বিরাট বিপাকে হাসিনা! জমি দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের কারাদন্ডের নির্দেশ বাংলাদেশের বিশেষ আদালতের

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনি ও রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হল। ঢাকার একটি বিশেষ আদালত বহু আলোচিত পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ কেলেঙ্কারি মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনি ও রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হল। ঢাকার একটি বিশেষ আদালত বহু আলোচিত পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ কেলেঙ্কারি মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Sheikh Hasina,  Bangladesh tribunal verdict  ,death penalty order  ,Awami League reaction,  Obaidul Quader statement  ,political unrest in Bangladesh  ,Mohammad Yunus controversy  ,Dhaka shutdown,  Dhanmondi 32 incident  ,Bangladesh political crisis,শেখ হাসিনা  ,মৃত্যুদণ্ডের রায়  ,আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল,  আওয়ামী লীগ,  ওবায়দুল কাদের  ,রাজনৈতিক অস্থিরতা  ,বাংলাদেশ লকডাউন  ,মোহাম্মদ ইউনূস,  ধানমন্ডি ৩২  ,বাংলাদেশ রাজনীতি সংকট

Sheikh Hasina: বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনি ও রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হল। ঢাকার একটি বিশেষ আদালত বহু আলোচিত পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ কেলেঙ্কারি মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে। এই রায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Advertisment

আরও পড়ুন-মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আগেই বড় মোচড়! বাংলা ভাগের দাবিতে সুর চড়ালেন BJP-র সাংসদ  

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় থাকাকালীন নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে সরকারি জমি বরাদ্দে গুরুতর অনিয়ম করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের স্বল্পমূল্যে মূল্যবান প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। আদালতে পেশ করা নথি ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, এর ফলে সরকারি কোষাগারের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আদালতের মতে, এই ঘটনা শুধু দুর্নীতিরই নয়, প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক শপথেরও লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশজুড়ে ব্যাপক গন অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি কার্যত নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। ঢাকার বিশেষ আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতেই এই মামলার রায় ঘোষণা করে এবং তাঁকে ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাজা প্রদান করে।

টানা প্রায় ১৫ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকার সময় শেখ হাসিনা উন্নয়নের নানা সাফল্যের কথা তুলে ধরলেও, পূর্বাচল প্লট কেলেঙ্কারির মতো একাধিক অভিযোগ তাঁর শাসনাকালের  বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সর্বশেষ এই রায়ে সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

আরও পড়ুন-West Bengal News Live Updates: আজ থেকেই শুরু মাধ্যমিক, পরীক্ষার্থীদের সাহায্যে বিশেষ উদ্যোগ কলকাতা পুলিশের  

রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের শরিকরা রায়কে স্বাগত জানিয়ে একে ‘দেরিতে হলেও ন্যায়বিচার’ বলে আখ্যা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে ‘জনগণের জয়’ হিসেবে দেখছেন, যা সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে অভিযোগ তুলেছেন যে নতুন সরকার আদালতকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার চেষ্টা করছে।

এই রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও, বিষয়টির রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশ জারির আবেদন এবং বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

এদিকে, এই পরিস্থিতি ভারত সরকারের সামনেও এক কঠিন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার পাশাপাশি, প্রতিবেশী দেশের আদালতে দোষী সাব্যস্ত একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।

আরও পড়ুন- ফের রাজ্যজুড়ে শীতের কাঁপুনি, রাত থেকেই বইবে ঠান্ডার তুফানি স্রোত? তাপমাত্রা এক ধাক্কায় নামল ১১ ডিগ্রিতে

Sheikh Hasina