Bengal SIR: উত্তাল সন্দেশখালি, বিডিও অফিসে তুলকালাম, যথেচ্ছ ভাংচুর, তৃণমূলকে নিশানা বিজেপির

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার শুনানিকে কেন্দ্র করে ফের অশান্তি ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার শুনানিকে কেন্দ্র করে ফের অশান্তি ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Sandeshkhali violence, SIR hearing West Bengal, BDO office vandalism, voter list verification Bengal, logical discrepancy SIR, Election Commission software issue, Madhyamik admit card proof, TMC BJP clash, North 24 Parganas news, West Bengal electoral roll revision

Bengal SIR: উত্তাল সন্দেশখালি

সন্দেশখালিতে SIR শুনানিতে তুমুল অশান্তি। বিডিও অফিসে ভাঙচুর, দুর্ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ গ্রামবাসীদের। 

Advertisment

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার শুনানিকে কেন্দ্র করে ফের অশান্তি ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে। মঙ্গলবার সন্দেশখালি–১ ব্লক উন্নয়ন অফিসে শতাধিক মানুষ ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। আসবাবপত্র, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করা হয়। শুনানি চলাকালীন এই হামলায় কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন- SIR নিয়ে তোলপাড় বাংলা, তড়িঘড়ি বিরাট সিদ্ধান্ত নিল কমিশন 

এর আগেও ফারাক্কা ও চাকুলিয়া ব্লক উন্নয়ন অফিসে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। মঙ্গলবারের ঘটনার জেরে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, হামলার শুরুতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে। পরে ন্যাজাট থানার অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভিড় ছত্রভঙ্গ করে।

ভাঙচুরের জেরে কিছু সময়ের জন্য শুনানি বন্ধ থাকলেও বিকেলের দিকে ফের তা শুরু হয়। সন্দেশখালি–১ বিডিও সায়ন্তন সেন ন্যাজাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানিতে ডাকা ভোটারদের সঙ্গে কিছু কর্মীর দুর্ব্যবহারের অভিযোগ থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে বয়সের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করছে না এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন- মোদীর পাল্টা এবার সিঙ্গুরে মমতাও! ভোটের আগে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াইয়ে তৈরি তৃণমূল 

এক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর অভিযোগ, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর আমরা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু অনলাইনে জমা দেওয়ার পর ইসি-র সিস্টেম তা গ্রহণ করেনি। আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, শুনানিতে উপস্থিত আধিকারিকরা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।

প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই একাংশ গ্রামবাসী হিংসাত্মক হয়ে অফিসে ভাঙচুর চালায়। গ্রামবাসীদের দাবি, “তুচ্ছ কারণের জন্য বারবার শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, অথচ আমাদের শেষ ভরসার নথিও সফ্টওয়্যার বাতিল করে দিচ্ছে। এভাবে হয়রানি চলতে পারে না।”

আরও পড়ুন- দেশে ফিরলেই লাশ হতে হবে! ভারতের হাজতবাসকেই ‘স্বর্গ’ মানছেন ৪ বাংলাদেশি 

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় SIR প্রক্রিয়া ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।  বারবার তলব, বানান বা ডেটা এন্ট্রির ভুল থেকে তৈরি হওয়া অসঙ্গতি নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে বয়সের বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

যদিও সন্দেশখালি–১ বিডিও সায়ন্তন সেন কর্মীদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “শুনানি চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী আচমকা অফিসে ঢুকে পড়ে। অনেক মানুষ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু কয়েকজন দুষ্কৃতী ভিড়ের মধ্যে মিশে জোর করে ঢুকে কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও নথি ভাঙচুর করে। আমরা পুলিশের সাহায্য চাই এবং অল্প সময়ের বিরতির পর শুনানি ফের শুরু করি।”

এই ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভুল তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে উসকানি দেওয়া এবং SIR প্রক্রিয়া স্থগিত করার মরিয়া চেষ্টার ফলেই এই হামলা।”

নদিয়ার ধুবুলিয়ায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, “ভোটার তালিকায় বানানজনিত ভুলের দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পর্যাপ্ত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করা হলে এই সমস্যা হতো না।”

আরও পড়ুন- বাংলাদেশে মেধাবী হিন্দু কলেজ পড়ুয়ার রহস্য মৃত্যু, অবশেষে বিরাট পদক্ষেপ নিয়েই নিল ভারত

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, SIR যাচাই প্রক্রিয়ায় হয়রানির কারণেই এই ঘটনাগুলি “জনরোষের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ”।

এদিনের হিংসার বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল দিল্লির  নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছেন। এর আগে চাকুলিয়া বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা প্রশাসনকে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Sandeshkhali SIR