/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/dooars-2026-01-27-16-31-51.jpg)
Offbeat Dooars: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত।
North Bengal tourism: ডুয়ার্স মানেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে জঙ্গল, হাতি, ময়ূর আর চা বাগান। কিন্তু ডুয়ার্সের জঙ্গল আর পাহাড়ের মেলবন্ধনে এমন কিছু লুকানো মুক্তো আছে, যা এখনও পর্যটকদের ভিড়ে হারিয়ে যায়নি। তেমনই এক শান্ত, স্নিগ্ধ পাহাড়ি গ্রাম হলো রংগো (Rongo)। কালিম্পং জেলার অন্তর্গত হলেও ডুয়ার্সের পথ ধরেই এখানে পৌঁছতে হয়। ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে কয়েকটা দিন মুক্তির স্বাদ নিতে চাইলে রংগো আপনার আদর্শ গন্তব্য হতে পারে।
মেঘ আর সিঙ্কোনার দেশ
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত রংগো। এই গ্রামের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর নিস্তব্ধতা আর অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ। গ্রামে ঢোকার পথেই আপনাকে স্বাগত জানাবে সারি সারি সিঙ্কোনা গাছ। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ওষধি গাছের বাগান রংগোর অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এখানকার বাতাসেও যেন এক অদ্ভুত ভেষজ সুবাস মিশে থাকে। পাহাড়ের ধাপে ধাপে সাজানো ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, বাড়ির সামনে ররংবেরঙের ফুলের বাগান আর তার পাশ দিয়ে বয়ে চলা মেঘের ভেলা, সব মিলিয়ে রংগো যেন ক্যানভাসে আঁকা এক জীবন্ত ছবি।
আরও পড়ুন- Lingtam: বড় বড় ট্যুরিস্ট স্পট ফেল! সিল্ক রুটের 'লুকনো রত্ন'! সিকিমের এক টুকরো স্বর্গ লিংটাম
কী দেখবেন, কী করবেন?
রংগোতে খুব বেশি দ্রষ্টব্য বা 'সাইট সিয়িং' পয়েন্ট নেই, আর এটাই এই গ্রামের ইউএসপি (USP)। এখানে দেখার চেয়ে 'অনুভব' করার রসদ বেশি।
রংগো বাজার ও গুম্ফা: গ্রামের কেন্দ্রস্থলে ছোট্ট বাজার। সেখান থেকে একটু উপরে উঠলেই রয়েছে একটি সুন্দর বৌদ্ধ গুম্ফা বা মনাস্ট্রি। এখানকার পরিবেশ এতটাই শান্ত যে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দও শোনা যায়। এখান থেকে দূরের ভুটান পাহাড়ের দৃশ্য অসাধারণ।
ভিউপয়েন্ট: গ্রামের শেষ প্রান্তে একটি ভিউপয়েন্ট রয়েছে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে জলঢাকা নদী এবং ওপারে ভুটানের পাহাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার দেখা যায়।
ভ্রমণ ও ট্রেকিং:
পায়ে হেঁটে পুরো গ্রাম ঘুরে দেখাটাই এখানকার সেরা অভিজ্ঞতা। পাখির কিচিরমিচির শুনতে শুনতে সিঙ্কোনা বাগানের মাঝ দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা ভোলার নয়। কাছেই রয়েছে টানডাং গ্রাম, চাইলে ছোটখাটো একটা ট্রেক করে সেখানেও যাওয়া যায়।
রংগোকে বেস ক্যাম্প করে অনায়াসেই ঘুরে আসা যায় ঝালং, বিন্দু, প্যারেন এবং তোদে-তাংতা। রংগো থেকে নামার পথেই পড়ে গৈরিবাাস, সেখান থেকেও প্রকৃতির রূপ মন ভোলাবে।
কখন যাবেন?
সারা বছরই রংগো যাওয়া যায়। তবে বর্ষায় পাহাড় সেজে ওঠে সবুজের সমারোহে, আবার শীতে আকাশ থাকে ঝকঝকে নীল, দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার এক ঝলক। অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়টা ভ্রমণের জন্য সেরা।
কীভাবে যাবেন?
শিলিগুড়ি বা এনজেপি (NJP) থেকে চালসা হয়ে খুনিয়া মোড়। সেখান থেকে গৈরিবাাস হয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ উঠে গেছে রংগোর দিকে। এনজেপি থেকে গাড়িতে সময় লাগে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা। বাস বা শেয়ার জিপে আসতে চাইলে চালসা বা মালবাজার থেকে রংগোর গাড়ি পাওয়া যায়, তবে রিজার্ভ গাড়ি নেওয়াই সুবিধাজনক।
থাকার ব্যবস্থা
রংগোতে কোনো বড় হোটেল নেই। এখানে থাকার জন্য রয়েছে কয়েকটি সুন্দর হোমস্টে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং ঘরোয়া গরম খাবার আপনার ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করে তুলবে। বারান্দায় বসে ধোঁয়া ওঠা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পাহাড় দেখার বিলাসিতা একমাত্র হোমস্টেই দিতে পারে।
যাঁরা নির্জনতা ভালোবাসেন, যারা চান জানলা খুললেই মেঘ ঘরে ঢুকে পড়ুক, তাঁদের জন্য রংগো এক স্বপ্নপুরী। দু'দিনের ছুটিতে হারিয়ে যাওয়ার জন্য এই ঠিকানায় পা বাড়াতেই পারেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us