/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/20/champ-2026-01-20-12-38-11.jpg)
National School Games 2026: জাতীয়স্তরের প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক জয় চন্দন সরকারের।
Wushu Championship: বাবার ঘামে ভেজা কলকাতার রাজপথ আর মায়ের সেলাই মেশিনের চাকা, এই দুইয়ের যুগলবন্দিতেই লেখা হলো এক রূপকথার গল্প। অভাবের সংসারে যেখানে দু'বেলা অন্ন জোগাড় করাই চ্যালেঞ্জ, সেখানে দাঁড়িয়ে জাতীয় স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদক ছিনিয়ে আনল পূর্ব বর্ধমানের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে। মণিপুরে অনুষ্ঠিত ৬৯তম জাতীয় স্কুল গেমস চ্যাম্পিয়নশিপে ‘উশু সান ডা’ (Wushu Sanda) বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করল জৌগ্রাম হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র চন্দন সরকার।
লড়াইয়ের নাম চন্দন
জামালপুরের জৌগ্রামের কলুপুকুর গ্রামের বাসিন্দা চন্দন। তাঁর বাবা চিরঞ্জিত সরকার পেটের দায়ে কলকাতায় রিক্সা চালান। মা বরুণা সরকার গৃহবধূ হলেও সংসারের হাল ধরতে বাড়িতে বসেই সেলাইয়ের কাজ করেন। দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী, তবুও ছেলেদের পড়াশোনা বা খেলাধুলায় কোনো খামতি রাখেননি তাঁরা। চন্দনের ভাই চয়নও একই স্কুলে পড়ে।
আরও পড়ুন- West Bengal Weather: বাসন্তী শাড়ি নাকি সোয়েটার? সরস্বতী পুজোয় কেমন থাকবে আবহাওয়া? জানুন এখনই
ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা বরুণা দেবী বলেন, “আমি ও আমার স্বামী হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ছেলেদের মানুষ করার চেষ্টা করছি। চন্দন আমাদের নিরাশ করেনি। ও শুধু আমাদের নয়, গোটা বাংলার গর্ব।”
মণিপুর জয়ের গল্প
স্কুল গেমস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SGFI) আয়োজিত ২০২৫-২৬ জাতীয় স্কুল গেমস চ্যাম্পিয়নশিপে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছিল চন্দন। গত ১৪ জানুয়ারি মণিপুরে শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। ১৮ জানুয়ারি মণিপুরের ‘খুমান লাম্পাক স্টেডিয়ামে’ অনুষ্ঠিত ‘উশু সান ডা’ ইভেন্টে দিল্লির প্রতিযোগীকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে সে। এর আগে রাজ্যস্তরেও স্বর্ণপদক পেয়েছিল চন্দন।
আরও পড়ুন-বাড়ছে উদ্বেগ!মাত্র এক সপ্তাহেই রাজ্যে নিপা আক্রান্ত ৫, সতর্কতা জারি
সোমবার সন্ধ্যায় বিমানে বাড়ি ফেরার পথে চন্দন জানায়, কালনার প্রশিক্ষক নারায়ণ দাসের কাছেই তাঁর হাতেখড়ি। অভাব থাকলেও খেলা ছাড়েনি সে। নিজের সাফল্যের জন্য বাবা-মা, কোচ এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সে।
গর্বিত জৌগ্রাম, সংবর্ধনার প্রস্তুতি
চন্দনের এই কৃতিত্বে খুশির হাওয়া জৌগ্রাম হাই স্কুলে। প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রাউথ বলেন, “জাতীয় স্তরে স্কুলের নাম উজ্জ্বল করেছে চন্দন। ও ফিরলেই স্কুলের পক্ষ থেকে তাকে বড় করে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।”
জৌগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান সাজাহান মণ্ডল বলেন, “চন্দন আমাদের এলাকার গর্ব। ওর এই লড়াই গ্রামের অন্য পড়ুয়াদেরও অনুপ্রাণিত করবে।” কলকাতার রাস্তায় বাবার রিক্সার প্যাডেল আর মায়ের সুঁই-সুতোয় বোনা স্বপ্ন আজ সত্যিই সার্থক। চন্দনের এই জয় প্রমাণ করে দিল, প্রতিভা থাকলে দারিদ্র্য কোনো বাধাই নয়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us