বর্ধমানে তোলপাড়, বিজেপির আনা বাংলাদেশি অভিযোগে নাম বাদ দাপুটে টিএমসি নেত্রীর, ধুন্ধুমার

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রুপালী বিশ্বাসের স্বামী তারক বিশ্বাস তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রথমে অবৈধ উপায়ে স্ত্রীর নাম ভারতের ভোটার তালিকায় তোলা হয়। পরে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং তফসিলি জাতি (SC) শংসাপত্র সংগ্রহ করে সেই নথির ভিত্তিতেই রুপালী বিশ্বাস দু’বার পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। যদিও তখন এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন রুপালী বিশ্বাস।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রুপালী বিশ্বাসের স্বামী তারক বিশ্বাস তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রথমে অবৈধ উপায়ে স্ত্রীর নাম ভারতের ভোটার তালিকায় তোলা হয়। পরে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং তফসিলি জাতি (SC) শংসাপত্র সংগ্রহ করে সেই নথির ভিত্তিতেই রুপালী বিশ্বাস দু’বার পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। যদিও তখন এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন রুপালী বিশ্বাস।

author-image
Pradip Kumar Chattopadhyay
New Update
Rupali Biswas voter list deleted, Jamalpur 1 panchayat voter issue, East Burdwan final voter list, SIR voter list West Bengal, Bangladeshi infiltrator allegation, Panchayat member name deleted, BJP allegation Trinamool leader, Election Commission of India final voter list, Bharatiya Janata Party claim, All India Trinamool Congress reaction

বর্ধমানে তোলপাড়, বিজেপির আনা বাংলাদেশি অভিযোগে নাম বাদ দাপুটে টিএমসি নেত্রীর

বিজেপির আনা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ অভিযোগের জেরেই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম ‘ডিলিট’ হল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর–১ পঞ্চায়েতের দু’বারের তৃণমূল সদস্য রুপালী বিশ্বাসের। শনিবার প্রকাশিত এসআইআর (SIR) পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রুপালীর নাম বাদ পড়তেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলার হাট কালনা ও মেড়াতাল পঞ্চায়েতের প্রধানদের নামের পাশাপাশি রুপালী বিশ্বাসের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় বিজেপি শিবিরে খুশির হাওয়া বইছে। বিজেপির তরফে এবার তাঁর পঞ্চায়েত সদস্যপদ খারিজের দাবিতে সরব হওয়া হয়েছে।

Advertisment

আরও পড়ুন- ভোটের আগেই নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি! কোন জেলায় কত বাহিনী?

রুপালী বিশ্বাসের বাড়ি জামালপুর–১ পঞ্চায়েতের অন্তর্গত উত্তর মোহনপুর গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামের ১৪২ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নথিভুক্ত ছিল। এই বুথ থেকেই পরপর দু’বার তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি সদস্য নির্বাচিত হন। তবে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন ১৪২ নম্বর বুথের বিজেপি বিএলএ–২ সুশান্ত মণ্ডল এবং জামালপুর–১ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল। তাঁদের অভিযোগ, রুপালী বিশ্বাস ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ এবং প্রশাসন ও কমিশনে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রুপালী বিশ্বাসের স্বামী তারক বিশ্বাস তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রথমে অবৈধ উপায়ে স্ত্রীর নাম ভারতের ভোটার তালিকায় তোলা হয়। পরে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং তফসিলি জাতি (SC) শংসাপত্র সংগ্রহ করে সেই নথির ভিত্তিতেই রুপালী বিশ্বাস দু’বার পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। যদিও তখন এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন রুপালী বিশ্বাস।

Advertisment

আরও পড়ুন-দোলের দিন দুবেলাই কী বন্ধ থাকবে মদের দোকান? পরের দিন হোলিতেও 'ড্রাই ডে'?

তবে শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রুপালী বিশ্বাসের নামের পাশে স্পষ্টভাবে ‘ডিলিট’ লেখা রয়েছে। একই সঙ্গে জামালপুর–১ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান সাহাবুদ্দিন মণ্ডলকেও চূড়ান্ত তালিকায় ‘বিচারাধীন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সুশান্ত মণ্ডল সোমবার বলেন, “আমরা কমিশনে যে অভিযোগ জানিয়েছিলাম, তা যে সত্যি ছিল, এই তালিকাতেই তার প্রমাণ মিলেছে। এবার রুপালী বিশ্বাসের পঞ্চায়েত সদস্যপদ খারিজের দাবি প্রশাসনের কাছে জানানো হবে।”

অন্যদিকে, ভোটার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রুপালী বিশ্বাস এ দিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি। গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। তবে উপ-প্রধান তথা জেলা তৃণমূলের যুব নেতা সাহাবুদ্দিন মণ্ডলের কড়া প্রতিক্রিয়া, “কমিশনের নিরপেক্ষতা এখন প্রশ্নের মুখে। বিজেপির স্বার্থ পূরণ করাই যেন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বেছে বেছে সংখ্যালঘু ভোটারদের ‘বিচারাধীন’ দেখানো এবং তৃণমূলে জনপ্রতিনিধিদের নাম ‘ডিলিট’ করে দেওয়াতেই তার প্রমাণ মিলছে।”

আরও পড়ুন-SIR: ভোটার তালিকা না কি মরণফাঁদ? পরিবারের ৯ জনের নাম ‘বিচারাধীন’ শুনেই হৃদরোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ

SIR