/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/18/sundarbans-2026-01-18-18-17-29.jpg)
Sundarban Travel Guide: সুন্দরবন ট্যুর গাইড।
Sundarban Tour Package: ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’, এই প্রবাদটি যার জন্য সৃষ্টি, সেটিই হলো আমাদের গর্বের সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র ঠিকানা। ইট-কাঠের শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এবং প্রকৃতির আদিম রূপ দেখতে সুন্দরবনের বিকল্প নেই। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল বা বর্ষার মেঘলা দিন, সুন্দরবনের রূপ বদলায় ক্ষণে ক্ষণে। আপনি যদি সুন্দরবন ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এই গাইডটি আপনার জন্য।
কখন যাবেন?
সুন্দরবন যাওয়ার সেরা সময় হলো সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস। বিশেষ করে শীতকালে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে এবং নদী শান্ত থাকায় ভ্রমণে আরাম পাওয়া যায়। বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনাও শীতে বেশি থাকে। তবে বর্ষাকালে সুন্দরবনের সবুজ রূপ এবং মেঘমেদুর আকাশ এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করে, যা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের খুব প্রিয়।
কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে সুন্দরবন পৌঁছানোর প্রধান প্রবেশদ্বার হলো গদখালি। ট্রেনে গেলে শিয়ালদহ সাউথ সেকশন থেকে ক্যানিং লোকাল ধরে শেষ স্টেশন ক্যানিং-এ নামুন। সেখান থেকে অটো বা ম্যাজিক ভ্যানে করে গদখালি ফেরিঘাট।
আরও পড়ুন- Lingtam: বড় বড় ট্যুরিস্ট স্পট ফেল! সিল্ক রুটের 'লুকনো রত্ন'! সিকিমের এক টুকরো স্বর্গ লিংটাম
সড়কপথে: কলকাতা থেকে সায়েন্স সিটি হয়ে বাসন্তী হাইওয়ে ধরে সরাসরি গদখালি পৌঁছানো যায়। সময় লাগে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা।
গদখালি থেকেই লঞ্চ বা বোটে করে শুরু হয় মূল জঙ্গল সাফারির যাত্রা।
কোথায় থাকবেন?
সুন্দরবনে থাকার জন্য মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। ১. লঞ্চ বা হাউসবোট- রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য লঞ্চে রাত কাটানো সেরা। নদীর মাঝখানে নোঙর করা লঞ্চে রাত কাটানো, জোয়ার-ভাটার শব্দ শোনা, এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা এনে দেবে। ২. রিসর্ট বা হোটেল- পাখিরালয়, দয়াপুর বা বালি আইল্যান্ডে এখন অনেক ভালো মানের ইকো-রিসর্ট ও হোটেল হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চাইলে এখানে থাকতে পারেন।
আরও পড়ুন-Todhey: হিমালয়ের কোলে নির্জন স্বর্গ! ডুয়ার্সের পর্যটনে নতুন চমক অফবিট গ্রাম ‘টোডে’
দর্শনীয় স্থান
লঞ্চে করে মাতলা, বিদ্যাধরী, রায়মঙ্গল নদীর বুক চিরে জঙ্গল সাফারির সময় আপনি যেসব জায়গায় যাবেন:
১. সজনেখালি ওয়াচ টাওয়ার (Sajnekhali): এখানে রয়েছে ম্যানগ্রোভ ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার, কুমির প্রজনন কেন্দ্র এবং কচ্ছপ পুকুর। এখান থেকেই সাধারণত জঙ্গল সাফারির অনুমতি বা পারমিট নিতে হয়।
২. সুধন্যখালি ওয়াচ টাওয়ার (Sudhanyakhali): বাঘ মামার দর্শন পাওয়ার জন্য এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা। মিষ্টি জলের পুকুর থাকায় বাঘ এখানে জল খেতে আসে। এছাড়া হরিণ ও বুনো শূকর হামেশাই দেখা যায়।
৩. দোবাঁকি ক্যাম্প (Dobanki): এখানকার প্রধান আকর্ষণ ‘ক্যানোপি ওয়াচ’ (Canopy Walk)। মাটি থেকে প্রায় ২০ ফুট ওপরে জালের ঘেরাটোপের মধ্যে দিয়ে প্রায় আধ কিলোমিটার হাঁটা, যেন জঙ্গলের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া।
৪. নেতিধোপানি (Netidhopani): এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেহুলা-লক্ষিন্দরের পৌরাণিক কাহিনী। এখানে রয়েছে প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ।
আরও পড়ুন-Langurdang: চা-বাগান, কুয়াশা আর নিঃশব্দ পাহাড়, লাঙ্গুরদাং যেন এক জীবন্ত পোস্টকার্ড
৫. পাখির জঙ্গল (Bird Forest): শীতকালে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির কলতানে মুখর থাকে এই এলাকা।
খাওয়াদাওয়া
সুন্দরবন ভ্রমণ মানেই টাটকা এবং সুস্বাদু খাবার। লঞ্চেই রান্নার ব্যবস্থা থাকে।মেনুতে থাকে। ভাত, ডাল, ভাজা, দেশি মুরগির ঝোল। স্পেশাল পদের মধ্যে থাকে স্থানীয় নদীর টাটকা ভেটকি, পারশে মাছ এবং অবশ্যই সুন্দরবনের কাঁকড়া। শীতকালে খেজুর গুড়ের চাটনি বা মিষ্টি বাড়তি পাওনা।
খরচ ও ট্যুর প্ল্যান
সুন্দরবন একা না গিয়ে কোনো ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে বা দলবেঁধে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে খরচ ও ঝক্কি দুই-ই কমে। সাধারণত ১ রাত ২ দিন বা ২ রাত ৩ দিনের প্যাকেজ হয়।প্যাকেজ খরচ জনপ্রতি ৩,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকা (থাকা-খাওয়া, লঞ্চ ও পারমিট সহ)। খরচের তারতম্য নির্ভর করে রিসর্ট এবং খাবারের মানের ওপর।
জরুরি টিপস
১. পরিচয়পত্র: ভোটার কার্ড বা আধার কার্ডের অরিজিনাল ও জেরক্স অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন (পারমিটের জন্য)।
২. প্লাস্টিক বর্জন: সুন্দরবন ‘নো প্লাস্টিক জোন’। জলের বোতল বা চিপসের প্যাকেট নদীতে ফেলবেন না।
৩. পোশাক: উজ্জ্বল রঙের (লাল, কমলা) পোশাক এড়িয়ে চলুন। জঙ্গলের সঙ্গে মিশে থাকে এমন রঙের (সবুজ, খয়েরি, ধূসর) পোশাক পরুন।
৪. ওষুধ ও ক্যাশ: প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পর্যাপ্ত নগদ টাকা সঙ্গে রাখুন। জঙ্গলের ভেতরে এটিএম নেই।
৫. নিস্তব্ধতা: বন্যপ্রাণী দেখতে চাইলে লঞ্চে বা ওয়াচ টাওয়ারে চিৎকার-চেঁচামেচি করবেন না।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us