/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/06/sukanta-majumdar-convoy-attack-nabadwip-bjp-tmc-clash-2025-11-06-10-35-37.jpg)
বিরাট অভিযোগে রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় ফেললেন শুভেন্দু
নবদ্বীপে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কনভয়ের উপর হামলা ঘিরে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তেজনা ছড়ায়। রাসের পুজো ও দলের বুক স্টল উদ্বোধন সেরে ফেরার পথে নবদ্বীপ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় বিজেপির উত্তর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাসের গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়। বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতকারীরাই হামলার পেছনে রয়েছে। ঘটনায় দুই বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কয়েকজনও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন- 'এনডিএ বিহারে ৬০টি আসনও পাবে না, ১৬০টির স্বপ্ন দেখছে', ভোটের মাঝে হুঙ্কার মৃত্যুঞ্জয় তিওয়ারির
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের একটি টিম। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানার সামনে ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। পরে সন্ধ্যায় তিনি নবদ্বীপে গিয়ে রাস উপলক্ষে শ্যামা মায়ের পুজো দেন এবং বিজেপির একটি বুক স্টলের উদ্বোধন করেন।
ফেরার পথে তাঁর কনভয়ের গাড়িগুলি নবদ্বীপ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘোরানোর সময় বচসার সূত্রে সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ, হঠাৎই বাসস্ট্যান্ডের দিক থেকে কনভয়ের দিকে ইট ছোড়া হয় এবং পিছনের গাড়িগুলিতে হামলা চলে।
হামলার পর সুকান্ত মজুমদার ও তাঁর সঙ্গীরা গাড়ি থেকে নেমে আসেন। বিজেপির দাবি, তৃণমূল সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে, তৃণমূলের দাবি, প্রথমে বিজেপি কর্মীরাই আক্রমণ শুরু করে।
আরও পড়ুন-'আমাদের সব স্বপ্ন পূরণ করেছে রিচা',মেয়ের সাফল্যে 'চোখে জল' বাবা মানবেন্দ্রর
ঘটনা নিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “পুলিশ যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে তাহলে আমাদের কর্মীরা নিজেদের মতো করে জবাব দেবে। কড়ায় গন্ডায় সুদসহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এ রাজ্যে গণতন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। তৃণমূলই এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এখন থেকে হয়তো ঝান্ডার সঙ্গে ডান্ডাও রাখতে হবে।”
এদিকে গতকাল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনায় সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে লিখেছেন,"কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার নদিয়া জেলার নবদ্বীপে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে তাঁর কনভয়ের একাধিক গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় বিজেপি নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস, নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপর্ণা নন্দী এবং নাদিয়া দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ বিশ্বাস আহত হয়েছেন। অর্জুন বিশ্বাস, শ্যামাপ্রসাদ বিশ্বাস এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা কর্মীরা গুরুতর জখম হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমি এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এই ঘটনার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ‘অ্যান্টি-এসআইআর’ রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় সমাজের একাংশকে উস্কে দিয়েছিলেন। এসআইআর প্রক্রিয়াকে এনআরসি বলে আখ্যা দিয়ে তিনি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন।
আরও পড়ুন-SIR নিয়ে আন্দোলনের মাঝেই মমতার বাড়িতে পৌঁছে গেল ফর্ম, কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?
তিনি আরও লিখেছেন, "যে এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেই জেলার পুলিশ সুপার হলেন 'কুখ্যাত আধিকারিক' অমরনাথ কে., যিনি প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত প্রিভিলেজ কমিটির তলবেও হাজিরা দেননি। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে আতঙ্কে রয়েছে। তাঁদের এই প্রতিক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত বাংলায় তাদের বিদায়ের পথ আরও মসৃণ করবে"।
আরও পড়ুন- বঙ্গে শীতের আমেজের মধ্যেই ফের বৃষ্টির দাপট জেলায় জেলায়, কবে থেকে জাঁকিয়ে ঠান্ডা? রইল ব্রেকিং আপডেট


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us