/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/west-bengal-sir-voter-list-28-lakh-names-deleted-2025-11-27-12-59-15.jpg)
SIR voter list 2025: প্রতীকী ছবি।
West Bengal SIR 2025: পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ২০২৬ প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্দেশের প্রেক্ষিতেই এই কড়া পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্বাচনী সংস্কার ও নথি যাচাই চলাকালীন রাজ্যে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, এবং কোনও ধরনের গাফিলতি বা বাধা বরদাস্ত করা হবে না।
এই সংক্রান্ত নির্দেশ মেনে চলার জন্য নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্য সচিব, পুলিশের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে। কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখতে হবে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ও পুলিশকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
আরও পড়ুন- সুপ্রিম নির্দেশের জের! ফের পিছোবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ?
নির্বাচন কমিশন আরও নির্দেশ দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের ডিজিপি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার, সমস্ত জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি ও নথি জমা দেওয়ার প্রতিটি স্থানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। কোথাও যাতে বিশৃঙ্খলা না হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। কমিশনের কড়া বার্তা, দায়িত্ব পালনে কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনসাধারণের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কমিশন জানিয়েছে, এখন থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি ও নথি যাচাই করা হবে। এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকারকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মাধ্যমে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য, সাধারণ মানুষকে যেন শুনানির জন্য দূরদূরান্তে যেতে না হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া স্থানীয় স্তরে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।
এছাড়া, যাদের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির' ও 'আনম্যাপড' বিভাগে রাখা হয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই দুই বিভাগে থাকা ব্যক্তিদের নামের তালিকা আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন ও ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ্যে টাঙাতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নথি জমা দেওয়া বা আপত্তি জানানোর জন্য অতিরিক্ত দশ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণভাবে কমিশন জানিয়েছে, যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে পারবেন না, তাঁরা অনুমোদনপত্রসহ তাঁদের প্রতিনিধি বা বুথ-স্তরের এজেন্টের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ও পাশের শংসাপত্রকেও বৈধ নথি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে নথি গ্রহণের অন-সাইট রসিদ দিতে হবে এবং শুনানি সম্পন্ন হয়েছে বলে শংসাপত্র প্রদান করতে হবে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই অনুমোদনপত্র ও শুনানির শংসাপত্র বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যাতে রাজ্যের সর্বস্তরে কঠোরভাবে কার্যকর হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এই নির্দেশাবলি সমস্ত জেলা শাসক ও পুলিশ প্রধানদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও রকম খামতি বরদাস্ত করা হবে না।
আরও পড়ুন- মন্ত্রীর রোষানলে সিপিএম, সভা চলাকালীন মাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে তোলপাড়


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us