SIR 2.0 West Bengal: আজ থেকে শুরু SIR-এর শুনানি, কোন কোন ডকুমেন্ট রেডি রাখবেন? নামের বানান ভূলে কী করবেন?

SIR 2.0 West Bengal: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দ্বিতীয় পর্ব বা SIR 2.0 শুরু হচ্ছে আজ ২৭ ডিসেম্বর থেকে। এই পর্বে রাজ্যজুড়ে এক কোটিরও বেশি ভোটারকে শুনানির আওতায় আনা হবে।

SIR 2.0 West Bengal: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দ্বিতীয় পর্ব বা SIR 2.0 শুরু হচ্ছে আজ ২৭ ডিসেম্বর থেকে। এই পর্বে রাজ্যজুড়ে এক কোটিরও বেশি ভোটারকে শুনানির আওতায় আনা হবে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
BLO ERO contact, voter officer, sir, polling booth search, election helpline ,বিএলও ইআরও নাম, বুথ অফিসার খোঁজ, ভোটার হেল্পলাইন, ভোটার তথ্য,এসআইআর

SIR: আজ থেকে শুরু শুনানি

SIR 2.0 West Bengal: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দ্বিতীয় পর্ব বা SIR 2.0 শুরু হচ্ছে আজ ২৭ ডিসেম্বর থেকে। এই পর্বে রাজ্যজুড়ে এক কোটিরও বেশি ভোটারকে শুনানির আওতায় আনা হবে। নির্বাচন কমিশন (ECI) জানিয়েছে, শুনানির সময় শুধুমাত্র আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।

Advertisment

শুনানি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রশিক্ষণের কাজও শুরু করেছে। তাঁদের দায়িত্ব থাকবে শুনানি চলাকালীন কমিশনের নির্দেশিকা ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা। কোনও ইআরও (ERO) বা এআরও (AERO)-র কাজে অনিয়ম ধরা পড়লে প্রথমে সতর্ক করা হবে। তাতেও কাজ না হলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠাবেন মাইক্রো অবজার্ভাররা।

আরও পড়ুন- Sheikh Hasina: হিন্দু যুবককে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এবার বিরাট বিবৃতি হাসিনা, ইউনূসকে নিশানা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর   

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে কমপক্ষে ১১টি করে শুনানির টেবিল বসানো হবে। প্রতিটি টেবিলে থাকবেন একজন ইআরও বা এআরও এবং একজন মাইক্রো অবজার্ভার। ফলে রাজ্যজুড়ে মোট ৩,২৩৪টি টেবিলে শুনানি চলবে। প্রয়োজনে টেবিলের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি, ৪ হাজারের বেশি মাইক্রো অবজার্ভার মোতায়েন করা হতে পারে।

বুধবার জারি করা এক নির্দেশিকায় নির্বাচন কমিশন শুনানির পদ্ধতি স্পষ্ট করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব ভোটারকে ইআরও-রা নোটিস পাঠিয়েছেন, তাঁদের যোগ্যতা প্রমাণে নির্দিষ্ট নথি জমা দিতে হতে পারে। এর মধ্যে আগের SIR-এ ম্যাপিং সংক্রান্ত নথিও থাকতে পারে। জমা দেওয়া সমস্ত নথি BLO অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করতে হবে, যা পরে ইআরও-রা পরীক্ষা করবেন।

নথি আপলোড হওয়ার পর পাঁচ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO)-এর মাধ্যমে নথি যাচাই করা হবে। যদি নথিটি রাজ্যের অন্য কোনও জেলায় ইস্যু করা হয়ে থাকে, তাহলে ECINet প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেই জেলায় যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। আর যদি নথি পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ইস্যু করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের CEO-র কাছে যাচাইয়ের আবেদন পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন- '১৯৭১ সালের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন', বাংলাদেশে হিংসা কাণ্ডে এবার ইউনূসের বিরুদ্ধে 'বোমা ফাটালেন' শুভেন্দু    

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রায় ১০ লক্ষ ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ভোটারের নাম যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের তথ্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে এবং ৩১ লক্ষ ভোটারের নামের সঙ্গে কোনও ম্যাপিং নেই। প্রথমে এই ৩১ লক্ষ ভোটারের শুনানি শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর প্রথম পর্বের SIR শেষ হওয়ার পর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে দেখা যায়, ভোটারের সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৭.০৮ কোটিতে নেমেছে। BLO অ্যাপে ৫৮ লক্ষেরও বেশি এনুমারেশন ফর্ম আপলোড না হওয়ায় ওই নামগুলি বাদ পড়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ যাওয়া নামগুলির মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৪ লক্ষ মৃত ভোটার, ১২ লক্ষের বেশি খোঁজ না পাওয়া ভোটার, ১৯ লক্ষের বেশি স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ভোটার, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ১.৩৭ লক্ষ ভোটার এবং অন্যান্য প্রায় ৫৭ হাজার ভোটার।

আরও পড়ুন- তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে প্রথম প্রতিক্রিয়া ভারতের, এবার কী তবে শেষ ইউনূস জমানা?

শুনানিতে ডাকা ভোটারদের কাছ থেকে একাধিক নথি চাওয়া হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীর পরিচয়পত্র, ১৯৮৭ সালের আগে ইস্যু করা পোস্ট অফিস বা ব্যাঙ্কের নথি, জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট, মাধ্যমিক বা অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, রাজ্য সরকারের আবাসিক শংসাপত্র, বনাধিকার শংসাপত্র, জাতিগত শংসাপত্র, পারিবারিক নথি, অথবা সরকারি জমি বা বাড়ি বরাদ্দ সংক্রান্ত কাগজপত্র। তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, শুধু আধার কার্ড দেখিয়ে শুনানিতে পার পাওয়া যাবে না।

এদিকে, বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় বানান ও টাইপোগ্রাফিক্যাল ভুল সংশোধনের কাজ শুরু করেছেন। প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে ভোটারদের ডেকে এনে ঘোষণা পত্রের মাধ্যমে BLO অ্যাপে সংশোধন করা হচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে। শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন-  মোদী-শাহের 'বাংলা দখলের' পরিকল্পনায় জল ঢাললেন অভিষেক! ভোটের আগেই 'মেগাপ্ল্যানিং', জয় নিশ্চিত করতে আসরে যুবরাজ  

West Bengal SIR