/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/18/singur-rally-pm-modi-tmc-bjp-political-battle-west-bengal-election-2026-01-18-08-01-05.jpg)
মোদীর সিঙ্গুর সমাবেশই কী ভোটের আগে খেলা ঘোরাবে?
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে চলেছে। রবিবার সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সিঙ্গুরের মাটি থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের ‘ব্যর্থ শিল্পনীতি’র বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাবেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার মালদহে জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী সীমান্ত অনুপ্রবেশকে বড় ইস্যু করে তোলেন। পাশাপাশি তিনি উন্নয়নকে বিজেপির প্রধান ভোট-হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন। বিহার, অসম ও ওড়িশায় বিজেপি-এনডিএ সরকার গঠনের পর উন্নয়নের জোয়ার বইতে শুরু করেছে এবার পশ্চিমবঙ্গের পালা, গতকাল এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
এই আবহে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেন। তিনি কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য উদ্ধৃত করে বলেন, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ বাস্তবায়নে অনেক পিছিয়ে। তাঁর দাবি, যেখানে গুজরাটে ৯২১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, সেখানে বাংলায় সেই সংখ্যা মাত্র ১১৬টি। বিজেপির আশ্বাস, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলবে।
বিজেপি সূত্রের দাবি, সিঙ্গুর সভার মাধ্যমে দল নিজেদের ‘শিল্পবান্ধব’ ভাবমূর্তি জোরালো করতে চাইছে। একসময় যে সিঙ্গুরে টাটা ন্যানো কারখানা গড়ে ওঠার কথা ছিল, সেই প্রকল্প ২০০৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমি আন্দোলনের জেরে বাতিল হয়। পরে টাটা মোটরস গুজরাটের সানন্দে কারখানা গড়ে তোলে, তখন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী।
আরও পড়ুন-বিলাসবহুল ভ্রমণের এক নয়া অধ্যায়, পাবেন বিমানের মত পরিষেবা, বন্দে-ভারত স্লিপারের ভাড়া কত?
সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস বঙ্গ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকার শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাটা মোটরসকে জমি দেয়। জমি অধিগ্রহণ ঘিরে শুরু হয় আন্দোলন। ২০০৭ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং অনশন শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে টাটা প্রকল্প প্রত্যাহার করে নেয়, যা মমতার রাজনৈতিক উত্থানের পিছনে এক অন্যতম বড় কারণ বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
২০০৮ সালের পর থেকে প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনে সিঙ্গুর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের কাছে এটি আন্দোলনের সাফল্যের প্রতীক হলেও বিরোধীদের কাছে তা শিল্পায়নের ব্যর্থতার উদাহরণ। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের ভুল নীতির জেরে রাজ্য ‘শিল্প কবরস্থানে’ পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক নথিতে বিজেপি দাবি করে, রাজ্যের ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৭১ লক্ষ কোটি টাকা।
এদিকে বামফ্রন্টও সিঙ্গুর ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপি দু’দলকেই আক্রমণ করেছে। সিপিআই(এম)-এর নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, সিঙ্গুর ব্যর্থতার দায় যেমন তৃণমূলের, তেমনই বিজেপিও দায় এড়াতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, একসময় বিজেপিও মমতার আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল। এখন বিজেপির শিল্পের প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ ভাঁওতা।
সব মিলিয়ে, সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে আবারও রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামতে চলেছে তৃণমূল ও বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভা থেকে কী বার্তা আসে, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজনৈতিক মহলের।
আরও পড়ুন- কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার চেষ্টা? দু’দশক পর ফের সিঙ্গুরকে ঘিরেই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বিজেপি


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us