/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/06/sonali-2025-12-06-19-12-20.jpg)
Sonali Bibi return: অবশেষে পরিবারের সদস্যদের মাঝে সোনালী বিবি।
বহু প্রতীক্ষা, লড়াই এবং আইনি জটিলতার পর অবশেষে নিজের দেশের পরিচয় নিয়েই গ্রামে ফিরলেন সোনালী খাতুন। মালদা সীমান্ত থেকে সরকারি হস্তান্তরের পর রওনা হন নিজের গ্রাম বীরভূমের পাইকরের উদ্দেশে। গ্রামের মোড়ে তখন ভিড় জমে গেছে হাজার মানুষের। সোনালীকে দেখা মাত্রই চারদিকে একটাই আওয়াজ, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস!”
গর্ভবতী সোনালীকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামতেই মা জোৎস্না বিবি ছুটে যান। তাঁকে দ্রুত রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যেই সন্তানের জন্ম দেবেন তিনি।
রাজ্যসভার সাংসদ ও রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম বলেন, “বাংলা-বিরোধী কেন্দ্রের জমিদাররা সোনালীদের দেশে ফেরা আটকে দিতে মরিয়া ছিল। সুপ্রিম কোর্টের চিফ জাস্টিস কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেলকে তীব্র ভর্ত্সনা করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেরানোর নির্দেশ দেন।”
তিনি আরও জানান, সোনালীর স্বামী দানিশ সেখ ও সুইটি বিবিরাও ফিরতে পারতেন, কিন্তু BSF জানায়, আদালতের নির্দেশ শুধুমাত্র সোনালী ও তাঁর শিশুকে ফেরানোর। ফলে পরবর্তী ১২ ডিসেম্বরের রায়ই নির্ধারণ করবে বাকিদের ভবিষ্যত।
অ্যাম্বুলেন্সে বসেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোনালী বলেন, “ভাবিনি আর দেশে ফিরতে পারব। মেয়ে আফরিনকে আবার দেখতে পাব। স্বপ্নের মতো লাগছে। আমার সন্তান এ দেশের মাটিতে জন্মাবে, এটাই সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।”
পাইকরের দর্জিপাড়ায় সকাল থেকেই চাঞ্চল্য চরমে। ভাঙাচোরা ঘরগুলিও ভরে উঠেছিল ব্যস্ততায়। মা জোৎস্না বিবির চোখে ছিল শুধু অপেক্ষার সজল প্রতিচ্ছবি। ছোট আফরিন সারাক্ষণই খুঁজছিল মা’কে। কলেজ মোড়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর জোৎস্না বিবিকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নেওয়া হয়। সেখানেই মিলল মা-মেয়ের বহুদিন পর ফিরে পাওয়ার মুহূর্ত।
দর্জিপাড়া থেকে কিছুটা দূরে ফকিরপাড়ায় শূন্য দৃষ্টিতে বসে ছিলেন সুইটি বিবির মা নাজিনা বিবি। সুইটি ও তার দুই সন্তানের মুক্তি না পাওয়ায় বাড়ি জুড়ে উৎকণ্ঠা-উদ্বেগ। তিনি বলেন, “বাংলায় কথা বলার জন্য আমার মেয়েকে বাংলাদেশে পাঠানো হলো! ওদেরও যেন বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়।”
আরও পড়ুন-Kolkata metro: যাত্রীদের সুবিধার্থে বাম্পার উদ্যোগ কলকাতা মেট্রোর! দারুণ চর্চায় দুরন্ত তৎপরতা!
সামিরুল ইসলাম এই বিতর্কে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “SIR mapping-এ বাবা-মায়ের নাম থাকাই সবচেয়ে বড় পরিচয়। গরিব অশিক্ষিত মানুষের সব কাগজ না থাকলেই সে বাংলাদেশি, এ কেমন যুক্তি?” নাজিনা বিবিদেরও একটাই প্রশ্ন, “আবার কি দিল্লি যেতে হবে?” উত্তরে সামিরুল বলেন, “রাজ্যের শ্রমশ্রী প্রকল্পে মাসে ৫,০০০ টাকা দেওয়া হয়। বাইরে আর যেতে হবে না।”
ঝড়-ঝঞ্ঝার লড়াই জিতে সোনালী খাতুনের দেশে ফেরা যেন ন্যায়ের জয়। তাঁর গর্ভে বেড়ে ওঠা ভবিষ্যৎ ভারতীয় নাগরিক এখন জন্ম নেবে নিজের মাটিতেই। সোনালীর ঘরে ফিরে আসা যেন গোটা পাইকর গ্রামের জয়ের দিন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us