/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/malda-2026-01-27-18-05-45.jpg)
Malda News: মালদার একটি এসআইআর শুনানিকেন্দ্রের ছবি।
এসআইআর (SIR)-এর শুনানির নোটিশ এবং তার জেরে নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে ফের মৃত্যু হলো এক বৃদ্ধের। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার মানিকচক থানা এলাকায়। মৃতের নাম শরিফুল শেখ (৬০)। পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার আতঙ্কেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। পাশাপাশি, মঙ্গলবার দিনভর মালদা জেলা স্কুল এবং মালদা মডেল মাদ্রাসায় চলা শুনানিতে সাধারণ মানুষের, বিশেষত বিশেষভাবে সক্ষম, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের চরম হয়রানির ছবি উঠে এসেছে।
মানিকচক থানার নুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিচু তিওরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন শরিফুল শেখ। মৃতের ছেলে আরিফুল শেখ জানান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার নাম ছিল ‘শরিফুল’। কিন্তু তাঁদের দুই ভাইয়ের ভোটার কার্ডে বাবার নাম রয়েছে ‘শেখ শরিফুল’। নামের এই সামান্য গরমিলের কারণেই দিন পাঁচেক আগে বাবা ও দুই ছেলের নামে শুনানির নোটিশ আসে। আরিফুলের কথায়, “নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই বাবা আতঙ্কে ছিলেন। ভাবছিলেন নাম বাদ গেলে হয়তো বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার স্থানীয় ব্লক অফিসে আমাদের শুনানি ছিল। কিন্তু তার আগেই সকালে বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা যান।”
আরও পড়ুন- Akhilesh Yadav: ‘বাংলাকে টার্গেট করতেই SIR’, মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ অখিলেশ ধুয়ে দিলেন BJP-কে
অন্যদিকে, মঙ্গলবার ইংরেজবাজার শহরের মালদা জেলা স্কুল এবং মডেল মাদ্রাসায় আয়োজিত শুনানি কেন্দ্রগুলিতে সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। সেখানে আসা মানুষদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অব্যবস্থাপনার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে তাঁদের।
ইংরেজবাজার ব্লকের কোতুয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগানপাড়া থেকে টোটো করে ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছিলেন বিশেষভাবে সক্ষম ডলি দাস। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “কী পাপ করেছি জানি না। আমি হাঁটতে পারি না, তবুও আমাকে এভাবে ডেকে পাঠানো হলো। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যেন চোখে কাপড় বেঁধে রেখেছে।”
২০১২ সালে চেন্নাইয়ে কাজে গিয়ে ডান পা হারিয়েছিলেন নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতঘড়িয়ার বাসিন্দা কেতাব আলি (৪৫)। এদিন ১০ কিলোমিটার দূর থেকে এক পায়ে ক্রাচে ভর দিয়ে তাঁকে আসতে হয় মালদা মডেল মাদ্রাসায়। তাঁর প্রশ্ন, “আমাদের মতো অসহায়দের বাড়িতে গিয়ে কি এই কাজটা করা যেত না? কেন এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে?”
এদিন শুনানি কেন্দ্রগুলিতে দেখা যায় মর্মান্তিক দৃশ্য। কেউ ৮০ বছরের বৃদ্ধাকে কোলে করে এনেছেন, কেউ আবার অসুস্থ বাবাকে কাঁধে করে নিয়ে এসেছেন লাইনে। খোলা আকাশের নিচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেছেন গর্ভবতী মহিলা এবং কোলের শিশু নিয়ে মায়েরা। অভিযোগ, তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও সাধারণের জন্য পানীয় জলের ন্যূনতম ব্যবস্থাও ছিল না।
আরও পড়ুন-রাজীবের পর এবার কে? পরবর্তী ডিজি নিয়োগে নয়া জট, ক্যাটের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে UPSC
জানা গিয়েছে, নামের সামান্য ভুল ছাড়াও, কারও বাবার ছয় সন্তান থাকার কারণেও পারিবারিক তথ্যের যাচাইয়ের জন্য ডাক পড়েছিল অনেকের। মমতাজ বেগম, রুবেল শেখ, মামনি খাতুনদের মতো সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, সামান্য ভুলের জন্য অসুস্থ শরীর নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোলা মাঠে বসিয়ে রেখে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
এদিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইংরেজবাজারের ওই দুটি শুনানি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মালদার সদর মহকুমাশাসক সুমন মজুমদার। তবে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি বা অব্যবস্থা নিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us