/indian-express-bangla/media/media_files/2025/05/26/wTh0Uq8BCQilsoytjfK5.jpg)
SIR Death Cases: প্রতীকী ছবি।
SIR Death Cases: রাজ্যে ফের ছড়াল SIR আতঙ্ক। একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে বীরভূম, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে হুগলি — রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে SIR আতঙ্কে মৃত্যু ও আত্মহত্যার অভিযোগ উঠছে।
শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, SIR চালুর পর থেকেই সাধারণ মানুষ প্রবল মানসিক চাপে রয়েছেন। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন তাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় না থাকলে নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেই দুশ্চিন্তাতেই কেউ আত্মঘাতী হচ্ছেন, কেউ বা হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
অন্যদিকে BJP-র দাবি, “তৃণমূল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মৃত্যুর সঙ্গে SIR-কে জুড়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে।”
কুলপিতে শিক্ষক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য:
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে মৃত্যু হয়েছে ঢোলাহাটের কিশোরপুর হাই মাদ্রাসার শিক্ষক শাহাবুদ্দিন পাইকের (বয়স ৪৫)। তৃণমূলের দাবি, এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন তিনি, কারণ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর ও স্ত্রীর নাম ছিল না। সেই মানসিক চাপেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
তবে বিজেপি নেতা অশোক পুরকাইত বলেন, “তিনি একজন শিক্ষক, ভারতের নাগরিক। তাঁর বাড়িতে এখনো BLO পৌঁছেনি। এর আগেই SIR আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে বলা মানে মৃত্যু নিয়ে নোংরা রাজনীতি করা।”
আরও পড়ুন- West Bengal News Live Updates: সাতসকালে কলকাতার নাকের ডগায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা! রেলিং টপকে খালে বাস
বীরভূমে ফের মৃত্যু, উত্তাল সাঁইথিয়া:
ইলামবাজারের পর এবার সাঁইথিয়া। মৃত বিমান প্রামাণিক, সাঁইথিয়ার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পদবীতে ভুল ছিল — ‘প্রামাণিক’ এর বদলে লেখা ছিল ‘পাল’। এই ভুল নিয়েই প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন বিমানবাবু। তৃণমূলের অভিযোগ, আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, “কেউ মারা গেলেই তৃণমূল SIR জুড়ে দিচ্ছে — এটি নিছক রাজনৈতিক নাটক।”
আরও পড়ুন-SIR 2025: বাংলাই এগিয়ে! SIR কর্মসূচিতে সারা দেশের শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ, ‘মডেল স্টেট’ হতে চলেছে রাজ্য?
বহরমপুরে আত্মহত্যা ঝালমুড়ি বিক্রেতার:
বহরমপুরের গান্ধী কলোনি থেকে উদ্ধার হয় পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা তারক সাহার ঝুলন্ত দেহ। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় আতঙ্কে ছিলেন তারকবাবু। বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রীর বাড়ি থেকে বেরোনোর পর একাই ছিলেন, পরে বাড়ি ফিরে দেখা যায় তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
উলুবেড়িয়া থেকে তামিলনাড়ু — মৃত্যুর পর মৃত্যু:
উলুবেড়িয়ার দিনমজুর জাহির মালও SIR আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। অন্যদিকে তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে কর্মরত পূর্ব বর্ধমানের নবগ্রামের শ্রমিক বিমল সাঁতরাও দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে মারা যান বলে পরিবারের অভিযোগ। “SIR হলে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে তো?” — এই প্রশ্নেই দিন কাটত তাঁর।
ভাঙড়, ইলামবাজার, রামনগর, ডানকুনিতেও এক চিত্র:
ভাঙড়ের শফিকুল পরিচয়পত্র না থাকায় আতঙ্কে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি পরিবারের। স্ত্রী বলেন, “ও বলত, আমার কোনো প্রমাণপত্র নেই, ওরা আমাকে তাড়িয়ে দেবে।” ৩০ অক্টোবর বীরভূমের ইলামবাজারের সুভাষপল্লীতে ৯৫ বছরের ক্ষিতীশ মজুমদার আত্মঘাতী হন — পরিবার জানায়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তিনি তীব্র মানসিক চাপে ছিলেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে দিঘার এক হোটেল মালিক শেখ সিরাজ উদ্দিন, আর হুগলির ডানকুনির ৬০ বছরের হাসিনা বেগম — উভয়ের পরিবারই জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় আতঙ্কেই তাঁদের মৃত্যু।
এসআইআর নিয়ে ক্রমবর্ধমান এই মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।
তৃণমূল বলছে — “SIR আতঙ্কে মানুষ মরছে, বিজেপি নীরব।” বিজেপির জবাব — “মৃত্যুকে হাতিয়ার করে তৃণমূল জনমত প্রভাবিত করতে চাইছে।” SIR আতঙ্কে রাজ্যে বাড়ছে বিভ্রান্তি, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপও।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us