/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/24/ram-2026-01-24-13-37-24.jpg)
Ram Temple in Shantipur Nadia: শান্তিপুরে প্রস্তাবিত মন্দিরের একটি ধারণামূলক ছবি, যা শ্রী কৃত্তিবাস রাম মন্দির ট্রাস্ট দ্বারা নির্মিত হবে।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের অনুকরণে স্থাপত্যের শিলান্যাস করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তার থেকে ঠিক ৯০ কিলোমিটার দূরে এবার নদিয়ার শান্তিপুরে মাথা তুলবে এক বিশাল রাম মন্দির। কৃত্তিবাস ওঝার স্মৃতিধন্য শান্তিপুরের চম্পাতলা এলাকায় ১৫ বিঘা জমির ওপর এই মন্দির তৈরির কাজ শুরু হতে চলেছে। তবে অযোধ্যার সঙ্গে এই মন্দিরের বড় পার্থক্য থাকবে বিগ্রহে। এখানে রামচন্দ্র পূজিত হবেন কৃত্তিবাসী রামায়ণের বর্ণনা মেনে, অর্থাৎ তাঁর গায়ের রঙ হবে শ্যামল বা সবুজ।
কৃত্তিবাসী রামায়ণের আদলে শ্রীরাম
শান্তিপুরের ফুলিয়ায় জন্ম নেওয়া চতুর্দশ শতাব্দীর কবি কৃত্তিবাস ওঝার লেখা 'শ্রীরাম পাঁচালি' বাঙালির ঘরে ঘরে পরিচিত। শ্রী কৃত্তিবাস রাম মন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্দিরের গর্ভগৃহে শ্রীরাম একা নন, সঙ্গে থাকবেন সীতা, লক্ষ্মণ ও হনুমান। ট্রাস্টের সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য বলেন, "মন্দিরটি অযোধ্যার আদলে হলেও এর বিগ্রহ হবে কৃত্তিবাসী রামায়ণের বর্ণনা অনুযায়ী। ভগবান রাম এখানে সবুজ বর্ণে বিরাজ করবেন।"
১০০ কোটির মেগা প্রকল্প
এই বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স তৈরিতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়েছে। ট্রাস্টের সম্পাদক লিটন ভট্টাচার্য একাই ১০ বিঘা জমি দান করেছেন এই কাজের জন্য। ট্রাস্টের ২৭ জন সদস্য এবং বেশ কিছু অনাবাসী ভারতীয় (NRI) এই অর্থ জোগাড় করছেন। ২০২৮ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মূল মন্দিরটি অযোধ্যার ধাঁচে হলেও তার চারপাশে থাকবে ১৫শ শতাব্দীর বাংলার চিরাচরিত টেরাকোটা স্থাপত্যের নকশা।
রাজনীতি না সংস্কৃতি?
বিধানসভা ভোটের ঠিক আগেই এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে ট্রাস্টের সভাপতি অরিন্দম ভট্টাচার্য একে রাজনৈতিক চাল হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি বলেন, "এটি কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়। ২০১৭ সালে আমি বিধায়ক থাকাকালীন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মাঝে দলছুট হওয়ায় কাজ থেমে গিয়েছিল, এখন আবার তা শুরু হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করা।"
কী কী থাকবে এই মন্দিরে?
কেবল মন্দির নয়, ১৫ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হবে এক বিশাল সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র। সেখানে থাকবে একটি আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র,
ডিজিটাল হেরিটেজ হাব এবং একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিঘায় জগন্নাথ মন্দির বা শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির তৈরির ঘোষণার পর, শান্তিপুরে এই 'বাঙালি ধাঁচের' রাম মন্দির তৈরি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us