/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/29/dooars-2026-01-29-18-13-53.jpg)
Offbeat Dooars Destination: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত।
চিরাচরিত ডুয়ার্স ভ্রমণ বলতে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাটাগুড়ি, মূর্তি বা জলদাপাড়ার ছবি। জিপ সাফারি আর জঙ্গলের রোমাঞ্চের বাইরেও যে ডুয়ার্সের বুকে এক স্নিগ্ধ, শান্ত এবং জনবসতিহীন রূপ লুকিয়ে আছে, তা অনেকেরই অজানা। পাহাড় আর সমতলের ঠিক সন্ধিক্ষণে, মেঘ ও রোদ্দুরের লুকোচুরির মাঝে এমনই এক নতুন এবং আনকোরা গন্তব্যের নাম ‘শিকারিটার’ (Shikari Tar)।
কালিম্পং জেলার গোরুবথান ব্লকের অন্তর্গত হলেও, ভৌগোলিকভাবে এটি ডুয়ার্সের মালবাজার মহকুমা সংলগ্ন। ভিড়ভাট্টা আর যান্ত্রিক জীবন থেকে কয়েকদিনের জন্য ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ চাইলে শিকারিটার আপনার জন্য আদর্শ ঠিকানা হতে পারে।
প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা ছবি
শিকারিটারের মূল আকর্ষণ হলো এর অকৃত্রিম নিস্তব্ধতা। চারদিকে দিগন্তবিস্তৃত চা বাগান, সুপারি গাছের সারি এবং দূরে নীল পাহাড়ের হাতছানি। যেহেতু এই জায়গাটি কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত, তাই এখান থেকে ডুয়ার্সের সমতলভূমির এক অনবদ্য 'বার্ডস আই ভিউ' বা পাখির চোখের মতো দৃশ্য দেখা যায়। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার উঁকিঝুঁকিও পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানকার সকালটা শুরু হয় নাম না জানা পাহাড়ি পাখির কলতানে, আর সন্ধ্যা নামে ঝিঁঝিঁর ডাকে।
কী দেখবেন, কী করবেন?
শিকারিটার মূলত প্রকৃতিপ্রেমীদের জায়গা। এখানে কোনও বড় শপিং মল বা পার্ক নেই, আছে শুধু বিশুদ্ধ অক্সিজেন। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যাওয়া যায় স্থানীয় ভিউ পয়েন্টে। সেখান থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। কাছেই রয়েছে চেল নদী এবং মাল নদী। চাইলে গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসা যায় সেই নদীখাত থেকেও। এছাড়া এখান থেকে লাভা, গোরুবথান বা ঝালং-এর মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিও খুব বেশি দূরে নয়। যাঁরা ট্রেকিং বা হাইকিং পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ছোটখাটো ট্রেকিং রুটের ব্যবস্থাও রয়েছে গ্রামের আশেপাশে।
থাকার ব্যবস্থা
যেহেতু এটি একটি অফবিট গ্রাম, তাই এখানে বড় কোনও হোটেল বা রিসর্ট নেই। পর্যটকদের জন্য ভরসা এখানকার হাতেগোনা কয়েকটি হোমস্টে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্তরিকতা এবং উষ্ণ আতিথেয়তা শিকারিটার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও মধুর করে তোলে। হোমস্টেগুলিতে মিলবে একেবারে ঘরোয়া পদ্ধতিতে রান্না করা সুস্বাদু খাবার। পাহাড়ি সবজি, দেশি মুরগির ঝোল আর ধোঁয়া ওঠা ভাতের স্বাদ জিভে লেগে থাকার মতো। বারান্দায় বসে এক কাপ চা আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা, এটুকুই তো মানসিক শান্তির চাবিকাঠি।
কীভাবে যাবেন?
শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) বা নিউ মাল জংশনে নামতে হবে। মাল জংশন থেকে শিকারিটারের দূরত্ব কম, প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার। গাড়ি ভাড়া করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। আর বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার।
আরও পড়ুন-Lingtam: বড় বড় ট্যুরিস্ট স্পট ফেল! সিল্ক রুটের 'লুকনো রত্ন'! সিকিমের এক টুকরো স্বর্গ লিংটাম
সারা বছরই শিকারিটার যাওয়া যায়, তবে বর্ষায় এর রূপ হয় ঘন সবুজ এবং শীতে আকাশ থাকে ঝকঝকে নীল। তাই সপ্তাহান্তের ছুটিতে বা দু-তিনদিনের ছোট ট্যুরে নির্জনতার স্বাদ নিতে চাইলে আপনার বাকেট লিস্টে থাকতেই পারে ডুয়ার্সের এই গোপন রত্ন ‘শিকারিটার’।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us