/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/21/police-2025-11-21-09-01-27.jpg)
Red Fort blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য তদন্তকারীদের হাতে।
Faridabad doctors arrest: লাল কেল্লা বিস্ফোরণ-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া ফারিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের সঙ্গে জড়িত তিন বিদেশি হ্যান্ডলারের ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আটক চিকিৎসকদের একজন, মুজাম্মিল আহমদ গণাইকে এনক্রিপটেড অ্যাপের মাধ্যমে এক হ্যান্ডলার ৪২টি বোমা তৈরির ভিডিও পাঠিয়েছিলেন। গণাই অভিযুক্ত কাশ্মীরি চিকিৎসক উমর নাবির ঘনিষ্ঠ সহকর্মী, যিনি বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, হ্যান্ডলাররা ওই মডিউলকে বোমা বানাতে সাহায্য করার পাশাপাশি আত্মঘাতী হামলার দিকেও ঠেলে দিচ্ছিলেন। তাঁদের পরিচয় ও ভূমিকা এখন দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। একাধিক সাম্প্রতিক ‘ডি-আই-ওয়াই’ বা স্বনির্মিত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় একই ধরনের কৌশল দেখা যাওয়ায় সংস্থাগুলির সন্দেহ আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন- West Bengal Weather Update: বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ, বাংলায় শীতের পথে বড় বাধা
সূত্রের খবর, এই তিন হ্যান্ডলারের নাম "হানজুল্লাহ", "নিসার" ও "উকাসা", তবে এগুলি ছদ্মনাম বলেই সন্দেহ। হানজুল্লাহ পরিচয় ব্যবহারকারীই গণাইকে বোমা তৈরির ৪০টিরও বেশি ভিডিও পাঠিয়েছিলেন। গণাইয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২,৫০০ কেজি বিস্ফোরক, যার মধ্যে রয়েছে ৩৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট।
দক্ষিণ ভারত–যোগ: উঠে আসছে ‘কলোনেল’ ও অন্যান্য বিদেশি হ্যান্ডলারের নাম
তদন্তে উঠে এসেছে আরেক পরিচিত বিদেশি হ্যান্ডলার মোহাম্মদ শাহিদ ফয়সালের নাম, যিনি “কলোনেল”, “ল্যাপটপ ভাই”, “ভাই”, এইসব ছদ্মনামে পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সাল থেকে তিনি কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর একাধিক মডিউলকে বোমা হামলায় নির্দেশ দিতেন।
আরও পড়ুন-Kolkata Metro: মেট্রোযাত্রীদের জন্য বাম্পার খবর! নিত্যযাত্রীদের দারুণ সুবিধার দুরন্ত উদ্যোগ চর্চায়
ফয়সালের নাম জড়িয়ে আছে:
২০২২ কোয়েম্বাটুর গাড়ি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ,
২০২২ মঙ্গালুরু অটোরিকশা বিস্ফোরণ,
২০২৪ ব্যাঙ্গালুরু রামেশ্বরম ক্যাফে বিস্ফোরণ—এই তিন ঘটনায়।
২০১২ সালে লস্কর-ই-তৈবা যুক্ত এক ষড়যন্ত্রে নাম উঠে আসার পর বেঙ্গালুরু থেকে নিখোঁজ হন তিনি। পরে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সম্ভবত সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, “উকাসা” নামের হ্যান্ডলারটি তুরস্ক-ভিত্তিক বলেই মনে করছে এনআইএ।
আরও পড়ুন-Adhir Ranjan Chowdhury:“দিদিই প্রথম বুঝেছিলেন অনুপ্রবেশের বিপদ”, অধীরের মন্তব্যে তোলপাড়!
কোয়েম্বাটুর, মঙ্গালুরু–যোগের মিল খুঁজছে তদন্তকারীরা
রেড ফোর্ট বিস্ফোরণের ধরন সবচেয়ে বেশি মিলে গেছে ২০২২ সালের কোয়েম্বাটুর আত্মঘাতী গাড়ি বিস্ফোরণের সঙ্গে। সেখানে ২৮ বছর বয়সি যমেশা মুবিন একটি মারুতি ৮০০ গাড়িতে বিস্ফোরণে মারা গিয়েছিলেন। তাঁর বাড়ি থেকে মেলেছিল পটাসিয়াম নাইট্রেট, লাল ফসফরাস, PETN, ব্যাটারি, ইত্যাদি—যা ডি-আই-ওয়াই বোমা তৈরির উপাদান।
তদন্তে আরও জানা যায়, এসব যুবকদের দূরবর্তী হ্যান্ডলাররা অনলাইনে জিহাদের জন্য প্রভাবিত করতেন, এনক্রিপটেড অ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো ভিডিওতে দেখানো হতো বোমা বানানোর পদ্ধতি।
আরও পড়ুন-SIR-এর ভয়ে কাঁটা! সীমান্তে উদ্বেগ, কান্না আর অপেক্ষা, বাংলাদেশে ফিরতে হুড়োহুড়ি!
কর্নাটক, তামিলনাড়ু, দিল্লি, পদগাঁও ও পুনের বিভিন্ন মডিউল একই ধাঁচে IED বানাচ্ছে—এক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে একই বিদেশি হ্যান্ডলার নেটওয়ার্ক এদের নির্দেশ দিচ্ছে।
‘কলোনেল’-এর বাড়তি ভূমিকা:
রামেশ্বরম ক্যাফে বিস্ফোরণের তদন্তে গ্রেফতার তহা ও শাজিবের জেরা থেকে ফয়সাল ওরফে 'কলোনেল'-এর ভূমিকা স্পষ্ট হয়। তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন, এবং তরুণদের আত্মঘাতী হামলা, ‘লোন-উলফ’ আক্রমণ ইত্যাদির জন্য প্রশিক্ষিত করতেন।
এছাড়াও, মঙ্গালুরু অটোরিকশা বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত শারিক—যিনি দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণে আহত হন—তিনিও ‘কলোনেল’-এর পাঠানো ভিডিও দেখে IED তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।
শক্তিশালী ডিজিটাল চক্র:
দিল্লি বিস্ফোরণসহ সব ঘটনার মিল—
Signal, Session, Telegram-এর মতো অত্যাধুনিক এনক্রিপটেড অ্যাপ
দূরবর্তী বিদেশি হ্যান্ডলার
ডি-আই-ওয়াই বিস্ফোরক তৈরির ভিডিও
অনলাইন চরমপন্থা
দিল্লি বিস্ফোরণের পর এনআইএ দক্ষিণ ভারতের মডিউলগুলির মূল সন্দেহভাজনদের সঙ্গে কথা বলেছে, যাতে হ্যান্ডলারদের পরিচয় আরও স্পষ্ট হয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us