/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/04/tmc-2026-02-04-09-03-39.jpg)
এই ছবিটি তৃণমূল কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডল থেকে নেওয়া
সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনকে (ECI) নামের বানান বা উচ্চারণে সামান্য অমিলের কারণে নোটিস জারি করার ক্ষেত্রে আরও “সংবেদনশীল” হতে নির্দেশ দিল আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, স্থানীয় ভাষার কারণে নামের বানানে যে পার্থক্য হয়, তা যেন ভোটারের পরিচয় সংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতি হিসেবে ধরা না হয়।
আরও পড়ুন- Humayun Kabir: মাটিতে পা পড়বে না নেতার! ভোটের প্রচারে শুধুই হেলিকপ্টারে উড়বেন হুমায়ুন কবীর
মঙ্গলবার শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে অভিযোগ করেন, SIR প্রক্রিয়ায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ দেখিয়ে বহু ভোটারকে অযথা নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, এতে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ ও বিবাহের পর নাম-পদবী পরিবর্তনের কারণে মহিলারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমনকি জীবিত ব্যক্তিকেও মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি, খ্যাতনামা কবি জয় গোস্বামীকে ‘আনম্যাপড’ হিসেবে দেখানোর ঘটনাও আদালতের নজরে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, "জয় গোস্বামীর মতো স্বনামধন্য সাহিত্যিকের ক্ষেত্রে এমন ভুল দুর্ভাগ্যজনক। তিনি কমিশনের আধিকারিকদের আরও সতর্ক ও মানবিক হওয়ার পরামর্শ দেন। বিচারপতি বলেন, “এ ধরনের ব্যক্তিদের অযথা নোটিস পাঠানো উচিত নয়।”
লাইভ ল'র রিপোর্ট অনুসারে আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে সওয়াল করে সিনিয়র অ্যাডভোকেট শ্যাম দিবান জানান, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া অধিকাংশ মামলাই আসলে নামের বানান বা উচ্চারণের সামান্য পার্থক্যজনিত। এতে যাচাইয়ের জন্য নির্ধারিত সীমিত সময় আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, প্যান-ইন্ডিয়া স্তরেই এমন সমস্যা দেখা যাচ্ছে, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে।
শুনানিতে এক হালকা মুহূর্তও তৈরি হয়। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদীর পদবিও বাংলায় আলাদা ভাবে উচ্চারিত হতে পারে। এই মন্তব্যে প্রধান বিচারপতিও রসিকতা করে বলেন, বাংলায় ‘ভ’ ধ্বনি না থাকায় নামের উচ্চারণে বিভ্রান্তি হওয়া স্বাভাবিক।
এদিন আদালত আরও আশ্বাস দেয়, প্রয়োজনে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) দ্বারা প্রতিটি নথিতে স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, যাতে কোনও অননুমোদিত ব্যক্তি ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারেন। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, মাইক্রো অবজারভাররা কার্যত ইআরওদের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার কাজ করছেন।
এছাড়া প্রধান বিচারপতি প্রস্তাব দেন, রাজ্য সরকার চাইলে বাংলা ভাষায় পারদর্শী আধিকারিকদের একটি দল নির্বাচন কমিশনের কাজে সহায়তার জন্য দিতে পারে। এতে পরিচয় সংক্রান্ত প্রকৃত অসঙ্গতি আর কেবল ভাষাগত বা উচ্চারণজনিত ভুলের মধ্যে পার্থক্য করা সহজ হবে বলে মত আদালতের।
উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি দায়ের করা আবেদনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, SIR প্রক্রিয়া ‘অস্বচ্ছ, তড়িঘড়ি এবং বেআইনি’ভাবে চালানো হচ্ছে, যার ফলে ব্যাপক সংখ্যক ভোটার ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়নি, ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের অবস্থান জানার সুযোগ পাচ্ছেন না।
পিটিশনে আরও উল্লেখ করা হয়, মালদা সহ একাধিক জেলায় ২২ জানুয়ারি সকালে প্রায় ২০ হাজার নাম ‘অন্যান্য’ বিভাগ থেকে সরিয়ে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বিভাগে ঢোকানো হয়েছে, যা ১৯ জানুয়ারির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই পদক্ষেপের বিরোধীতা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এটি আদালতের নির্দেশের সরাসরি অবমাননা।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী আদালতের কাছে আবেদন জানান, আসন্ন নির্বাচন গত বছরের ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই করানো হোক। এর আগে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনানুষ্ঠানিক নির্দেশ জারির অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। জানুয়ারিতে আদালত নির্বাচন কমিশনকে SIR প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করার জন্য একাধিক নির্দেশ দিয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন- 'এসআইআরকে ভন্ডুল করার চেষ্টা, উনি আদালতে সওয়ালই করেন নি', শুভেন্দুর আগুনে আক্রমণের মুখে মমতা


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us