বড় খবর

মরেনি মানবিকতা, ঘর ফিরে পেলেন বৃদ্ধা

দিন পনেরো ধরে পর্যবেক্ষণ করে এক সহৃদয় শিক্ষক তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে আসেন। কিন্তু ওই বৃদ্ধার ভাষা তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি। এদিকে ওই বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থাও দিনকে দিন খারাপ হচ্ছিল।

gujraty lady
পরিবারের সদস্য়দের সঙ্গে ভানিতাদেবী। ছবি- উত্তম দত্ত
মানবিকতা বা মনুষ্যত্বের এখনও পুরোপুরি মৃোত্যু ঘটেনি। সম্প্রতি হুগলির চন্দননগরে ঘটনা জানলে তেমনটাই মনে হবে। ফুটপাত থেকে এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন এক শিক্ষক। এরপর হন্যে হয়ে চেষ্টা করেছেন কীভাবে তাঁকে তাঁর বাড়িতে ফিরিয়ে দেবেন। শেষ পর্যন্ত হ্যাম রেডিওর সৌজন্যে সুদূর গুজরাটে নিজের ভিটে-মাটিতে ফিরে যাচ্ছেন অশীতিপর ওই বৃদ্ধা।

বেশ কিছুদিন যাবৎ চন্দননগরের বারাসাত এলাকায় জিটি রোডের ধারে এক বৃদ্ধাকে শীতে যুবুথুবু হয়ে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছিল। পথচারীরা কেউ কেউ তাঁকে নাম-ধাম জিজ্ঞাসাও করেছেন। কিন্তু, কোনও জবাব দেননি তিনি। দিন পনেরো ধরে পর্যবেক্ষণের পর এক সহৃদয় শিক্ষক তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে আসেন। কিন্তু ওই বৃদ্ধার ভাষা তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি। এদিকে ওই বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থাও দিনকে দিন খারাপ হচ্ছিল। এলাকার বাসিন্দাদের সাহায্যে শিক্ষক অভীক মুখোপাধ্যায় ওই বৃদ্ধাকে চন্দননগর হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন।

তবে শুধু ভর্তি করিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি, খোঁজ করতে থাকেন ওই বৃদ্ধার পরিবারেরও। কিন্তু কী ভাবেই বা খোঁজ নেবেন? বৃদ্ধার কথাবার্তা শুনেই বোঝা গিয়েছিল যে তিনি মানসিক ভাবে অসুস্থ। পাশাপাশি তাঁর ভাষাও দুর্বোধ্য। এরপর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নেন। বিষয়টি প্রশাসনকেও জানানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জানতে পেরেই হ্যাম রেডিওর পক্ষ থেকে চন্দননগরের প্রতিনিধি সৌরভ গোস্বামী যোগাযোগ করেন অভীকবাবুর সাথে। তাঁর সঙ্গেই হাসপাতালে ওই বৃদ্ধাকে দেখতে যান। ভাষা শুনে সৌরভ বুঝতে পারে এটা কোনও প্রদেশের আঞ্চলিক ভাষা। কিন্তু তা বোধগম্য নয়। তবে হাল ছাড়েননি সৌরভ। তিনিও তাঁর হ্যাম রেডিওর যে গ্রুপ আছে তাতে ওই মহিলার ছবি সহ সমস্ত বিবরণ পাঠিয়ে দেন।

অবশেষে সুফল মেলে। জানা যায়, ওই মহিলার নাম ভানিতা বেন। বয়স আটাত্তর। বাড়ী গুজরাটের রাজকোট থানার মোভিয়া গ্রামে। তিনি চার মাস ধরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ। ওই মহিলার বাড়িতে খবর যায়। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে ওই বৃদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্বামী, দুই মেয়ে জামাই সহ মোট পাঁচজন চন্দন নগর হাসপাতালে আসেন। তাঁরা এসে ভানিতাদেবীকে নিয়ে কলকাতা ফিরে যান। সেখান থেকে এদিনই তাঁরা গুজরাটগামী ট্রেনে উঠবেন।

এদিন হ্যাম রেডিওর পক্ষ থেকে অভ্র মালাকার ও অভ্রজিত দাস আসেন চন্দননগরে। তাঁরাই ভানিতার পরিবারের লোকজনদের নিয়ে এসেছিলেন। হ্যাম রেডিওর সদস্যরা এদিন হাওড়া থেকে তাঁদের ট্রেনে তুলে দেন। অন্যদিকে চন্দননগরের মহকুমাশাসক মৌমিতা সাহাও এদিন সকালে হাসপাতালে যান। তিনি ওই বৃদ্ধাকে নতুন জামাকাপড় ও বাড়ি যাওয়ার জন্য কিছু অর্থ তুলে দেন।

Get the latest Bengali news and Westbengal news here. You can also read all the Westbengal news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Recover guraty women at channagar hoogly

The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com