/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/22/pics-2026-01-22-16-09-49.jpg)
Saraswati Puja 2026: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি।
Saraswati Puja 2026: নব্বইয়ের ঘরোয়া সরস্বতী পুজো থেকে আজকের ঝকঝকে আধুনিক শ্রীপঞ্চমী, সময় বদলেছে, বদলেছে আচার-আবেগ। নস্টালজিয়া ও বর্তমানের তুলনায় বদলে যাওয়া বাঙালির সরস্বতী পুজোর গল্প।
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের তালিকায় সরস্বতী পুজো বা ‘শ্রীপঞ্চমী’ এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। তবে সময়ের নিয়মে '৯০-এর দশকের সেই চেনা সরস্বতী পুজো আর আজকের সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক তৈরি হয়েছে। বদল এসেছে উৎসবে, আচারে এবং সর্বোপরি আবেগে।
'৯০-এর দশকের সেই ঘরোয়া আমেজ
নব্বইয়ের দশকে সরস্বতী পুজো মানেই ছিল একরাশ ব্যস্ততা আর নির্মল আনন্দ। তখন উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হতো কয়েক দিন আগে থেকেই। পাড়ার দাদাদের নিয়ে প্যান্ডেল বাঁধা, কুল না খাওয়ার সেই কঠিন শপথ (পুজোর আগে কুল খেলে সরস্বতী ঠাকুর রাগ করবেন!), আর ঠাকুরের সামনে বই গুছিয়ে রাখার মধ্যে এক পবিত্রতা ছিল। সেই সময়ে পুজোর সকালে হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সেজে রাস্তায় বেরোনোর একটা আলাদা মাহাত্ম্য ছিল।
হাতে তৈরি কাগজের মালা আর থার্মোকলের সাজে মণ্ডপ সাজানো হতো। পুজোর প্রসাদ বলতে ছিল কুল, খই, বাতাসা আর সেই অবিস্মরণীয় খিচুড়ি-লাবড়া। মাইকে তখন বাজত মান্না দে বা লতা মঙ্গেশকরের কালজয়ী গান। সেই সময় সরস্বতী পুজোকে বলা হতো ‘বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে’, কিন্তু সেই প্রেমের মধ্যে একটা লাজুক আবরণ ছিল। পার্কে বা গঙ্গার ঘাটে যুগলদের ভিড় থাকলেও তাতে ছিল এক অদ্ভুত শালীনতা।
বর্তমানের আধুনিক ছোঁয়া
আজকের সরস্বতী পুজো অনেক বেশি ঝকঝকে এবং যান্ত্রিক। এখন পাড়ায় পাড়ায় প্যান্ডেল বেঁধে পুজোর চেয়ে ফ্ল্যাট কালচার বা বড় বড় থিম পুজোই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে পুজোর আমন্ত্রণ আর শুভেচ্ছার ধরণ। নব্বইয়ের দশকে যারা কার্ড পাঠিয়ে বা সশরীরে গিয়ে নিমন্ত্রণ করত, আজ তারা হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাস বা ফেসবুক পোস্টেই দায়িত্ব সারে।
আজকের সরস্বতী পুজোয় বড় পরিবর্তন এসেছে সাজগোজ এবং বিনোদনে। হলুদ শাড়ির জায়গা নিয়েছে ডিজাইনার পোশাক। মণ্ডপে এখন আর শুধু ধ্রুপদী গান বাজে না, বরং জায়গা করে নিয়েছে চটুল ডিজে মিউজিক। প্রসাদের মেনুতেও এসেছে বদল, খিচুড়ির বদলে অনেক জায়গায় এখন ক্যাটারিংয়ের রমরমা। সেলফি আর ইন্সটগ্রাম রিলস বানানোর হিড়িক এখন পুজোর প্রধান অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠাকুর দেখার চেয়ে 'চেক-ইন' দেওয়াটাই যেন বড় কথা।
হারিয়ে যাওয়া এবং রয়ে যাওয়া
আগেকার দিনে সরস্বতী পুজোর দিনটি ছিল পড়ার থেকে সম্পূর্ণ ছুটি। কলম রাখা থাকতো ঠাকুরের পায়ে। আজ প্রতিযোগিতার যুগে অনেক সময়ই সেই নিয়ম মানা সম্ভব হয় না। টিউটোরিয়াল বা কোচিং সেন্টারের ভিড়ে পুজোর ভক্তি যেন কিছুটা ফিকে হয়ে আসছে। আগেকার সেই মাটির দোয়াত-খাগের কলমের ব্যবহার আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।
তবে এত কিছুর বদলে গেলেও একটা জিনিস বদলায়নি। তা হলো বাঙালির আবেগ। আজও হলুদ রঙের বসন পরে স্কুল-কলেজের গেটে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার আনন্দ অমলিন। আজও অঞ্জলি দেওয়ার সময় সেই মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে বিদ্যার দেবীর কাছে আশীর্বাদ ভিক্ষা করে নতুন প্রজন্ম।
নব্বইয়ের সরস্বতী পুজো ছিল মাটির গন্ধ মাখা, আর বর্তমানের পুজো হলো আধুনিকতার ঔজ্জ্বল্যে মোড়া। হয়তো সময়ের সাথে সাথে জাঁকজমক বেড়েছে, কিন্তু কোথাও যেন সেই সহজ-সরল আন্তরিকতা কিছুটা হারিয়ে গিয়েছে। তবুও সরস্বতী পুজো বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল বসন্তের সতেজতা নিয়ে ফিরে আসবে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us