/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/03/sir-hearing-notice-death-rishra-coochbehar-blo-controversy-west-bengal-2026-01-03-16-59-34.jpg)
ফের রাজ্যে SIR-এর জেরে মৃত্যু
Bengal SIR: ফের বাংলায় SIR- চলাকালীন মৃত্যুর অভিযোগ। রিষড়ায় এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর এক প্রবীণ ব্যক্তির মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাওয়া নোটিসের কারণে চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি, যার জেরেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
মৃত ব্যক্তির নাম ধনঞ্জয় চতুর্বেদী (৮৫)। তিনি রিষড়ার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪ জানুয়ারি তাঁর এসআইআর (Special Intensive Revision) শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। গত ২৯ ডিসেম্বর একজন বিএলও তাঁর বাড়িতে শুনানির নোটিস পৌঁছে দেন। অভিযোগ, ওই নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ধনঞ্জয়বাবু। শনিবার সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে রিষড়া মাতৃসদনে ভর্তি করা হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ও শয্যাশায়ী ছিলেন ধনঞ্জয় চতুর্বেদী। তবে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিস তাঁর মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তোলে। মৃতের ছেলে রাজেন্দ্র চতুর্বেদী জানান, তাঁর বাবা বরাবরই নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে সচেতন ছিলেন এবং নোটিস পাওয়ার পর থেকেই ভয় ও দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন।
রাজেন্দ্র চতুর্বেদীর বক্তব্য, “আমার বাবা আগে বউবাজারের একটি স্কুলে কাজ করতেন। আমরা বহু বছর ধরে রিষড়ার বাসিন্দা। ২৯ ডিসেম্বর নোটিস পাওয়ার পর থেকেই বাবা চরম মানসিক চাপে ছিলেন।” তিনি আরও জানান, তাঁদের পরিবার আগে রবীন্দ্র সরণিতে থাকতেন, পরে এনএস রোডের একটি ফ্ল্যাটে চলে আসেন। “আমাকেও ৫ জানুয়ারি শুনানিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। বাবা শেষ দিন পর্যন্ত চিন্তা করছিলেন শুনানি কোথায় হবে, কীভাবে যাবেন, আর যদি নাম কেটে দেওয়া হয় তাহলে কী হবে,”।
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। রাজেন্দ্র চতুর্বেদীর অভিযোগ, “এত বয়সী, গুরুতর অসুস্থ মানুষদের কেন বারবার ডাকা হচ্ছে? সব নথি থাকা সত্ত্বেও কেন শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে?” রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্রও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মন্তব্য, “এত প্রবীণ একজন মানুষকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। রিষড়ার বিজেপি কাউন্সিলর মনোজ সিং দাবি করেছেন, ধনঞ্জয় চতুর্বেদী বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং তাঁর পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গিয়েছিল। তাঁর কথায়, “মৃত্যুর সঙ্গে এসআইআর নোটিসের কোনও যোগ নেই। ছেলেরাই বাবার মৃত্যুকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
এদিকে SIR পর্বে আরও এক বিএলওর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল কোচবিহারে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) চলাকালীন শুনানি পর্বের চাপেই এক বিএলওর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ফের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মৃত বিএলওর নাম আশিস ধর। তিনি কোচবিহারের ইছামাড়ি বানেশ্বর এলাকার ১০৩ নম্বর বুথের বুথ লেভেল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। শনিবার তাঁর বুথে ম্যাপিং না হওয়া ভোটারদের নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। পরিবারের দাবি, এই শুনানি প্রক্রিয়া নিয়েই মানসিক চাপে ভুগছিলেন আশিসবাবু।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত থেকেই শুনানি সংক্রান্ত কাজ ও দায়িত্ব নিয়ে অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। সেই রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন আশিস ধর। তড়িঘড়ি তাঁকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত কাজের অতিরিক্ত চাপই তাঁর মৃত্যুর কারণ।
তৃণমূলের অভিযোগ, তাড়াহুড়ো করে এবং পরিকল্পনাহীন ভাবে SIR পর্বে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে চাওয়ার ফলেই দিকে দিকে ঘটছে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us