Suvendu Adhikari: "জয় শ্রী রামে জোর নয়, জয় হিন্দ বলতে বাধা কোথায়?”, সংখ্যালঘুদের প্রশ্ন শুভেন্দুর

Suvendu Adhikari: সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "২২ টা আসনে এখানে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিলাম। ২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল এই জেলা থেকে একটাও আসন জিততে পারবে না"।

Suvendu Adhikari: সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "২২ টা আসনে এখানে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিলাম। ২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল এই জেলা থেকে একটাও আসন জিততে পারবে না"।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Bikash-Bhavan Avijan-Suvendu-Adhikari-

বিরাট হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

Suvendu Adhikari: "আমরা জয় শ্রীরাম বলি। আপনি বলবেন না, কে বলেছে বলতে? কেউ চাপিয়ে দেয় নি। আমি হিন্দু মাথায় টিকা পরব। আপনি পরবেন না। কিন্তু সকলেই তো ভারত মাতা কি জয়, বন্দে মাতরম, জয় হিন্দ তো  বলতে পারি", বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার ডাকে 'পরিবর্তন সংকল্প সভা' মঞ্চ থেকে এভাবেই সংখ্যালঘুদের বিশেষ বার্তা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "২২ টা আসনে এখানে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিলাম। ২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল এই জেলা থেকে একটাও আসন জিততে পারবে না"। 

Advertisment

আরও পড়ুন- “চাপ আর নিতে পারছি না”, ফের আত্মহত্যা BLO-র, “আর কত প্রাণ যাবে?”, ফুঁসছেন মমতা

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চুরি, দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন এবং এসআইআর নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’। এদিনের সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। 

Advertisment

সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে বিজেপি নেতার বক্তব্যে উঠে আসে মুর্শিদাবাদের অতীত রাজনৈতিক চিত্র। শুভেন্দু বলেন, “মুর্শিদাবাদ একসময় কংগ্রেসের দুর্গ ছিল। কিছু অঞ্চলে সিপিআইএম-এরও শক্ত অবস্থান ছিল। জেলাতেই বিজেপির বহু নেতা রাষ্ট্রবাদী আদর্শকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এই জেলায় মানুষ তৃণমূলকে কোনওদিনই পুরোপুরি গ্রহণ করেননি।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরও মানুষ তৃণমূলকে গ্রহণ করেনি। উন্নয়নের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে তৃণমূল। 

আরও পড়ুন- Adhir Ranjan Chowdhury: “কোথাও ১০০, কোথাও ৫০০! SIR নিয়ে তৃণমূলের নতুন ব্যবসা”, অধীরের চাঞ্চল্যকর দাবি

তিনি আরও অভিযোগ করেন, "গত এক দশকে তৃণমূল মুর্শিদাবাদে “ব্যবসার" রাজনীতি করছে।  জেলায় বোমা-বন্দুকের দাপট বেড়েছে। সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়েছে। তাঁর দাবি, “সিপিএম আমলের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি এখন। গত পাঁচ বছরে এই জেলার উন্নয়ন কার্যত থমকে গেছে। ১২-১৪ লক্ষ যুবক পরিযায়ী শ্রমিক হতে বাধ্য হয়েছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাঁদের।” রাজনৈতিক মহলের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদে এই জনসভায় বিশেষ বার্তা দিলেন শুভেন্দু। কট্টর শুভেন্দু এদিন কিছুটা নরম সুরে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বক্তব্য় রাখেন। 

তিনি স্বাস্থ্য-শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, “হাসপাতালে ডাক্তার নেই, স্কুল-কলেজ থাকলেও সেখানে পড়ুয়া নেই। বাবা-মায়েরা বলছেন, মমতা থাকলে চাকরি হবে না। তাই তারা ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। নদীগুলোতে চলছে বালি লুঠ, ফলে নদীর অস্তিত্বই আজ বিপন্ন। ২ হাজারের বালি ১০ হাজারে কিনতে হচ্ছে।” 

সম্প্রতি রাজ্য সরকার টোটো রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করেছে। এর ওপর জোর দিয়েছেন স্বয়ং পরিবহণমন্ত্রী। টোটো রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, “টোটো রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারার জন্য। একেকটি রেজিস্ট্রেশনে তৃণমূলের ভাগে যাবে পাঁচ হাজার টাকা"। 

আরও পড়ুন- Eastern Railway: যাত্রীদের সুবিধার্থে দুরন্ত পদক্ষেপ রেলের, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে আনন্দের বন্যা!

তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প চালাচ্ছে, অথচ বাংলায় আয়ুষ্মান কার্ড চালুর অনুমতি দিচ্ছে না রাজ্য। তাঁর কথায়, “দেশের সব বড় হাসপাতালে আয়ুষ্মান কার্ড চলে, বাংলায় কেন চলবে না?” পাশাপাশি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে হাসপাতালগুলিতে বেড মেলেনা বলেও তোপ দাগেন তিনি। সভা শেষে তিনি হুঙ্কার ছুঁড়ে বলেন, “মুর্শিদাবাদে ২২টি আসনে তৃণমূলকে এনেছিলাম। এবার লক্ষ্য ২৬-এর বিধানসভা ভোট। শূন্যতে নামিয়ে আনব তৃণমূলকে।”

Suvendu Adhikari