/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/12/bengal-sir-2025-10-12-08-59-30.jpg)
এসআইআর আতঙ্ক, জঙ্গিপুরে বিএলও অসুস্থ, নির্বাচন কমিশনকে নিশানা তৃণমূলের
Bengal SIR: SIR এর কাজ করার সময় অতিরিক্ত চাপে জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে ভর্তি জঙ্গিপুরের এক BLO। শনিবার জঙ্গিপুর বিধানসভার ১৩৭ নম্বর বুথে বরোজ এলাকায় বুথ লেভেল অফিসার হিসাবে কাজ করছিলেন BLO কৌশিক ঘোষ।
পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। জ্ঞান হারানোর পর্যায়ে চলে গেলে তড়িঘড়ি থাকে উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গত কয়েকদিন ধরেই নিরলসভাবে SIR সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই, বাড়ি-বাড়ি সমীক্ষা এবং ডিজিটাল আপলোডের কাজ করে যাচ্ছিলেন ওই বিএলও। কাজের পরিমাণ এবং সময়সীমার চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
“চাপ আর নিতে পারছি না”, ফের আত্মহত্যা BLO-র, “আর কত প্রাণ যাবে?”, ফুঁসছেন মমতা
বর্তমানে হাসপাতালের HDU বিভাগে চিকিৎসাধীন ওই বিএলও। ঘটনায় গভীর উদ্বেগে রয়েছেন কৌশিক ঘোষের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, SIR–এর কাজের চাপ দিন দিন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছিল। রাত অবধি কাজ করা, ভোরে বেরিয়ে পড়া এটাই প্রতিদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এদিকে শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর ষষ্ঠীতলায় এক মহিলা BLO–র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের পরিবার অভিযোগ করেছে, মানসিক অবসাদ ও কাজের অস্বাভাবিক চাপই তাঁকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। মৃত কর্মীর নাম রিঙ্কু তরফদার (৫১)। তিনি চাপড়া বাঙালঝি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের পার্শ্ব শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি নিজের এলাকাতেই BLO হিসেবে বিশেষ সার্ভে—এসআইআর (Special Intensive Revision)—এর দায়িত্ব পালন করছিলেন। শনিবার সকালেই তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে রিঙ্কু তরফদার নিজের দুই মেয়ের উদ্দেশে লিখে গেছেন, “বাবার খেয়াল রাখিস। আমার কিছু করার নেই… সংসার ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে। BLO–র কাজ ঠিকমতো করতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসবে, সেই চাপ আর নিতে পারছি না।” আরও লেখা আছে, “আমার মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থক নই, কিন্তু অমানুষিক কাজের চাপ আমি আর নিতে পারছি না।”
West Bengal News Live Updates: SIR কাজের মাঝে BLO-র মৃত্যু, আর্থিক সাহায্য ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, অসুস্থ কর্মীকেও অনুদান
এই নিয়ে কমিশনকে নিশানা করেছে তৃণমূল। এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে বলা হয়েছে, "২০০২ সালের হার্ড কপিতে নাম থাকা বহু ভোটারের নাম রহস্যজনকভাবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে উধাও। শুধু তাই নয়, ভোটারদের নাম, নম্বর ও ছবিও ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে আপলোড করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ মানসিক চাপে চরম সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন"।
এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির ইন্ধনে নির্বাচন কমিশনকে ‘পুতুল’ বানিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, “যে কাজ দু’বছরে হওয়ার কথা, তা এক রাজনৈতিক দলের ইচ্ছে পূরণ করতে এক মাসের মধ্যে করানো হচ্ছে।” অরূপ বিশ্বাস আরও অভিযোগ করেন যে, ইতিমধ্যেই তিন জন বিএলও আত্মহত্যা করেছেন এবং এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্কে মোট ৩৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এসআইআর-কে ‘সাইলেন্ট ইনভিসিবল রিগিং’ বলেও কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us