বড় খবর

আত্মহত্যা থেকে ভিক্ষাবৃত্তিতে রেলের হকাররা, এবার ডিআরএম ঘেরাওয়ের ডাক

লকডাউন থেকে দীর্ঘ কয়েক মাস সাধারণের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু ট্রেনে বা প্লাটফর্মে কাজ শুরু করতে পারেননি হকাররা।

ব্যারাকপুরে রেলওয়ের হকার আত্মহত্যা করেছে। শিলিগুড়ি ও শিয়ালদা দক্ষিণ শাখায় হকারের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন দাবি করছে হকার্স সংগঠন। লকডাউনে আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন হকাররা। এবার শিয়ালদা ডিভিশনের হকাররা দাবি আদায় করতে ডিআরএম অফিস ঘেরাও করতে চলছে। তাছাড়া অনুমতি না পেলেও ১ডিসেম্বর থেকে একেবারে নিয়মিত ভাবে হকারদের কাজ শুরু করার কথা বলেছে ইস্টার্ণ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন(শিয়ালদা ডিভিশন)।

লকডাউন থেকে দীর্ঘ কয়েক মাস সাধারণের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু ট্রেনে বা প্লাটফর্মে কাজ শুরু করতে পারেননি হকাররা। আইএনটিটিইসি অনুমোদিত ইস্টার্ণ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন(শিয়ালদা ডিভিশন)-এর সাধারণ সম্পাদক বাপি ঘোষ বলেন, “দীর্ঘ দিন কাজ করতে না পারায় হকাররা ভিক্ষাবৃত্তি করছে। সোনা বন্ধক রেখে দিনাতিপাত করছে, বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ সংসার চালাতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তবু রেলওয়ে কতৃপক্ষ কর্ণপাত করছে না। লকডাউনে তছনছ হয়ে গিয়েছে রেলের হকারদের স্বাভাবিক জীবন। আর এভাবে বসে থাকা যাবে না। আমরা হকারদের অল্টারনেট দিনের সূচি তৈরি করে বসার কথা বলেছি।”

দুদিন আগেই শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে হকাররা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। রেলের আদি যুগ থেকেই হকার প্রথা চালু রয়েছে। তবে এই হকারদের কোনও আইনি স্বীকৃতি রেলওয়ে কতৃপক্ষ দেয়নি। কিন্তু রেলের অনুমোদিত ভেন্ডিং স্টল রয়েছে বিভিন্ন প্লাটফর্মে। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন থেকে হকারদের কাজ-কারবার পুরো বন্ধ হয়েছে। সামান্য পুঁজি নিয়ে দিন আনা দিন খাওয়া হকারদের দুর্গতির শেষ নেই। শিয়ালদা ডিভিশনের নর্থ, সাইথ ও প্লাটফর্মে বসা প্রায় ১২০০ হকার আজ আধপেটা খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। ইস্টার্ণ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন(শিয়ালদা ডিভিশন)-এর কার্যকরী সভাপতি মানা চক্রবর্তী বলেন, “ইতিমধ্যে আমরা হকারদের অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছি। এবার ডিআরএম ঘেরাও করব। হকারদের বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এভাবে বঞ্চনা করা যাবে না।” এদিকে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী বলেন, “রেলের অনুমোদিত ভেন্ডিং স্টল খোলার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে।”

পুনর্বাসন বা লাইসেন্সের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে রেলের হকাররা। লকডাউনে তাঁদের কাজটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাপি ঘোষের কথায়, “হকারদের পুঁজি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা । রোজ কেনা-বেচার ওপর সংসার চলে। এখন তা-ও বন্ধ। সবজি-আনাজ পর্যন্ত ট্রেনে আনতে পারছে না। তাতে কলকাতায় সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে।” ১ ডিসেম্বর থেকে অল্টারনেট সূচি মেনে হকাররা শিয়ালদা ডিভিশনে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে হকার্স ইউনিয়ন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Get the latest Bengali news and Westbengal news here. You can also read all the Westbengal news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Rail hawker gherao movement west bengal

Next Story
হাওড়া ব্রিজে মিনিবাসে বিধ্বংসী আগুন
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com