কমিটি করে এই মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষণ করছে। এলাকার মানুষ নিজেদের উদ্যোগে সেখানে একটি বজরংবলী মূর্তি স্থাপন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছিলেন বজরংবলীর মূর্তিটি উদ্বোধন করুক শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতোই তিনি এখানে আসছেন।" জেলা তৃণমূলের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, "যে জায়গা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে সেদিকে বিরোধী দলনেতার না যাওয়া উচিত।"
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us