SIR আবহে ঠাকুর বাড়িতে 'গৃহযুদ্ধ', শান্তনু ঠাকুরের বিতর্কিত মন্তব্যে ধুন্ধুমার

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলাকালীন এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ পড়া মেনে নিতে কোন সমস্যা নেই বলে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলাকালীন এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ পড়া মেনে নিতে কোন সমস্যা নেই বলে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Shantanu Thakur, SIR voter list revision, Matua community, BJP, Trinamool Congress, West Bengal politics, voter roll deletion, Rohingya issue, CAA controversy, Matua Mahasangha, Bengal elections, citizenship debate

শান্তনু ঠাকুরের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলাকালীন এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ পড়া মেনে নিতে কোন সমস্যা নেই বলে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শান্তনু বলেন, “কেন্দ্রকে সহযোগিতা করতে গিয়ে আমাদের যদি কোনও সমস্যা সহ্য করতে হয়, আমরা প্রস্তুত। ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি মুসলিমের নাম বাদ দেওয়ার জন্য যদি আমার সম্প্রদায়ের এক লক্ষ মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত থাকতে হয়, তাতেও কোনও আপত্তি নেই।” শান্তনু ঠাকুরের করা এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হল ঠাকুর বাড়ির 'গৃহযুদ্ধ'।

Advertisment

শান্তনু ঠাকুরের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার। তৃণমূল পন্থী মতুয়া বনাম শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীদের মধ্যে তুমুল বচসা। মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত কমপক্ষে ১০-১২ জন এমনই অভিযোগ মমতাবালা ঠাকুরের। বিরোধীরা শান্তনু ঠাকুরের বাড়ির দিকে যেতেই সংঘর্ষ। যদিও বিক্ষোভের সময় বাড়িতে ছিলেন না শান্তনু ঠাকুর। গোটা ঘটনার কথা পুলিশের কাছে অভিযোগে জানাবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর। যদিও আজকের এই ঘটনা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, "আমার মন্তব্যকে অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে"।

শান্তনু ঠাকুরেরমন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বিজেপির “পিঠে ছুরি মারার বিশ্বাসঘাতকতা” শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। শাসক দলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা থাকার কথা সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ভিত্তিহীন। বনগাঁর তৃণমূল নেতা প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, “এর আগে শান্তনু ঠাকুর মতুয়াদের সিএএ-র আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে বলেছিলেন, যাতে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গে ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা থাকার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।” তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য মতুয়া সমাজকে বিভ্রান্ত করছে।

তৃণমূল কংগ্রেস এক্স এ পোস্ট করা বিবৃতিতে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে লিখেছে, “মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে বিজেপির হঠাৎ ইউ-টার্ন আসলে এক নির্মম প্রতারণা। বছরের পর বছর ভোটের লোভ দেখিয়ে মতুয়াদের সামনে নাগরিকত্বের মরীচিকা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, আর ভোট আদায়ের পরই তাঁদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

তৃণমূলের আরও অভিযোগ, “নির্বাচন কমিশনকে কার্যত বিজেপির বি-টিমে পরিণত করে বাংলায় ‘সাইলেন্ট ইনভিজিবল রিগিং’ বা এসআইআর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মতুয়াকে অপমানজনক নাগরিকত্ব পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের ভোটাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আগে বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন মতুয়াদের নাগরিকত্ব দিতে সময় লাগবে। আর এখন শান্তনু ঠাকুর বলছেন, এক লক্ষ মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলেও তা নাকি গ্রহণযোগ্য। বিজেপির কাছে মতুয়ারা ভোট ব্যাঙ্ক।”

উল্লেখ্য, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর একাধিকবার দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এক কোটি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।সম্প্রতি প্রকাশিত রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকায় সেই তথ্য অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতেই শান্তনু ঠাকুরের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঠাকুরবাড়ির সদস্য ও বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের মন্তব্যে আবারও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে তাঁরই সম্প্রদায় মতুয়ারা।

সভা থেকে শান্তনু দাবি করেন, এসআইআরে কারও নাম বাদ পড়লেও তাতে বিশেষ কোনও অসুবিধা নেই। তাঁর কথায়, “এসআইআর আমাদের কোনও সমস্যা নয়। কেন্দ্রীয় সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের যদি এসআইআরের সমস্যা পোহাতে হয়, তা পোহাব।”এরপরই বিতর্কিত মন্তব্য করে শান্তনু ঠাকুর বলেন, “৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি মুসলিম ও পাকিস্তানি মুসলিমকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে যদি আমার সম্প্রদায়ের এক লক্ষ মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত থাকতে হয়, তাতে কোনটা বেশি লাভজনক?” এই বক্তব্য ঘিরেই মতুয়া সমাজে নতুন করে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন- 'আর কতদিন এভাবে হিন্দুদের পুড়ে মরতে হবে'? ইউনূসের বিরুদ্ধে সরাসরি হুঙ্কার লেখিকা তসলিমা নাসরিনের

আরও পড়ুন-ওসমান হাদি খুনে এবার ইউনূসের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙ্গুল ভাই ওমরের, তুলকালাম বাংলাদেশে

আরও পড়ুন- হিন্দু যুবক পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ঘরে বাইরে প্রবল চাপে ইউনূস, ড্যামেজ কন্ট্রোলে এবার বড় পদক্ষেপ

আরও পড়ুন-'যদি সত্যিই ধর্মনিরপেক্ষ হতেন', প্রার্থীপদ বাতিল হতেই হুমায়ুনকে তুলধোনা নিশার

Santanu Thakur Mamatabala thakur