/indian-express-bangla/media/media_files/2025/07/06/21-july-tmc-hording-2025-07-06-14-32-17.jpg)
প্রতীকী ছবি
বাবড়ি মসজিদ শিলান্যাসের পর থেকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘর কি ভাঙতে চলেছে? সম্প্রতি প্রাক্তন জেলা পরিষদের সভাধিপতি বৈদ্যনাথ ঘোষ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এখন আরও কিছু নাম কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে অন্যত্র পা বাড়াতে চাইছেন। জেলা পরিষদের সদস্য ও প্রাক্তন জেলা মহিলা সভানেত্রী তৃণমূল ছাড়ার ব্যাপারে মন স্থির করে ফেলেছেন বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে।
আরও পড়ুন- উৎসবের আমেজ! হাতে জাতীয় পতাকা, বাস ভাড়া করে হুমায়ুনের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ দেখতে মানুষের ঢল
গত বছর ডিসেম্বরে বাবড়ি মসজিদ নির্মান করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। পরবর্তীতে নিজস্ব দল ঘোষণা করার বার্তা দিয়েছেন। তবুও কোনও হেলদোল দেখা যায়নি তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের। যদিও শেষমেশ দিন কয়েক আগে তাঁকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এখন তো তৃণমূলকে রাজ্যের শাসন ক্ষমতা থেকে হঠিয়ে দেওয়ার শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন। এদিকে মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন যখন নতুন দল গঠন নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন, তারই মাঝে গত কয়েকবছর ধরে গুটি গুটি পায়ে সংগঠন মজবুত করছে আসাদ-উদ্দীন ওয়াইসির এআইএমআইএম ও নওশাদ সিদ্দীকির আইএসএফ। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহসভাধিপত ও বর্তমান সদস্য শাহনাজ বেগম।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/852accf3-84f.jpg)
দলের ভূমিকায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ এই মহিলা নেত্রী। এর আগে একাধিকবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দলের একাংশের দুর্নীতি নিয়ে চিঠি দিয়েছেন। জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি বলেই তিনি জানিয়েছেন। তবে কংগ্রেসে ফিরে যাবেন না অন্য কোনও দলে যোগ দেবেন সেই সিদ্ধান্ত এখনও নেননি শাহনাজ বেগম। তবে এই দলে থেকে আর রাজনীতি করবেন না সেই সিদ্ধান্ত একপ্রকার পাকা বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন- চিকেন প্যাটিস বিক্রির 'অপরাধে' খাস কলকাতায় বিক্রেতাকে হেনস্থা, মারধর, ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড়
শাহনাজ বেগম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসবাংলাকে বলেন, "এখন মনে হচ্ছে তৃণমূল যা করছে আমার পুরনো দলে ফিরে যাই। আমি যদি বলি পুরনো দলে ফিরবো না তাহলে মিথ্যা বলা হবে। আমি কংগ্রেসেই ফিরবো সেটাও মিথ্যা বলা হবে। কারণ আমি এখনও সিদ্ধান্ত কিছু নিইনি। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একটা নেব। এদের(তৃণমূলের) সঙ্গে রাজনীতি করা যাবে না। টানা ৪ বছর আমাকে মিটিং, মিছলে ডাকে না। যেহেতু আমি ওদের মতো চোর হতে পারিনি, মুখের ওপর সত্যি বলি।"
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের অনিয়ম-বেনিয়ম, কাজে অনগ্রসরতা, মিটিং না ডাকা নিয়ে শাহনাজ খোলা চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর বক্তব্য, "একাধিকবার জেলা প্রশাসন থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। আমি ২০২৩ সাল থেকে ক্রমাগত জেলা পরিষদ নিয়ে সচেতন করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। আমারও তো একটা ধৈর্যের সীমা আছে। আমরা কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ করে জেলা পরিষদ ভেঙেছিলাম। তখন অপূর্ব সরকাররা তৃণমূলে ছিলেন না। তখন এখনকার সভাধিপতিও ছিলেন না। অধীর চৌধুরী মধ্য়গগনে। জেলা পরিষদ ভেঙে ছিলাম। আমি ক্রমাগত তৃণমূল বাঁচানোর চেষ্টা করছি, দল আমাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমি একটা সময় সিদ্ধান্ত নেব। আমি ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেব। কারণ সিপিএমের মতো রেজিমেন্টেড দলের বিরুদ্ধে লড়াই করে বড় হয়েছি। কংগ্রেসকে শক্তিশালী করেছি। তারপর অধীরকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূলে থেকে লড়াই করেছি।"
আরও পড়ুন- পর্যটকদের জন্য বিরাট দুঃসংবাদ! বন্ধ হল দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী গ্লেনারিজ রেস্তোরাঁর পানশালা
সুতির সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াকফের আন্দোলন নিয়ে বলেছিলেন, "এখানে কোনও আন্দোলন করবেন না। তাহলে আমার থেকে বড় শত্রু আর কেউ হবে না। যারা ওয়াকফ আন্দোলন করতে চান তারা দিল্লি চলে যান।" শাহনাজ বেগম বলছেন, "সেদিন থেকে মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু মানুষগুলো রাগে, ক্ষোভে ফুঁসছিল। তারপর আবার ওয়াকফ সম্পত্তি পোর্টালে তুলে দিল। সাধারণ মানুষ ভাবছে আরএসএসের সঙ্গে তৃণমূলের গোপনে গভীর সম্পর্ক আছে। সেদিন যারা বাবড়ি মসজিদের অনুষ্ঠানে এসেছিল তাঁরা মূলত তৃণমূলের বিরোধী হিসাবে এসেছিল। তৃণমূলের বিধায়করা সাধারণের কাছে ভোট চাইতে যেতে পারবে কিনা আমার মনে সন্দেহ আছে।" তাঁর মতে, "২০২১-এ এনআরসিকে হাতিয়ার করে তৃণমূল জয় পেয়েছিল। এবার কিন্তু খুব কঠিন পরিস্থিতি মুর্শিদাবাদে।"
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us