/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/03/shankh-air-2026-01-03-11-32-37.jpg)
শ্রবণ কুমার বিশ্বকর্মা
success story:"টেম্পো চালক”থেকে সরাসরি বিমান সংস্থার মালিক। না এ কোন গল্প নয়, পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এ যেন জলজ্যান্ত এক উদাহরণ।
কানপুরের এক সময়ের টেম্পো চালক আজ ভারতের নতুন বিমান সংস্থার মালিক। এই সাফল্যের জেরেই রীতিমত সংবাদ শিরোনামে শ্রাবণ কুমার বিশ্বকর্মা। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা শ্রাবণ কুমার প্রতিষ্ঠা করেছেন ভারতের নতুন এয়ারলাইন সংস্থা ‘শঙ্খ এয়ার’। আধুনিক ভারতের অন্যতম ব্যতিক্রমী উদ্যোগপতি সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে এই সংস্থার উত্থান।
মাত্র সাত বছর আগেও ৩৫ বছর বয়সি শ্রাবণ বিশ্বকর্মা কানপুরের রাস্তায় লোডার ও টেম্পো চালকের কাজ করতেন। কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে ধীরে ধীরে তিনি ইস্পাত, সিমেন্ট ও পরিবহণ ব্যবসায় নিজের জায়গা করে নেন। সেই ব্যবসা থেকেই সঞ্চিত মূলধন কাজে লাগিয়ে ছোটবেলার স্বপ্ন উত্তরপ্রদেশের প্রথম স্থানীয় বিমান সংস্থা চালু করার পথে এগিয়ে যান তিনি।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) পাওয়ার পর ২০২৬ সালের শুরুতেই শঙ্খ এয়ার তাদের বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করতে পারে। চেয়ারম্যান শ্রাবণ কুমার বিশ্বকর্মা জানিয়েছেন, জানুয়ারির প্রথমার্ধেই সংস্থার উড়ান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি এয়ারবাস উড়োজাহাজ নিয়ে লখনউ থেকে দিল্লি, মুম্বই ও অন্যান্য মেট্রো শহরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ মাধ্যম জাগরণ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানপুরের মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম শ্রাবণ বিশ্বকর্মার। ছোটবেলায় পড়াশোনায় খুব একটা মন বসেনি তাঁর। নিজের কথাতেই তিনি স্বীকার করেছেন, নিজে একসময় টেম্পো চালিয়েছেনও। তাঁর কথায়, "সমাজের একেবারে নিচু স্তর থেকে উঠে এলে মানুষ সব কিছুই দেখে, সব কিছুই চড়তে হয় সাইকেল, বাস, ট্রেন, টেম্পো সবই।”
তিনি জানান, পরিচিতদের সঙ্গে অটো চালানো থেকে শুরু করে একাধিক ছোট ব্যবসায় হাত দিয়েছিলেন তিনি, যার অনেকগুলিই ব্যর্থ হয়। তবে ২০১৪ সালে সিমেন্ট ব্যবসা তাঁর কপাল খুলে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে সিমেন্ট, পরিবহণ ব্যবসায় নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন তিনি। বিপুল সংখ্যক ট্রাকের বহর তৈরি করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ভবিষ্যতের বড় উদ্যোগ শঙ্খ এয়ার-এর ভিত্তি তৈরি করেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শ্রাবণ জানান, প্রায় চার বছর আগে তাঁর মাথায় বিমান পরিবহণ ব্যবসার ভাবনা আসে। তিনি বলেন, “ভাবনাটা আসার পর থেকেই পুরো প্রক্রিয়াটা বুঝতে শুরু করি। কীভাবে এনওসি পেতে হয়, নিয়ম-কানুন কী। চার বছর আগে যে ভাবনাটা ছিল, আজ তা বাস্তব রূপ নিয়েছে।”
মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়ার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "নিন্মবিত্ত পরিবারে বড় স্বপ্ন দেখাটাই ছিল অবাস্তব। শুধুমাত্র দিনের রোজগারটুকু করাই এক সময়ে অনেক বড় ব্যাপার ছিল। তার বেশি কিছু ভাবাই ছিল এক অলীক কল্পনা মাত্র”। সাধারণ মানুষের জন্য বিমানযাত্রাকে সহজলভ্য করাই তাঁর লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “বিমানও তো এক ধরনের যানবাহন বাস বা টেম্পোর মতোই। এটাকে কোনও বিশেষ কিছু বলে ভাবা উচিত নয়।”
২০২৬-এর লড়াই শুরু! জানুয়ারিতেই বাংলায় মোদীর জোড়া সভা, থাকছে বড় চমক?
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us