Kolkata High Court on Primary Teacher: 'আজকের রায় প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দিল', ফের প্রাথমিক দুর্নীতি মামলা সুপ্রিম কোর্টে, বড় ইঙ্গিত বিকাশের

Kolkata High Court on Primary Teacher: তিন বছর ধরে চলা অনিশ্চয়তার ইতি টেনে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের।

Kolkata High Court on Primary Teacher: তিন বছর ধরে চলা অনিশ্চয়তার ইতি টেনে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
৩২ হাজার শিক্ষক, প্রাথমিকে নিয়োগ রায়, কলকাতা হাইকোর্ট রায়, শিক্ষক নিয়োগ মামলা, টেট দুর্নীতি, টেট নিয়োগ কেলেঙ্কারি, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় রায়, primary teacher recruitment, 32000 teachers verdict, Calcutta High Court news, TET recruitment scam, WB teacher job verdict, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য প্রতিক্রিয়া, শুভেন্দু অধিকারী প্রতিক্রিয়া, ব্রাত্য বসু, West Bengal education news, teacher termination case, Supreme Court appeal

প্রাথমিকে নিয়োগ পাওয়া ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি অবশেষে বহাল রইল

Kolkata High Court on Primary Teacher:  প্রাথমিকে নিয়োগ পাওয়া ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি অবশেষে বহাল রইল। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া চাকরি-বাতিলের রায় বুধবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিনের রায়ে বিচারপতিরা জানান, “দীর্ঘ ৯ বছর দায়িত্ব পালনের পর তাদের চাকরি বাতিল করা হলে তা শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং তাঁদের পরিবারের ওপর গুরুতর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।”

Advertisment

'চাকরি খাওয়ার পক্ষে রাজ্য সরকার নয়, ৩২ হাজারের চাকরি বহাল রাখার রায় ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী

ফলে প্রায় তিন বছর ধরে চলা অনিশ্চয়তার ইতি টেনে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিল আদালত। এদিনের রায় প্রসঙ্গে আইনজীবী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "এর রায় বাঞ্ছনীয় নয়, এই রায় প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দিল। এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকারে যারা দুর্নীতি করেছেন তারা আরও উৎসাহিত হবেন। একটা বার্তা তাদের কাছে পৌঁছাবে দুর্নীতি করেও পার পাওয়া যায়। আজকের রায়ে মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করেছেন বিচাপতিরা, যারা যোগ্য হয়েও চাকরি পান নি সেদিকটা উপেক্ষিত রয়েই গেল"। তিনি আরও বলেন, "চাকরি প্রার্থীরা ঠিক করবে ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টে যাবে কিনা না। তবে এটা ঠিক একটা অস্থিরতা থেকে বাঁচল সরকার। রায় যারা মানবে না তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। দুর্নীতি মামলায় তদন্ত চললেও আজকের রায়ে তারা বল পাবে। আজকের এই রায়ে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে"।

Advertisment

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিল। এর ফলে বড়সড় স্বস্তিতে চাকরিরত ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ‘ক্যাশ ফর জবস’ নিয়োগ কেলেঙ্কারি-র অভিযোগের ভিত্তিতে সিঙ্গল বেঞ্চ ২০২৩ সালে টেট–পাস প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেয়। সেই আদেশের বিরুদ্ধেই ছিল এই মামলার শুনানি।

'সঞ্চার সাথী' অ্যাপ নিয়ে বিতর্ক চরমে! শেষমেষ কী বললেন যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া?

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত টেট পরীক্ষায় প্রায় ১.২৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং মোট ৪২,৯৪৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, এই নিয়োগের মধ্যে ৩২ হাজার শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এই রায় ঘোষণার পর রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ‘এক্স’–এ লেখেন, “ডিভিশন বেঞ্চের রায় প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে অভিনন্দন। সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বাতিল হয়েছে। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। শিক্ষকদেরও শুভেচ্ছা। সত্যের জয় হল।”

কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার জানিয়ে দিল, ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক তাদের চাকরিতে বহাল থাকবেন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া নিয়োগ বাতিলের রায় খারিজ করে এই সিদ্ধান্ত জানায় আদালত। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলেও এত বিপুল সংখ্যক কর্মীর চাকরি একসঙ্গে বাতিল করা হলে তাদের পরিবার ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিন বিচারপতিরা মন্তব্য করেন,“এই ৩২ হাজার শিক্ষক বহু বছর ধরে কাজ করছেন। তাদের পরিবার–পরিজনের কথা বিবেচনা করেই আদালত চাকরি বাতিল করছে না।”

Meesho IPO–তে SBI Mutual Fundকে বড়সড় বরাদ্দ, সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ একাধিক বড় বিনিয়োগকারী

ডিভিশন বেঞ্চ ও সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই

রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এই রায়ের বিরুদ্ধে যায় বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে। ডিভিশন বেঞ্চ নিয়োগ বাতিলের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন, তবে নতুন প্যানেল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দেন।

পরে রাজ্য সরকার ও পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টে জানায়, সব পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শীর্ষ আদালত বিষয়টি ফের হাই কোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দেয় এবং ডিভিশন বেঞ্চকে সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর মামলাটি বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আসে। আজ সেই বেঞ্চের রায়েই ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকল।

এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায়, বিজেপি বিধায়ক ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে কোনও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে হয়নি। পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষা থেকেও ওএমআর শিটের কপি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, কয়েকটি “বিচ্ছিন্ন ভুল, অপরাধ বা গাফিলতি” দেখিয়ে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর দাবি,“স্বচ্ছ পদ্ধতিতেই আমরা নিয়োগ করি। কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে, সরকার তা সংশোধনে উদ্যোগী। যোগ্য প্রার্থীরা যাতে দ্রুত চাকরি পান, তার প্রচেষ্টা চলছে।” তিনি আরও বলেন, এই কয়েকটি ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আজকের এই রায়ের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মানবিক দিক থেকে বিষয়টা দেখা হয়েছে, তাতে আমি খুশি। কথায় কথায় চাকরি খেয়ে নেওয়া... চাকরি দেওয়া দরকার। চাকরি খেয়ে নেওয়ার পক্ষে রাজ্য সরকার নয়। আমি আজকের রায়ে খুশি"।

CV Ananda Bose: অশান্তির আশঙ্কা থাকলে গ্রেফতার করা হোক হুমায়ুন কবীরকে, রাজ্যকে পরামর্শ রাজ্যপালের

High Court bikashranjan bhattacharya