'ফলের প্যাকেটে ভরে দেহাংশ পাচার', শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগের পরই বিরাট পুলিশি অ্যাকশন, ধৃত ওয়াও মোমোর ২ কর্তা

আনন্দপুর কাণ্ডের (Anandapur Fire) পর পেরিয়েছে চারটে দিন! চারিদিক জুড়ে শুধুই হাহাকার। ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এবার পুলিশের জালে ওয়াও মোমোর দুই আধিকারিক।

আনন্দপুর কাণ্ডের (Anandapur Fire) পর পেরিয়েছে চারটে দিন! চারিদিক জুড়ে শুধুই হাহাকার। ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এবার পুলিশের জালে ওয়াও মোমোর দুই আধিকারিক।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Nazirabad fire, Nazirabad warehouse fire, Suvendu Adhikari Nazirabad visit, West Bengal fire tragedy, Nazirabad fire death toll, Suvendu Adhikari allegation, body parts smuggling claim, Anandapur jute warehouse fire, West Bengal BJP news, Mamata Banerjee fire site visit, Nazirabad missing persons, Katapukur morgue post mortem, West Bengal political news, Nazirabad fire latest update

'ফলের প্যাকেটে ভরে দেহাংশ পাচার', শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ

আনন্দপুর কাণ্ডের (Anandapur Fire) পর পেরিয়েছে চারটে দিন! চারিদিক জুড়ে শুধুই হাহাকার। ভয়াবহ এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এবার পুলিশের জালে ওয়াও মোমোর দুই আধিকারিক। ধৃতদের নাম ধৃত মনোরঞ্জন সিট এবং রাজা চক্রবর্তী। জানা গিয়েছে ধৃতদের আজ আদালতে পেশ করা হবে। এর আগে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এই নিয়ে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৩।

Advertisment

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিস্থিতি এখনও গভীর উদ্বেগজনক। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের খাতায়  ২৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলছে।

আরও পড়ুন- বলিউড কাঁপানোর আগে কংগ্রেসের মঞ্চই ছিল পছন্দের? অরিজিৎ সিং সম্পর্কে গোপন তথ্য ফাঁস অধীরের!  

উদ্ধার হওয়া ২১টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত ডিএনএ পরীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণে এই প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা  জারি করা হয়েছে। ফলে এলাকায় জমায়েত ও যাতায়াতের উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নাজিরাবাদে গুদামঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির একাধিক বিধায়ক। অগ্নিকাণ্ডে এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে শুভেন্দু অধিকারী জানান, দুর্ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সবাই আইন মেনে চলি। আমরা বিধায়ক, আইন মান্যকারী নাগরিক। তাই দুর্ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ করিনি।”

আরও পড়ুন- রাজনীতিতে অরিজিৎ সিং? নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা? বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোর জল্পনা, রইল ব্রেকিং আপডেট 

আদালতের অনুমতি নিয়ে নাজিরাবাদে এসে একাধিক 'বিস্ফোরক' অভিযোগ তোলেন  বিরোধী দলনেতা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া দেহাংশ ‘ফলের প্যাকেট করে’ বাইরে পাচার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০ জন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আনন্দপুরের ওই গুদাম থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ২১টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি সম্পূর্ণ দগ্ধ দেহ রয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশ দুটি বস্তায় ভরে কাঁটাপুকুর মর্গে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ময়নাতদন্ত চলছে। নিখোঁজদের পরিবারগুলির তরফে মিসিং ডায়েরিও দায়ের করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৬টি দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচটি দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন- বৃষ্টির দাপটে ফের কি বঙ্গে শেষবেলায় সক্রিয় হবে শীত? রইল আবহাওয়ার ব্রেকিং আপডেট

বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধার হওয়া অনেক দেহাংশ কয়লার মতো ছাইয়ে পরিণত হওয়ায় পরিচয় নির্ধারণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষাও সম্ভব হচ্ছে না। যেখানে সম্ভব, সেখানে রক্তের নমুনার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। 

ঘটনার চার দিন পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যাননি। তিনি বলেন, “অধিকাংশ মৃতই মেদিনীপুরের বাসিন্দা। আমরা কোনও কৃতিত্ব না চেয়েই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটি যেহেতু মুখ্যমন্ত্রীর ভোটব্যাঙ্ক নয়, তাই রাজধর্ম পালন করা হয়নি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে, তবু তিনি সেখানে যাননি।

যদিও ঘটনাস্থলে যাননি মুখ্যমন্ত্রী, তবু সিঙ্গুরে এক জনসভা থেকে তিনি এই দুর্ঘটনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি প্রতিটি মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরির ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, উদ্ধার হওয়া দেহাংশ বস্তায় ভরে কাঁটাপুকুর মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে অক্ষত দেহগুলি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা গেলেও পরে উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ দেহাংশ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, রবিবার ভোর প্রায় ১টা নাগাদ আনন্দপুরের যুগ্ম গুদামে আগুন লাগে। টানা দেড় দিনেরও বেশি সময় ধরে ১২টি দমকল ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ করে। এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে দমকল ও পুলিশ কর্মীরা তল্লাশি চালালেও জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মানছেন আধিকারিকরা।

আরও পড়ুন-  SIR শুনানিতে ডাকা মানেই কি নাম বাদ? তুঙ্গে জল্পনা, আসল 'সত্যি'টা জানালেন অধীর চৌধুরী   

Anandapur Fire News Anandapur Godown Fire