SIR চলাকালীন চাঞ্চল্যকর ঘটনা, সম্পত্তির দখল নিতেই বাবা পরিচয়ে ভোটার কার্ড? বিস্ফোরক অভিযোগ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে

রাজ্যে যখন এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের লিম্বুটারি এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এল।

রাজ্যে যখন এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের লিম্বুটারি এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এল।

author-image
Sandip Sarkar
New Update
SIR controversy Bengal, voter card fraud, Fansidewa Limbutari, Siliguri subdivision news, illegal voter registration, Bangladesh infiltration allegation, Haren Roy case, Dikaru Roy voter fraud, West Bengal SIR issue, fake voter list Bengal, citizenship fraud allegation, border infiltration Bengal, election commission SIR, Bengal political tension

SIR চলাকালীন চাঞ্চল্যকর ঘটনা

রাজ্যে যখন এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের লিম্বুটারি এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এল। জনৈক ডিকারু রায় নামে এক ব্যক্তিকে নিজের ‘বাবা’ পরিচয় দিয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এদেশে বসবাসের অভিযোগ উঠল হরেন রায় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

Advertisment

আরও পড়ুন- ফিরল খোকন দাস হত্যার স্মৃতি, বাংলাদেশে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হল চঞ্চলকে, ফের প্রশ্নে হিন্দু সুরক্ষা 

​অভিযোগের তির হরেন রায়ের দিকে। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় দুই দশক আগে হরেন রায় ওপার বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশ অনুপ্রবেশ করেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ডিকারু রায়ের নথিপত্র কৌশলে ব্যবহার করে নিজেকে তাঁর সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরকারি নথিতে নাম তোলেন। ডিকারু রায়ের আসল পরিবার অর্থাৎ তাঁর সন্তানরা এখন নিজেদের ভিটেমাটি ও আইনি পরিচয় নিয়ে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

আরও পড়ুন- নেতাজীর চিতাভস্ম দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদনে কী জানিয়েছেন মোদী? ভোটের আগে বিরাট তথ্য ফাঁস  

​ডিকারু রায়ের ছেলে বিশু রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২০ বছর আগে কাস্ট সার্টিফিকেট বা জাতিগত শংসাপত্র করে দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু নথিপত্র নিয়েছিলেন হরেন রায়। অভিযোগ, সেই নথির অপব্যবহার করেই তিনি ডিকারু রায়কে নিজের বাবা হিসেবে দেখিয়ে ভোটার কার্ড বানিয়ে ফেলেন। ডিকারু বাবু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমার নাম ব্যবহার করে ও ভোটার কার্ড বানিয়েছে। আমার দুই ছেলে আর এক মেয়ে ছাড়া আর কোনো ওয়ারিশ নেই। আমি চাই অবিলম্বে ওর নাম তালিকা থেকে কাটা হোক।"

আরও পড়ুন-সুপ্রিম নির্দেশ মেনে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ নামের তালিকা প্রকাশ কমিশনের, আপনার নাম নেই তো? কীভাবে জানবেন?    

​দীর্ঘ ২০ বছর চুপ থাকলেও এখন কেন অভিযোগ তুলছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে উঠে আসছে এসআইআর (SIR) আতঙ্ক। বর্তমানে রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন সমীক্ষার কাজ শুরু হওয়ার জল্পনায় ডিকারু রায়ের পরিবার শঙ্কিত। তাঁদের আশঙ্কা, হরেন রায় যদি সরকারি কাগজে ডিকারু বাবুর ছেলে হিসেবে থেকে যান, তবে ভবিষ্যতে তিনি সম্পত্তির ভাগ দাবি করবেন। সেই আইনি জটিলতা এড়াতেই এখন বিডিওর দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন- "কলকাতা বইমেলা থেকে বাদ, ক্রিকেট বিশ্ব কাপ থেকে ব্রাত্য, তবু শত্রু সুলভ আচরণ", বোমা ফাটালেন তসলিমা নাসরিন

​আশ্চর্যের বিষয় হলো, অভিযুক্ত হরেন রায় নিজের বাংলাদেশি পরিচয়ের কথা অস্বীকার করেননি। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশে ধর্মীয় উৎপীড়নের শিকার হয়ে ২০ বছর আগে তিনি এদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ডিকারু বাবুর পাড়াতেই বসবাস করেন। তবে সম্পত্তির ভাগ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, তাঁর এমন কোনো উদ্দেশ্য নেই।

আরও পড়ুন-  খুন নয় আত্মহত্যাই, নিশ্চিত করল পুলিশ, বেলডাঙ্গা হিংসা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছে বিজেপি  

​এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ডিকারু রায় এবং চলতি মাসের ২ তারিখ বিশু রায় ফাঁসিদেওয়ার বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার মৃত্যুঞ্জয় রায় এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, ফাঁসিদেওয়ার বিডিও বনানী মজুমদারকে ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের এই নীরবতায় লিম্বুটারি এলাকার সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। নাগরিকত্ব জালিয়াতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কেন তদন্তে দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন- ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ডাক, কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন শশী পাঁজা 

SIR