জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি এবার শুভেন্দুর, মমতার বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ বিরোধী দলনেতার

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত বলে দাবি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত বলে দাবি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Suvendu Adhikari statement, Bangladesh Hindu violence, Hindu persecution in Bangladesh, West Bengal opposition leader, Suvendu Adhikari on Bangladesh, minority violence Bangladesh, Hindu temples vandalised Bengal, Saraswati idol vandalism, Bangladesh communal violence, Hindu killings Bangladesh, extremist violence Bangladesh, WB politics news, BJP leader Suvendu Adhikari

জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি এবার শুভেন্দুর

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত বলে দাবি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। শনিবার তিনি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে চিঠি লিখে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগকে কড়া ভাষায় খারিজ করেন।

Advertisment

IPAC কাণ্ডে মমতাকে তুলোধোনা, সুর চড়ালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী

চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য আসলে গোটা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা। তাঁর বক্তব্য, এই সংশোধনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা ভুয়ো নাম, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসছে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে প্রশ্রয় পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ দেওয়া এক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন,  "SIR-এর ফলে ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম সামনে আসছে। এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের  মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কিত"। 

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ তৃণমূল কংগ্রেসের ‘অস্বস্তিকর সত্য’ প্রকাশ করে দিচ্ছে। তাঁর মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়াই মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার জেরে তিনি চাপের মধ্যে রয়েছেন।

ইডির অভিযান নিয়ে মমতার প্রতিবাদের পরই তড়িঘড়ি বিবৃতি সংস্থার, কী জানালো IPAC?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে শুভেন্দু লিখেছেন, মমতা যে দাবি করেছেন তা  ভিত্তিহীন, অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধী দলনেতা আরও লিখেছেন, "আমি আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই, তাঁর এই দাবি সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন। SIR-এর মত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ভোটার তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা ভুয়ো নাম, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি এবং অনুপ্রবেশকারীদের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসছে। এখন তারা হইচই ও আতঙ্ক সৃষ্টির পথে হাঁটছে"।

শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর নামে বাংলায় যা ঘটছে তা সাধারণ মানুষের মর্যাদা, জীবিকা এবং সাংবিধানিক অধিকারের উপর এক “ভয়াবহ আক্রমণ”। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়া এখন ভোটারদের “ভয় দেখানো এবং নাম বাদ দেওয়ার” হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতের নির্বাচন কমিশন ধীরে ধীরে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে বিপজ্জনকভাবে সরে যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গণতন্ত্র ভয়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকে না। জোরজবরদস্তি করে ভোটার তালিকা 'শুদ্ধ' করা যায় না।” তাঁর মতে, এসআইআর-এর আওতায় যেভাবে শুনানি চালানো হচ্ছে, তাতে মানবিক সংবেদনশীলতা এবং বাস্তবতার কোনও প্রতিফলন নেই।

মুখ্যমন্ত্রী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে এসআইআর নোটিস পাঠানোর ঘটনাকে উল্লেখ করে একে ‘প্রাতিষ্ঠানিক ঔদ্ধত্যের’ উদাহরণ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি অমর্ত্য সেনের মতো বিশিষ্ট মানুষও রেহাই না পান, তাহলে গরিব মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক, দিনমজুর ও মহিলাদের কী অবস্থা হচ্ছে?” তাঁর বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার জেরে ভয়, আতঙ্ক ও মানসিক চাপে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিগুলি যান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সহানুভূতি বা বিবেচনাবোধ ছাড়াই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যার পরিণতিতে মৃত্যু, আত্মহত্যার চেষ্টা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই ভয় ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে।

IPAC মামলায় এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ED, রাজ্যের বিরুদ্ধে বিরাট অ্যাকশনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা

Suvendu Adhikari SIR