/indian-express-bangla/media/media_files/2025/03/10/bAUVtdY1KymB9fRnQel1.jpg)
প্রতীকী ছবি।
পশ্চিমবঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ‘SIR’ (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এবার এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের চার সদস্যকে শুনানির জন্য নোটিশ পাঠাল নির্বাচন কমিশন। নোটিশপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাংসদের দুই ছেলে, মা এবং বোন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকেই বিভিন্ন জায়গায় SIR সংক্রান্ত শুনানি শুরু হতে চলেছে। সেই শুনানির অংশ হিসেবেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের সদস্যদের বিডিও অফিসে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়া অত্যন্ত তাড়াহুড়োর মধ্যে সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং এর ফলে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিচ্ছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, যেখানে এই সংশোধনী প্রক্রিয়ার জন্য সাধারণত দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, সেখানে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই প্রশ্ন তুলেছেন, দু’বছরের কাজ কীভাবে দু’মাসে শেষ করা সম্ভব। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসছে।
আরও পড়ুন- স্বর্ণ ব্যাবসায়ী খুনে এবার বিডিও-র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, বিরাট বিপাকে 'দাবাং' অফিসার
এর আগেও একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডানকুনি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে-র নাম খসড়া তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ছেলের নাম এবং রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পদবি সংক্রান্ত তথ্যেও গরমিল ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ।
শুধু সাংসদই নন, তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের পরিবারের সদস্যদেরও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। খণ্ড ঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের মা, ভাই ও শ্যালককে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের সদস্যরাও।
চারবারের লোকসভা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই প্রসঙ্গে ABP আনন্দকে বলেন, খসড়া তালিকা দেখে তিনি নিজেই বিস্মিত। তাঁর দাবি, “আমি দেখেছি আমার দুই ছেলের নাম খসড়া তালিকায় নেই। তাদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। তারা দু’জনেই সরকারি কর্মচারী এবং শুনানিতে উপস্থিত থাকবে।” তিনি আরও জানান, তাঁর মা ও বোন আলাদা বুথের ভোটার হলেও তাঁদের নামও তালিকায় নেই।
কাকলির বক্তব্য, এই ঘটনা SIR প্রক্রিয়ার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। তাঁর অভিযোগ, প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ, যাঁরা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে খুব বেশি সচেতন নন, তাঁরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই না জানিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং শুনানির নামে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সাংসদের পরিবারের সদস্যদের নাম কী কারণে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us