/indian-express-bangla/media/media_files/2025/09/24/sukanta-2025-09-24-12-21-24.jpg)
সুকান্ত মজুমদার
Bengal SIR: এসআইআর-র কারণে আর কত লাশ দেখবে বাংলা? নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। এসআইআর চাপের কারণে বিএলও রিংকু তরফদার এবং শান্তি মুনি এক্কার মৃত্যু নিয়ে রাজ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে একের পর বিএলও-র মৃত্যু ও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেছেন এবং মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন- গ্র্যাচুইটি ও সামাজিক সুরক্ষায় বিপুল বদল, নতুন শ্রম আইন বদলে দেবে ৫০ কোটি কর্মীর জীবন
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'X'-এ লিখেছেন, "কৃষ্ণনগরে আরও একজন BLO, একজন মহিলা শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে আমি হতবাক। রিঙ্কু তরফদার তার বাড়িতে আত্মহত্যা করার আগে তার সুইসাইড নোটে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন।" এর পর, মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন যে SIR-এর কারণে পশ্চিমবঙ্গে আরও কত মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পোস্টে লিখেছেন, "আরও কত প্রাণহানি ঘটবে? SIR-এর জন্য আরও কত মানুষকে মরতে হবে? এই প্রক্রিয়ার জন্য আমাদের আরও কত মৃতদেহ দেখতে হবে? এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।" এনিয়েই এবার মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করলেন প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে সুকান্ত লিখেছেন, "রাজ্যের ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় BLO-দের মৃত্যুকে নিয়ে যতই নাটকীয় কুম্ভীরাশ্রু ঝরান না কেন, বাংলার BLO-রা জানেন, মানসিক নির্যাতন, চাপ ও ভয় তৈরি করার নেপথ্যের একমাত্র মুখ আসলে তিনিই! পশ্চিমবঙ্গে SIR সম্পর্কিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বহু আগেই তিনি BLO-দের সামনে প্রকাশ্যে হুমকি ছুড়ে দিয়েছিলেন - “ভুলে যাবেন না, আপনারা সবাই কিন্তু রাজ্য সরকারের কর্মচারী।” তাঁর এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল তাঁর চাপিয়ে দেওয়া শাসন, দমন আর ভয় দেখানোর রাজনীতি"।
আরও পড়ুন- টি-২০ স্টাইলের ধামাকা ব্যাটিং, রাজ্যে টানা দাপুটে ইনিংস শীতের, কবে থেকে পারদ পতন? রইল ব্রেকিং আপডেট
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও লিখেছেন, "আজ SIR-এর কাজে যুক্ত বেশিরভাগ BLO দক্ষতা, সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু এক প্রতিহিংসাপরায়ণ মুখ্যমন্ত্রীর বারবারের হুমকি তাঁদের মনে যে আতঙ্ক ঢুকিয়ে দিয়েছে, তা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন যদি দাবি করেন যে BLO-রা মানসিক চাপেই আত্মঘাতী হয়েছেন, তাহলে সেই চাপে ঠেলে দেওয়ার মূল কারণ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে তিনি নিজেই। কারণ ২০২১ সালের ২রা মে'র পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ প্রতিটি দিন প্রত্যক্ষ করেছে মমতার লাগামছাড়া প্রতিহিংসা আর নির্মম দমননীতি। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী, মেরুদণ্ড সোজা রাখা প্রতিবাদী মানুষ এমনকি সরকারি কর্মচারী পর্যন্ত কারোরই রক্ষা নেই তাঁর প্রতিহিংসা ও দমনপীড়নের হাত থেকে।
মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে সুকান্ত মজুদার লিখেছেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চান, তা এখন বাংলার মানুষ স্পষ্ট বুঝে ফেলেছে। BLO-দের মৃত্যুকে নিয়ে তাঁর আজকের কান্না তাই শুধু আরেকটি রাজনৈতিক নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়"।
আরও পড়ুন-SIR-এর গুঁতো, পালিয়ে পথ পাচ্ছেন না অনুপ্রবেশকারীরা, কত বাংলাদেশি দেশে ফিরল?
এদিকে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর না দেওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করল BLO সংগঠন। চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় চরম কাজের চাপ নিয়ে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের পরিস্থিতির মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর না দেওয়ার কারণ জানতে চাইল ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চ। শুক্রবার পাঠানো ইমেলে সংগঠনের তরফে লেখা হয়েছে, “আপনি BLO–দের কাজের চাপ ও মানসিক চাপে উদ্বিগ্ন—এটি জেনে আমরা খুশি। এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আপনি নির্বাচন কমিশনকে SIR প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার জন্যও চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের বিনীত প্রশ্ন— তাহলে BLO–দের সহায়তা করতে নির্বাচন কমিশনকে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর কেন দিচ্ছেন না?” BLO সংগঠনের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের হয়রানির বিষয়ে উদ্বেগ জানালেও প্রকৃত সহায়তা প্রদান করছেন না। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “কিছু নেতা বলেছেন BLO–দের গাছে বাঁধা উচিত, কেউ বলেছেন তাঁদের নজরদারিতে রাখতে হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এসব মন্তব্যের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি। কাজের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের আগে সরকারকে আমাদের সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।”
আরও পড়ুন- তৃণমূলস্তরে ঘাসফুলের মূল উপরে ফেলতে মরিয়া বিজেপি, বঙ্গজয়ের নয়া রণকৌশল কাঁপুনি ধরাবে মমতা-অভিষেককে?
সংগঠনের এক প্রতিনিধি বলেন,“BLO–দের ওপর অস্বাভাবিক ও অমানবিক চাপ দেওয়া হয়েছে। অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি। নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক চাপ তাঁদের এই অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।” চিঠিতে সংগঠনটি মৃত বা আত্মহত্যাকৃত BLO–দের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়া BLO–দের পাশে দাঁড়ানোরও আবেদন জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us