/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/02/sir-2026-02-02-08-53-32.jpg)
SIR Hearing Panic West Bengal: বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্ষোভ স্থানীয়দের।
সরকারি কাজের দীর্ঘ লাইন আর অব্যবস্থার বলি হলেন আরও এক সাধারণ মানুষ। শনিবার শ্রীরামপুরে এসআইআর (SIR) শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো এক বৃদ্ধের। মৃতের নাম মহঃ সিরাজউদ্দিন (৫৬)। তিনি রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গান্ধী সড়ক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের অব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, মহঃ সিরাজউদ্দিন দিল্লি রোডের ধারের একটি কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নথিভুক্ত ছিল। তা সত্ত্বেও কোনো অজ্ঞাত কারণে তাঁকে পুনরায় এসআইআর শুনানির জন্য তলব করা হয়। শনিবার শ্রীরামপুরে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে শুনানির জন্য গিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন- West Bengal Weather: শীত-বসন্তের লুকোচুরি! এখনই বিদায় বলছে না ঠান্ডা, খুশির খবর শীতপ্রেমীদের জন্য
হাড়ভাঙা খাটুনি ও অব্যবস্থার অভিযোগ
স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলি জানান, শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ সিরাজউদ্দিন শ্রীরামপুরের ওই শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছান। সেখানে ভিড় এতটাই ছিল যে তাঁকে একটানা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, তীব্র গরম বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার মতো শারীরিক সক্ষমতা না থাকলেও সেখানে বয়স্কদের বসার জন্য ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
প্রায় চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বিকাল ৫টা নাগাদ হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন সিরাজ। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজন তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ধকল সইতে না পেরে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন- Union Budget 2026: বাজেটে কলকাতা মেট্রোর টাকায় বড়সড় কাঁচি! কোন রুটের যাত্রীদের কপাল পুড়ল?
এই ঘটনা জানাজানি হতেই রিষড়া জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। রিষড়া পুরসভার পুরপ্রধান বিজয় সাগর মিশ্র এই ঘটনার জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানি করা হচ্ছে। নাম থাকা সত্ত্বেও কেন বারংবার মানুষকে এভাবে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, তার কোনো সদুত্তর নেই। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় এই হয়রানির কারণে প্রায় দেড়শো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।" তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আমজনতার এই ক্ষোভের প্রতিফলন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দেখা যাবে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us