/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/12/suvendu-2025-11-12-14-26-10.jpg)
Suvendu Adhikari: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিধানসভা ভোটে হিন্দুরা একজোট হলে হলে ২০২৬ সালে বিজেপি ২২০টি আসন পাবে বাংলায়। মালদার চাঁচলে এক জনসভা থেকে এমনই দাবি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। সাম্প্রতিক নির্বাচনে মালদা উত্তর ও নন্দীগ্রামে হিন্দু ভোটের শতাংশের উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “মালদা উত্তর ও নন্দীগ্রাম এই দু’টি জায়গায় হিন্দু সংহতি সবচেয়ে বেশি ছিল। ২০২৪ সালে মালদা উত্তরে ৮৫ শতাংশ হিন্দু ভোট বিজেপি পেয়েছে। গোটা বাংলা যদি মালদা উত্তরের পথে চলে, তবে বিজেপি ২০০ নয়, ২২০ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।”
আরও পড়ুন-শাহরুখ খানকে 'বয়কটে'র ডাক, বলিউড বাদশাকে নিয়ে বিফোরক মন্তব্য জগদ্গুরু স্বামী রামভদ্রাচার্য মহারাজের
শুভেন্দুর এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক কলকাতা সফরের কথাও উঠে আসে। সভায় শাহ কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা না বললেও দাবি করেছিলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা পাবে যার অর্থ ২৯৪ আসনের মধ্যে প্রায় ১৯৬টি। পরে বিজেপি কর্মী ও নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে শাহ বলেন, ২০১৬ সালে যেখানে বিজেপির আসন ছিল মাত্র তিনটি, ২০২১-এ তা বেড়ে ৭৭ হয়েছে; সেক্ষেত্রে ২০২৬-এ ২০০ আসন জেতা অসম্ভব নয়।
শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে ২২০ আসনের দাবি তোলেন। তিনি বলেন, “২০২১ সালে নন্দীগ্রামে ৬৫ শতাংশ হিন্দু ভোট বিজেপিকে পেয়েছিল এবং আমি প্রায় ২ হাজার ভোটে জিতেছিলাম। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে সেখানে হিন্দু ভোটের হার বেড়ে ৭২ শতাংশ হয়েছে।” তাঁর আরও বক্তব্য, তৃণমূল যদি ১০০ মুসলিম ভোটের মধ্যে ৯৯টি নিশ্চিত করতে পারে, তবে বিজেপিও ১০০ হিন্দু ভোটের মধ্যে ৯৯টি পেতে পারে।
আরও পড়ুন-বার কাউন্সিলে SIR-এর ছায়া, নাম বাদ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর, হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, গাণিতিকভাবে শুভেন্দুর হিসাব সম্ভব হলেও বাস্তবে তা কঠিন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, “শুভেন্দু যেখানে ৮৫ শতাংশ হিন্দু সংহতির কথা বলছেন, সেখানে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে মালদা উত্তরে বিজেপি পেয়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ হিন্দু ভোট। রাজ্যজুড়ে যদি ৬৫ শতাংশ হিন্দু ভোট একত্রিতও হয়, তাত্ত্বিকভাবে তাঁর হিসাব মিলে যেতে পারে।” তবে তাঁর মতে, বাস্তবে রাজ্যজুড়ে ২০২৪ সালে বিজেপির পক্ষে হিন্দু ভোট ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে তা ছিল ৫৪ শতাংশ। “এত দ্রুত সংহতি বৃদ্ধির কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। সাম্প্রতিক নদিয়ার কালীগঞ্জ উপনির্বাচনেও হিন্দু সংহতি বাড়েনি, বরং সামান্য কমেছে,” বলেন তিনি।
বিজেপির এক নেতা অবশ্য দাবি করেন, বাংলাদেশে অস্থিরতা ও হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে আরও সংহত করছে। এর জবাবে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী ও অমিত শাহ যখনই আসনসংখ্যা বলেন, শেষ পর্যন্ত তা তৃণমূলের আসনসংখ্যা হয়ে দাঁড়ায়। ২০২১-এ তাঁরা ২০০ বলেছিলেন, তৃণমূল পেয়েছিল ২১৫। ২০২৪-এ ৪২টির মধ্যে ৩৫ বলেছিলেন, পেয়েছেন ১২।”
আরও পড়ুন-টেম্পো চালক থেকে বিমান সংস্থার মালিক, হার না মানা অদম্য লড়াইয়ের এ কাহিনী অনুপ্রেরণা জোগাবে
চাঁচলের সভায় প্রায় আধ ঘণ্টার বক্তৃতায় শুভেন্দু অধিকারী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, ২০২৬-এর পর তৃণমূল বিরোধী বেঞ্চে বসবে। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে তাঁকে ১০৪টি কর্মসূচি করতে হয়েছে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের সঙ্গে ‘হিসাব চুকিয়ে নেওয়া’ হবে। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি সরকার এলে কর্মসংস্থান প্রকল্পে বছরে ২০০ দিনের কাজ দেওয়া হবে কেন্দ্রের ১০০ দিনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের আরও ১০০ দিন।
মালদা প্রসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, জেলার মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ, তাই ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের কোনওটিতেই তৃণমূল লিড পায়নি। যদিও তৃণমূলের এক নেতা মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালে ওই ১২টির মধ্যে আটটিতেই জিতেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। চলতি মাসের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মালদা সফরের কথা রয়েছে। তাঁর আগেই জেলায় যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে, কোচবিহারে এক জনসভা থেকে অভিনেতা-রাজনীতিক মিঠুন চক্রবর্তী হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। ওল্ড পোস্ট অফিস পাড়ার মাঠে তিনি বলেন, “বাংলার হিন্দুদের রক্ষা করতে হবে, সনাতন ধর্ম, হিন্দুত্ব এবং বাঙালি পরিচয় বাঁচাতে হবে।” তিনি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়েও কটাক্ষ করেন এবং বেকারত্বের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “সরকার আপনাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আবার আপনাদেরই দেয়। কিন্তু যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে আপস করতে চান না, তাঁদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ কী?”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us