/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/20/panic-2025-11-20-20-04-33.jpg)
Bangladesh return news: উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাকিমপুরে সীমান্ত পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন লোকজন। (এক্সপ্রেস ছবি: পার্থ পাল)
Special Intensive Revision panic: উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তচৌকি। বাংলাদেশে যাওয়ার রাস্তাজুড়ে বসে আছে ঝুড়ি, ব্যাগ, কম্বল আর বাক্স–প্যাঁটরা নিয়ে শত শত মানুষ। নারী-পুরুষ, শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই একই আতঙ্কে অপেক্ষা করছেন সীমান্ত পার হওয়ার জন্য।
একটি গাছের আড়ালে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসে আছেন আব্দুল মোমিন। পাঁচ বছর আগে সাতক্ষীরা থেকে দালালের মাধ্যমে ভারতে আসেন। মোমিন বলেন, “এসআইআর শুরুর পর থেকেই ভয় পাচ্ছিলাম। শুনেছি বিএসএফ এখন দেশে ফিরতে দিচ্ছে। তাই ব্যাগ গুছিয়ে চলে এসেছি।” হাওড়ার ডোমজুড়ে ছিলেন তিনি। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সকালেই পৌঁছেছেন সীমান্তে। কখন ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে তাঁর অনিশ্চয়তা স্পষ্ট।
আরও পড়ুন- Adhir Ranjan Chowdhury:“দিদিই প্রথম বুঝেছিলেন অনুপ্রবেশের বিপদ”, অধীরের মন্তব্যে তোলপাড়!
অন্যদিকে টারপোলিনের নিচে বসে উদ্বিগ্ন স্বপনা বিবি। সঙ্গে চার বছরের নাতি। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী-সন্তানদের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “শুনেছি এনআরসি করছে। তাই নিউ টাউনের বাড়ি ছেড়ে ফিরে যাচ্ছি।” স্বপ্না মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করতেন। তাঁর স্বামীর ভারতীয় ভোটার কার্ড থাকলেও তাঁর নেই—এটাই তাঁর আতঙ্কের মূল কারণ।
স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহে ৪০০-র বেশি মানুষ হাকিমপুর সীমান্তে এসে জড়ো হয়েছেন। কলকাতা, হাওড়া ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা এই মানুষদের বেশিরভাগেরই শিকড় বাংলাদেশে সাতক্ষীরায়।
আরও পড়ুন-TMC-র দুই গোষ্ঠীর তাণ্ডব! সাংসদ শতাব্দীর সামনেই কিল–চড়–লাথি, শোরগোল সিউড়িতে
একজন পরিচয় গোপন রাখা ব্যক্তি বলেন, “আমাদের কাছে ভোটার কার্ড আছে। কিন্তু ঝুঁকি নিতে পারব না। সবাই বলছে এসআইআরে ধরা পড়তে পারি।” অনেক মহিলা মুখ ঢেকে রেখেছেন। কারও কারও কাছে কিছু ভারতীয় নথিপত্র আছে বলেও স্বীকার করেছেন, তবে আতঙ্ক কাটছে না।
সীমান্তে কড়া নজরদারিতে যানবাহন তল্লাশি চালাচ্ছে বিএসএফ। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, গত কয়েক দিনে আগমন বেড়েছে কয়েকগুণ। নারী-শিশুদের কথা ভেবে তাঁরা অস্থায়ী ছাউনি, খাবার ও পানীয়ের বন্দোবস্ত করেছেন।
বিজিবির সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পর পর্যায়ক্রমে তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবহণ ব্যবসায়ী রাজকুমার ঘোষ।
বিএসএফ সূত্র জানায়, “এসআইআর শুরুর আগে প্রতিদিন দু’-এক ডজন মানুষ ফিরতে চাইত। এখন সংখ্যাটা বেড়ে ১৫০–২০০-তে পৌঁছেছে।”
তাদের ভাষায়, এটি একপ্রকার “রিভার্স এক্সোডাস”।
বিএসএফ জানিয়েছে, প্রত্যেকের বায়োমেট্রিক যাচাই করা হচ্ছে। অপরাধ বা জঙ্গি-যোগের সামান্য সন্দেহ দেখা দিলে তাঁদের রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে অধিকাংশই কোনও বৈধ ভারতীয় নথি ছাড়া বহু বছর ধরে এ দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us