Abhishek Banerjee: মোদী-শাহের 'বাংলা দখলের' পরিকল্পনায় জল ঢাললেন অভিষেক! ভোটের আগেই 'মেগাপ্ল্যানিং', জয় নিশ্চিত করতে আসরে যুবরাজ

Abhishek Banerjee: "আগে মানুষ ঠিক করত সরকারে কে থাকবে, আর এখন সরকার ঠিক করবে, কারা ভোট দেবেন।"গতকালের বৈঠক থেকে এমনই বার্তা তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

Abhishek Banerjee: "আগে মানুষ ঠিক করত সরকারে কে থাকবে, আর এখন সরকার ঠিক করবে, কারা ভোট দেবেন।"গতকালের বৈঠক থেকে এমনই বার্তা তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Abhishek Banerjee, Yuvabharati Incident, Messi Row Bengal, TMC Statement, Trinamool Congress, Yuvabharati Stadium Chaos, Mamata Banerjee Apology, West Bengal Politics, BJP vs TMC, Bengal Assembly Election 2026, MGNREGA Fund Issue, SIR Controversy, Bengal Political Newsabhishek-banerjee-yuvabharati-incident-messi-row-tmc-statement

ভোটের আগেই 'মেগাপ্ল্যানিং', জয় নিশ্চিত করতে আসরে যুবরাজ

 Abhishek Banerjee: "আগে মানুষ ঠিক করত সরকারে কে থাকবে, আর এখন সরকার ঠিক করবে, কারা ভোট দেবেন।"গতকালের বৈঠক থেকে এমনই বার্তা তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বছর ঘুরলেই বাংলার বিধান সভা নির্বাচন। আর এবারের ভোটকে কার্যত পাখির চোখ করেছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই একাধিকবার রাজ্য সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বছরশেষেই রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ। এই আবহে দলীয় নেতা কর্মীদের আগামীর রণকৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। 

Advertisment

আরও পড়ুন- '১৯৭১ সালের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন', বাংলাদেশে হিংসা কাণ্ডে এবার ইউনূসের বিরুদ্ধে 'বোমা ফাটালেন' শুভেন্দু 

বৃহস্পতিবার দলের সমস্ত জেলা নেতৃত্ব ও কর্মীদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক করেন অভিষেক। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক পদাধিকারী ও কর্মীরা এই বৈঠকে হাজির ছিলেন। বৈঠকে দলীয় কাজকর্ম, সংগঠন শক্তিশালী করা এবং আগামী দিনের রনকৌশল স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, “দেশের একমাত্র শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসই নিজেদের কাজের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছে এবং আগামী দিনেও তা প্রকাশ করবে।”

দলীয় সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতিদিন জেলার নেতাদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করছেন। সেখানে হুমায়ুন কবীরের নতুন দল গঠন থেকে শুরু করে এসআইআর (SIR) প্রচারাভিযান সব বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমন্বয় অনেকটাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্বাচনী কৌশলের মতোই।

যদিও আর জি কর ঘটনার পর দু’জনের মধ্যে মতপার্থক্যের জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তবে নির্বাচনের আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। সেই অনুযায়ী, সংগঠন গঠন ও মাঠপর্যায়ের কাজ দেখভাল করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২৮ ডিসেম্বর তিনি প্রায় ১.২ লক্ষ দলীয় নেতা-কর্মী, BLA সহ বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে বড়সড় ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন।

এদিনের বৈঠকে এসআইআর অনুশীলন, ভোটারদের হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ এবং বিএলওদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপের একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএলএদের নিয়ে একটি বিশেষ সেমিনার করেছিলেন।

বৈঠকে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সিও কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মানুষের কাছে গেলে মনে রাখবেন, আপনারা দিদির প্রতিনিধি হয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের আচরণে যেন দিদির সংগ্রাম প্রতিফলিত হয়। নম্রতা বজায় রাখবেন।”

আরও পড়ুন-Sheikh Hasina: হিন্দু যুবককে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এবার বিরাট বিবৃতি হাসিনা, ইউনূসকে নিশানা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজকে তুলে ধরতে শিল্পী ইমন চক্রবর্তী একটি গান পরিবেশন করেন। অভিষেক জানান, একদিকে রাজ্য সরকার ‘উন্নয়নের পঞ্চালি’ প্রকাশ করছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ দিচ্ছে না। এই বিষয়টিও আগামী ভোটে বড় হাতিয়ার করা হবে এবং রাজনৈতিকভাবে এর মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অভিষেক আরও জানান, প্রতিটি জেলায় সমন্বয়কারী নিয়োগ করা হবে, যারা দলের “চোখ ও কান” হিসেবে কাজ করবেন। এই সমন্বয়কারীদের তালিকা আগামীকাল প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক সময় বামফ্রন্ট আমলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট যেমন সিপিএমের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ছিল, তেমনই গত ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে ক্যামাক স্ট্রিট থেকে ক্রমশ দলীয় সংগঠনের রূপরেখা তৈরি করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকেও জেলা ভিত্তিক সমস্যা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, আগামী নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সংগঠনকে আরও শক্তপোক্ত করতেই এই ধারাবাহিক বৈঠক ও রণকৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন- ছেলের জন্মদিনে দিনভর পথচারীদের পেট পুরে খাইয়ে নজির, ডালপুরি বিক্রেতার মহানুভবতাকে কুর্নিশ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভোটের আগে প্রান্তিক স্তরের মানুষের কাছেও  দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “এই সমস্ত তথ্য ও উন্নয়নের কথা রাজ্যের প্রতিটি কোণে পৌঁছে দিতে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সব স্তরের জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক ডেকেছি।” পরে সামাজিক মাধ্যমেও এই কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিতেও ছাড়েননি অভিষেক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক স্লোগান ‘বাঁচতে চাই, বিজেপি চাই’-এর পাল্টা হিসেবে তিনি বলেন, তৃণমূলের স্লোগান হবে ‘বাঁচতে চাই, বিজেপি বাই’। তাঁর দাবি, রাজ্যের মানুষের স্বার্থ ও উন্নয়নের প্রশ্নে তৃণমূলই একমাত্র ভরসা।

দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই ‘সংযোগ ও সংলাপ’ কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন সরকারের রিপোর্ট কার্ড ও উন্নয়নের খতিয়ান মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে, তেমনই অন্যদিকে মানুষের অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথাও সরাসরি শোনা হবে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন ও জনসংযোগ আরও মজবুত করতেই এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন- হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু দক্ষিণবঙ্গ, তাপমাত্রা নামল ৮ ডিগ্রিতে, রাজ্যে আরও বাড়বে শীত?

abhishek banerjee