/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/03/madrasa-2026-01-03-10-34-27.jpg)
Madrasa aid demand: সল্টলেকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের অবস্থান বিক্ষোভ। এক্সপ্রেস ফটো: শশী ঘোষ।
Kolkata News: সল্টলেক সিটি সেন্টার ১-এর সামনে রাজ্য সরকার অনুমোদিত আন এডেড মাদ্রাসা ঐক্য মঞ্চের অবস্থান বিক্ষোভ শনিবারর ১৮ দিনে পৌঁছেছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৩৫টি আন এডেড মাদ্রাসাকে এডেড করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সাল পড়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি আজও কার্যকর হয়নি। এই দাবির পক্ষে মঞ্চের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রশাসন তাদের দাবি উপেক্ষা করছে। অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন কালীঘাট অভিযানে গেলে প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি হস্তক্ষেপে এক মহিলা কর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এতে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে গেছে। তারা দাবি করেছেন, মাদ্রাসাগুলিকে এডেড করার জন্য প্রশাসন অবিলম্বে পদক্ষেপ নিক।
মঞ্চের নেতা ও সদস্যরা জানিয়েছেন, এই আন্দোলন কেবল অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নয়, বরং শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্যও। তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি তাদের দাবি না মানা হয়, তবে পরবর্তী সময়ে তারা নবান্ন অভিযান শুরু করবেন।
সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভের পরও প্রশাসনের দমন নীতি এবং দাবি অবহেলার কারণে উত্তেজনা বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি রাজ্য সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ শিক্ষাক্ষেত্রে নাগরিক অধিকার ও সরকারি প্রতিশ্রুতি কার্যকর না হওয়া নিয়ে জনসমক্ষে চাপ বেড়েছে।
আরও পড়ুন- SIR: দেশছাড়া হতে হবে স্ত্রীকে? SIR নোটিসের আতঙ্কেই নিভল জীবন-প্রদীপ!
অবস্থান বিক্ষোভ চলমান থাকায় সল্টলেক এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আধা-সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করেছে। তবে মঞ্চের সদস্যরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করেছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত তারা অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। এই পরিস্থিতি পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে কেমন আকার নেবে, তা রাজ্য রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হয়ে উঠতে পারে।
কোচবিহার থেকে এসেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক জামিদুল হক। তিনিও সল্টলেকে আন্দোলনের মঞ্চে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "এখন যে সরকার চলছে, তার শিক্ষক তৈরি করতে চায় না। ওঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আমলে গণতন্ত্র নয়, রাজতন্ত্র চলছে। সংখ্যালঘুদের পাশে থাকার কথা বলেন তিনি, কিন্তু আদতে তাঁদের পাশে থাকেন না। শুধু ভাষণ দিলে হবে না, কাগজ-কলমে দেখাতে হবে, সংখ্যালঘুরা কী পেলেন! আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পুলিশ ওনার হাতে পুতুল হয়ে আছে।"
কোচবিহার থেকেই কলকাতায় এসে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন আর এক আন্দোলনকারী শিক্ষক ইউনুস আবদুল্লা। তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী ১০ হাজার মাদ্রাসার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু শুধুমাত্র ২৩৫টি মাদ্রাসা সরকারের অনুমোদন পায়। দীর্ঘদিন আন্দোলন করার পরেও অনেক অফিসে দাবি জানিয়েও আমাদের সুরাহা মেলেনি। ২০২১ সালে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে ৪৬ দিনের আন্দোলন করে সাম্মনানিক পাই। সেটা খুবই নূন্যতম। এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে এত কম টাকা নিয়ে কীভাবে একটা শিক্ষকের চলতে পারে। সাধারণ মানুষকে উনি (মুখ্যমন্ত্রী) শিক্ষিত হতে দিতে চান না। উনি যদি পথে নেমে ওর প্রচার করতে পারেন, তাহলে আমরাও দাবি আদায়ে পথে নামব। নবান্ন অভিযান করব।"
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us