ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিরাট ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড ইউনূস? বিরাট মন্তব্যে 'বোমা' ফাটালেন হাসিনা পুত্র জয়

Hasina’s son Sajeeb Wazed Joy: আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা এবং আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়

Hasina’s son Sajeeb Wazed Joy: আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা এবং আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Sajeeb Wazed Joy, Sheikh Hasina, Bangladesh elections 2025, Awami League ban, Muhammad Yunus interim government, Bangladesh political crisis, India Bangladesh relations, Bangladesh security threat, Islamic regime allegation, Jamaat-e-Islami, Pakistan Bangladesh ties, India security concern

বিরাট মন্তব্যে 'বোমা' ফাটালেন হাসিনা পুত্র জয়

Hasina’s son Sajeeb Wazed Joy:বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা এবং আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে একটি 'ইসলামিক  শাসনব্যবস্থা' কায়েম করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভারতের জন্য বড় 'হুমকি' তৈরি করেছে। 

Advertisment

আরও পড়ুন-রাজ্যপালের পর শুভেন্দু, যুবভারতীতে ঢুকতে বাধা, ৩০০ কোটি দুর্নীতির বিরাট অভিযোগে তোলপাড়

৫৪ বছর বয়সি সজীব ওয়াজেদ জয়, যিনি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন, ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে ইমেল সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। ঠিক সেই দিনই ভারত সরকার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনের নিরাপত্তা এবং চরম পন্থী কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই প্রভাবশালী পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, তিনি খালেদা জিয়ার পরিবারের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চান নি  না। তবে শেখ হাসিনা কখনও 'রাজনৈতিক রাজবংশ' গড়ে তুলতে  রাজনীতিতে আসেননি বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, দাদু শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবারের প্রায় সকল সদস্যের হত্যার পর ন্যায়বিচার পাওয়ার লক্ষ্যেই তাঁর মা রাজনীতিতে যুক্ত হন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর দল কীভাবে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখবে  এই প্রশ্নে জয়ের বক্তব্য, আওয়ামি লিগ বরাবরই প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে এসেছে এবং লক্ষ লক্ষ কর্মী রয়েছে। তাঁর দাবি, একটি নির্দেশ জারি করে দেশের অর্ধেক মানুষের সমর্থন মুছে ফেলা যায় না। আওয়ামি লিগ কোথাও যাচ্ছে না এবং ফের ঘুরে দাঁড়াবে বলেই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

আরও পড়ুন-দলীয় সাংসদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ, কড়া বার্তা অভিষেকের 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে জয় বলেন, তাঁর মতে সেনাবাহিনীর কোনও সক্রিয় ভূমিকা নেই, তারা নীরব দর্শকের মতো রয়েছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। জানান, নিয়মিত ফোনে কথা হয় এবং তিনি একবার দিল্লিতে মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন, ভবিষ্যতে আবার যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁর মূল দায়িত্ব হল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া তড়িঘড়ি ও ভুয়ো রায় এবং ইউনুস সরকারের অধীনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত বিষয়কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা।

নেতৃত্ব প্রসঙ্গে জয় বলেন, নতুন নেতৃত্ব বাছাই করা দলীয় কর্মীদের সিদ্ধান্ত। আওয়ামি লিগ একটি গণতান্ত্রিক দল এবং কর্মীরাই নেতৃত্ব নির্বাচন করেন। দলের নেতা-কর্মীরা এখনও শেখ হাসিনার প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত বলেও তিনি দাবি করেন।

ভারতের ভূমিকা নিয়ে জয়ের বক্তব্য, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরাতে আন্তর্জাতিক মহলকে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে ভারতের আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামি লিগের মতো বড় দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন মানে দেশের অর্ধেক ভোটারকে বঞ্চিত করা, যা একটি সাজানো নির্বাচন ছাড়া কিছুই নয়।

আরও পড়ুন-তৃণমূলের দাপুটে সাংসদের বিরুদ্ধে এবার ভয়ঙ্কর অভিযোগ, ভিডিও ফাঁস হতেই হুলস্থূল, অভিষেক যা বললেন.... 

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাওয়া নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, আইনি প্রত্যর্পণের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মানা জরুরি। বাংলাদেশের তরফে সেই প্রক্রিয়া মানা হয়নি বলেই তাঁর দাবি, ফলে ভারতের কিছু করার নেই।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জয়। তাঁর দাবি, আওয়ামি লিগ সরকার থাকাকালীন ভারতের পূর্ব সীমান্ত সুরক্ষিত ছিল। আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ চলত, যা আবার শুরু হতে পারে।

বাংলাদেশ ইসলামিক রাষ্ট্রের দিকে এগোচ্ছে এই মন্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয় বলেন, ইউনুস সরকার জামায়াত-ই-ইসলামি ও অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলিকে ছাড় দিয়েছে। অতীতে এসব দল কখনও পাঁচ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। কিন্তু উদার ও প্রগতিশীল দলগুলিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করিয়ে ইসলামপন্থীদের ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা চলছে বলেই তাঁর অভিযোগ।

ভারত ও গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে জয় বলেন, বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে উঠছে, আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত সদস্যদের তৎপরতা বেড়েছে এবং পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবার নেতারা প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখছেন। ফলে ভারতের জন্য হুমকি বাস্তব ও আসন্ন বলে তিনি দাবি করেন।

শেষে তিনি স্বীকার করেন, আওয়ামি লিগ সরকারের সময় বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ভুল হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও নেতৃত্ব সেই প্রতিক্রিয়াকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি বলেই তাঁর মত। তবে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ইতিমধ্যেই সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সময়ের সঙ্গে সেটি আরও স্পষ্ট হবে বলেও দাবি করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

আরও পড়ুন- ভোররাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড! বিকট শব্দে পরপর বিস্ফোরণ, তুমুল চাঞ্চল্য খাস কলকাতায়

Bangladesh India modi Muhammad Yunus