/indian-express-bangla/media/media_files/2025/02/07/cZ1eq83jg12Qj6lFAIPn.jpg)
Supreme Court: সুপ্রিম কোর্ট।
একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশে ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশনের (ইউজিসি) ‘প্রমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনস, ২০২৬’-এর ওপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্দেশিকায় এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা কার্যকর হলে তার ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী এবং তা সমাজকে বিভাজিত করতে পারে।
কেন্দ্র ও ইউজিসি-কে নোটিস পাঠানোর পাশাপাশি শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আপাতত ২০২৬-এর এই নির্দেশিকা কার্যকর করা যাবে না। সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে আদালত জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ২০১২ সালের পুরনো নির্দেশিকাই বহাল থাকবে।
আরও পড়ুন- 'মৃত্যু নিয়ে নোংরা, সস্তার রাজনীতি', মমতার মন্তব্যের পাল্টা ফড়নবিশ, আজই অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তীব্র উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এই নির্দেশিকায় ৪-৫টি এমন প্রশ্ন রয়েছে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলির সমাধান না হলে সমাজে এর খুব বিপজ্জনক প্রভাব পড়বে। সমাজ টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।’’
আরও পড়ুন-কমিশনকে না জানিয়েই তিন IAS কে বদলি! সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে রাজ্যকে কড়া ধমক
বেঞ্চের অপর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী আমেরিকার বর্ণবৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘‘আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছতে চাই না যেখানে আমেরিকার মতো সাদা ও কালো চামড়ার পড়ুয়াদের জন্য আলাদা স্কুল হবে। ভারতের ঐক্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।’’
নির্দেশিকায় জাতি বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে পৃথক হোস্টেল বা থাকার ব্যবস্থার যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তাতে তীব্র ভর্ৎসনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর আমরা কি পিছনের দিকে হাঁটছি? ঈশ্বরের দোহাই, এটা করবেন না। আমরাও হোস্টেলে থেকেছি। সব সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারা সেখানে একসঙ্গে থাকে। আমরা জাতিভেদহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আন্তঃবর্ণ বিবাহকেও স্বীকৃতি দিয়েছি। এখন উল্টো পথে হাঁটা ঠিক নয়।’’
আরও পড়ুন-'রাজ্যে নো গভর্নমেন্ট পরিস্থিতি' আনন্দপুরে অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে 'ম্যান মেড' বলে কটাক্ষ শুভেন্দুর
আবেদনকারীরা মূলত নির্দেশিকার সেকশন ৩(১)(সি)-কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তাঁদের যুক্তি, নির্দেশিকার ভাষা অস্পষ্ট এবং এর অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিচারপতি বাগচী প্রশ্ন তোলেন, ২০১২ সালের নির্দেশিকায় যেখানে বৈষম্য বা ‘ডিসক্রিমিনেশন’-এর সংজ্ঞা স্পষ্ট ছিল, সেখানে নতুন করে এই ধারা যুক্ত করার প্রয়োজন কী? তিনি বলেন, ‘‘পরিবেশ আইনের মতো সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রেও আমাদের অগ্রগতির পথে হাঁটা উচিত, পশ্চাদপসরণ বা ‘রিগ্রেশন’ কাম্য নয়।’’
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে উদ্দেশ্য করে আদালত নির্দেশ দেয়, সরকার যেন বিশিষ্ট আইনজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আমরা হয়তো এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই, কিন্তু যারা সামাজিক বিষয়গুলি বোঝেন, তাঁদের মত নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নয়। ক্যাম্পাসের ভিতরে ভেদাভেদ তৈরি হলে বাইরের সমাজে তার কুপ্রভাব পড়তে বাধ্য।’’
আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত স্বস্তিতে শিক্ষামহল, তবে পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us