নির্দয়, অত্যাচারী, ফ্যাসিস্ট! ইউনূসকে 'ভয়ঙ্কর' আক্রমণ, মানুষের করুণ আর্তনাদে মন কেঁদে উঠল হাসিনার

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ আজ উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের পৈশাচিক আক্রমণে বিধ্বস্ত।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ আজ উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের পৈশাচিক আক্রমণে বিধ্বস্ত।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Sheikh Hasina, Sheikh Hasina statement, Bangladesh crisis, Bangladesh political crisis, Bangladesh election, Padma election, Awami League, Awami League statement, Muhammad Yunus, Muhammad Yunus controversy, Bangladesh democracy, Bangladesh human rights, Bangladesh violence, Bangladesh unrest, Bangladesh current situation, Bangladesh news today, Bangladesh breaking news

ইউনূসকে 'ভয়ঙ্কর' আক্রমণ

সামনেই পদ্মাপাড়ে নির্বাচন। তার আগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতি বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ফেলেছে। তিনি দেশের  বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ও বিপজ্জনক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বক্তব্যর শুরুতেই শেখ হাসিনা বলেন, “আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ বাংলাদেশ এক গভীর অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। গভীরভাবে আহত ও রক্তাক্ত একটি জাতি তার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সময় অতিক্রম করছে।”

Advertisment

আরও পড়ুন- West Bengal Weather: লেপ-কম্বল কি এবার সত্যিই আলমারিতে? রবিবার থেকেই আবহাওয়ায় বড় চমক! 

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ আজ উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের পৈশাচিক আক্রমণে বিধ্বস্ত। তাঁর দাবি, একসময়ের শান্তিপূর্ণ ও উর্বর দেশ এখন রক্তাক্ত ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনার ভাষায়, “আজ গোটা দেশ একটি এক বধ্যভূমি ও মৃত্যু উপত্যকার মতো। সর্বত্র শুধু ধ্বংসের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের করুণ আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।”

বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি মহম্মদ ইউনূসকে দায়ী করে শেখ হাসিনা তাঁকে “রক্তাক্ত ফ্যাসিস্ট” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইউনূস একজন সুদখোর, অর্থ পাচারকারী, লুণ্ঠনকারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক, যিনি নিজের নীতির মাধ্যমে জাতির রক্ত ঝরিয়েছেন এবং দেশের আত্মাকে কলঙ্কিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইউনূস ও তাঁর দেশবিরোধী চরমপন্থী সহযোগীরা নির্বাচিত সরকারকে জোরপূর্বক উৎখাত করে। সেই দিন থেকেই বাংলাদেশ সন্ত্রাস, নির্মমতা ও শ্বাসরোধকারী পরিস্থিতির মধ্যে ডুবে গেছে এবং গণতন্ত্র কার্যত নির্বাসনে চলে গেছে।

আরও পড়ুন- শাসকদলের হুকুমেই কি চুপ পুলিশ? বিডিও অফিসের ‘আসল ছবি’ দেখালেন বিরোধী দলনেতা!

শেখ হাসিনা আরও দাবি করেন, দেশে মানবাধিকার ভয়াবহভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বিলুপ্ত, নারী ও শিশুদের উপর হিংসা লাগামছাড়া ও যৌন নির্যাতন বেড়েই চলেছে। জীবন ও সম্পত্তির কোনও নিরাপত্তা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর লাগাতার নির্যাতন চলছে, আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত সন্ত্রাস, লুটপাট, সশস্ত্র ডাকাতির রাজত্ব কায়েম হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি নৈরাজ্যে জর্জরিত এবং ন্যায়বিচার এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এছাড়াও শেখ হাসিনা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জমি ও সম্পদ বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য একটি বিশ্বাসঘাতক চক্রান্ত চলছে। তাঁর অভিযোগ, ইউনূস জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং দেশকে বহুজাতিক সংঘাতের আগুনে ঠেলে দিয়েছেন। এই সংকটময় মুহূর্তে তিনি সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন- প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই কলকাতায় বড় অঘটন! রেড রোডে মহড়া চলাকালীন হুলস্থুল কাণ্ড

বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বাঁচাতে হলে এই বিদেশি দাস-পুতুল শাসনকে উৎখাত করতেই হবে। শহীদদের রক্তে লেখা সংবিধান রক্ষা করতে হবে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং গণতন্ত্রকে আবার জীবিত করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে একত্রিত হয়ে মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ একটি অনির্বাচিত সরকারের চাপে দমবন্ধ অবস্থায় রয়েছে, যার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দ্রুত বিশৃঙ্খলা, ঘৃণা ও দুর্নীতিতে পরিণত হয়েছে। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও যেন মানুষ সাহস না হারায়। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল, যা দেশের গণতন্ত্র, সংস্কৃতি ও বহুত্ববাদের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।

এদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান প্রশাসন অপসারণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রতিদিনের হিংসা অবিলম্বে বন্ধ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নারী-শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা বন্ধ করা এবং গত বছরের ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য রাষ্ট্রসংঘকে আমন্ত্রণ জানানো।

আরও পড়ুন- মুর্শিদাবাদে বাবরি তো শান্তিপুরে রাম! ভোটের আগে ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে শুরু হলো হাইভোল্টেজ 'ধর্মযুদ্ধ'?

বক্তব্যের শেষে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একসঙ্গে আমরা আরও শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠনে দায়বদ্ধ।  যারা আমাদের জাতিকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন।” বক্তব্য শেষ করেন তিনি ঐতিহ্যবাহী স্লোগানে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”

Sheikh Hasina Bangladesh Crisis