/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/28/singur-2026-01-28-08-39-48.jpg)
Singur Politics: বিধানসভা ভোটের আগে ফের চর্চায় সিঙ্গুর-ইস্যু!
West Bengal Assembly Election 2026: টাটা ন্যানো সিঙ্গুর ছেড়েছে তা-ও প্রায় ১৮ বছর হয়ে গিয়েছে। দিনের পর দিন সেখানে পুলিশ পোস্টিংয়ের পিছনে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে। শিল্প পরিকাঠামা গঠন হয়ে গিয়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। তারপরও আন্দোলনের জেরে সিঙ্গুর ছাড়তে হয়েছিল টাটাকে। কৃষক ও কৃষি জমি বাঁচানোর লড়াই করেছিল তৃণমূল (TMC) কংগ্রেসসহ একাধিক দল! তবে বর্তমান পরিস্থিতি এইরকম-সিঙ্গুর না দেখলো শিল্পের মুখ না ফললো ফসল। কিন্তু বাংলার রাজনীতি যে এখনও সিঙ্গুরে ঘুরপাক খাচ্ছে তার প্রমান দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু না ঘুঁটি? তা নিয়েও চর্চা অব্যাহত।
গত ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে (Singur) জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বিজেপির ওই জনসভায় যদিও মোদী সিঙ্গুর সম্পর্কে কিছুই বলেননি। কেন তিনি সিঙ্গুরের শিল্প নিয়ে কিছু বলেননি? তা নিয়ে সিঙ্গুরের একাংশ ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। এদিকে সিঙ্গুরে মোদীর জনসভার ১০ দিন পরে সমাবেশ করছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েকবছরে সিঙ্গুরে শিল্পের কথা শোনা যায়নি কারও গলায়। বরং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কিছু শস্য বীজ ছড়িয়ে এসেছিলেন সিঙ্গুরের জমিতে। কিন্তু ওই পুরো জমি কখনও কি চাষাবাদের যোগ্য হবে? সেই প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।
সিঙ্গুরে শিল্প হয়নি, সেখানে কৃষিও হল না। কিন্তু সিঙ্গুর এখনও বাংলার রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু বা বোরে বলা যেতে পারে। ২০১১ নির্বাচনে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল এই সিঙ্গুর। কিছু অনিচ্ছুক কৃষকের কাছ থেকে জমি নেওয়ার অভিযোগ ও তিন ফসলি জমি রক্ষা করার জন্য আন্দোলন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেই আন্দোলনে নকশাল থেকে সমাজকর্মী, এসইউসি থেকে ছোটখাটো বহু রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। পরে অনেকে গা বাঁচাতে তৃণমূলের সংস্রব ছেড়েছে। অনেকে আবার তৃণমূলে ভিড়ে গিয়ে নেতা-মন্ত্রী হয়েছেন। স্থানীয় ছুটকো নেতাদেরও সিঙ্গুরের দৌলতে জীবনে প্রাচুর্য, ক্ষমতা এসেছে। কোনও কোনও গায়ক-শিল্পীরা সাংসদ হয়েছেন, অনেকে আবার বিভিন্ন পদ অলঙ্কৃত করে হাজার হাজার টাকা ভাতা পেয়েছেন। কিন্তু সিঙ্গুরের কি কোনও উন্নতি হয়েছে? এই প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন-SIR-এর নোটিশ ঘিরে আতঙ্ক, 'বাংলাদেশে পাঠানো'-র ভয়ে মৃত্যু বৃদ্ধের! শুনানিতে চরম ভোগান্তি মালদায়
এই সিঙ্গুর তাপসী মালিককে হারিয়েছে। দিনের পর দিন পুলিশের লাঠিচার্জ সহ্য করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। হাজার হাজার পুলিশ পোস্টিং করে কারখানার ৮০ শতাংশ তৈরি হওয়ার পর টাটারা বিদায় নিয়েছে। সিঙ্গুরে পাততাড়ি গুটিয়ে টাটা ন্যানো চলে গিয়েছিল গুজরাটের সানন্দে। তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এদিকে মমতার আন্দোলনের পাশে কে ছিলেন? বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা রাজনাথ সিং। এখন নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী, রাজনাথ সিং কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। যে বিজেপি সিঙ্গুরে টাটা বিরোধী আন্দোলনে মমতাকে উৎসাহ যুগিয়েছে, সেই গেরুয়া শাসিত গুজরাটে কারখানা খুলতে চলে গেল টাটাগোষ্ঠী! এখন আবার সেই সিঙ্গুরে জনসভা করেছে বিজেপি, এবার জনসভা করবে তৃণমূল। একটা সময় বামফ্রন্ট সরকার নীরব থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের রসদ যুগিয়েছে, যা দলের একাংশের অভিমত। আর এখন মোদী ও মমতার সভা নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছে সিপিএম।
তবে সিঙ্গুরের মানুষ এখন কি চাইছেন? এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। সিঙ্গুরের অধিকাংশ মানুষ চাইছেন শিল্প হোক সেখানে। নরেন্দ্র মোদীর মুখে শিল্পের কথা শুনতে গিয়ে তাঁরা যে হতাশ হয়েছেন সেকথা সভাশেষে বলেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ১৪ বছর পার করেছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য চতুর্থ বারের বিধানসভা ভোটে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে তৃণমূল। সেই সিঙ্গুরে আজ, বুধবার সভা করবেন মমতা। এই কটা বছরে সিঙ্গুর বা তৎসংলগ্ন এলাকায় কটা ভারী শিল্প হয়েছে? রোজগারের কোনও বিকল্প পথ পয়েছেন সিঙ্গুরের যুবকসমাজ? স্বভাবতই এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে সিঙ্গুরে।
আরও পড়ুন-Akhilesh Yadav: ‘বাংলাকে টার্গেট করতেই SIR’, মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ অখিলেশ ধুয়ে দিলেন BJP-কে
টাটাদের কারখানায় নিয়োগের জন্য সিঙ্গুরের শয়ে শয়ে ছেলেমেয়ের ট্রেনিং পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল। জীবন-জীবীকার আশা, স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক লড়াইয়ের কাছে। তাঁদের অনেকের জীবন মধ্যাহ্নে এসে হাজির। চুলে অল্প বিস্তর পাক ধরেছে। অনেকের লড়াই করার ক্ষমতাও নেই। ফেরত জমির অধিকাংশই আর কৃষিযোগ্য হয়নি। রাজনৈতিক জয়-পরাজয়ে সিঙ্গুরের কিছু আর যায়-আসে না। তবে সিঙ্গুরকে ভুলতে পারছে না রাজনৈতিক দলগুলি। এখনও সেখান থেকে নির্বাচনে ডিভিডেন্ট পেতে মরিয়া রাজনৈতিক দলগুলি। বিজেপি সভা করেছে, আজ তৃণমূল জনসভা করবে, এটা নিশ্চিত তারপর আবারও অন্য কেউ মিটিং-মিছিল করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সিঙ্গুর আগের মতো রাজনীতির বোরেই হয়ে থাকবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সিঙ্গুর শুধু একটা ভগ্নস্বপ্নের নাম নয়, বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম ঘুঁটি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us