/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/26/republic-day-parade-rehearsal-2026-1-2026-01-26-10-22-38.jpg)
কীভাবে নির্বাচিত হন প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অথিতি?
Republic Day 2026: প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে 'প্রধান অতিথি' থাকার রীতি প্রজাতন্ত্রের জন্মলগ্নের মতোই প্রাচীন। ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০ যেদিন ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় এবং দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় সেই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস থেকেই এই ঐতিহ্যের সূচনা। শুরু থেকেই ভারত এই দিনটিকে কেবল একটি জাতীয় উৎসব হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে বন্ধুত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরতে চেয়েছে।
১৯৫০ সালে অনুষ্ঠিত স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সুকর্ণো। সে সময় ভারত ও ইন্দোনেশিয়া দুটি দেশই সদ্য ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। সুকর্ণোকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে এশীয় দেশগুলির সঙ্গে এবং ভবিষ্যতের জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার বার্তা দিতে চেয়েছিল ভারত।
প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজও ছিল বর্তমানের তুলনায় ভিন্ন। ১৯৫০ সালে এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল দিল্লির আরউইন স্টেডিয়ামে, যা বর্তমানে জাতীয় স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। পরে ১৯৫৫ সালে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ রাজপথে স্থানান্তরিত হয়, যা বর্তমানে কার্তব্য পথ নামে পরিচিত এবং আজও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানস্থল।
প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি। সাধারণত অনুষ্ঠানের অন্তত ছয় মাস আগে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভারতের কৌশলগত, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিদেশ মন্ত্রক সম্ভাব্য অতিথিদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশকে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ জানানো হয়।
দীর্ঘ ইতিহাসে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি নির্বাচন ঘিরে নানা আকর্ষণীয় দৃষ্টান্ত রয়েছে। ফ্রান্স সর্বাধিক মোট ছয়বার এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে রেকর্ড গড়েছে। ২০১৮ সালে ভারত এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে একসঙ্গে ১০টি আসিয়ান দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে। তবে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যখন নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ, যুদ্ধ পরিস্থিতি বা কোভিড-১৯ মহামারীর মতো বৈশ্বিক সংকটের কারণে কোনও প্রধান অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্বকে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us