/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/16/tmc-2026-02-16-10-40-20.jpg)
TMC Inner Clash: শাসকদলের অন্দরের দ্বন্দ্বে বন্ধ তৃণমূল কার্যালয়।
রাজ্যে পালাবদল হয়েছে এক দশকেরও বেশি সময় আগে। বাম আমলের সেই রক্তক্ষয়ী রাজনীতির স্মৃতি পেছনে ফেলে রায়নায় ফুটেছে ঘাসফুল। কিন্তু শান্তি কি ফিরেছে? পূর্ব বর্ধমানের রায়নার হিজলনার বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত সেই প্রশ্নই তুলে দিচ্ছে। তবে এবার লড়াই বিরোধীদের সঙ্গে নয়, বরং তৃণমূল বনাম তৃণমূলের। আর সেই গোষ্ঠীদ্বন্দের জেরে গত এক বছর ধরে হিজলনার তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে ঝুলছে তালা।
মূল বিবাদ কোথায়?
স্থানীয় সূত্রে খবর, রায়নার বিধায়ক শম্পা ধাড়া এবং তৃণমূলের ১ নম্বর ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডলের গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকে এই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, গত এক বছর ধরে কোনো পক্ষই দলীয় কার্যালয়টি ব্যবহার করতে পারছে না। গোলমাল এড়াতে বর্তমানে ওই পার্টি অফিসের সামনে পুলিশ ক্যাম্প পর্যন্ত বসাতে হয়েছে প্রশাসনকে।
নেতাদের বয়ান ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
পার্টি অফিসে তালা দেওয়া প্রসঙ্গে ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডল সরাসরি বলেন, "তৃণমূল সেজে থাকা কিছু ব্যক্তি পার্টি অফিসে অসামাজিক কাজ করে দলের মুখ পোড়ানোর চেষ্টা করছিল। তাই দলের সম্মান রক্ষার্থেই আমি তালা দিয়েছি। উচ্চ নেতৃত্ব নির্দেশ দিলে তবেই তালা খোলা হবে।"
অন্যদিকে, বিবাদের কথা কার্যত এড়িয়ে গিয়ে বিধায়ক শম্পা ধাড়া বলেন, "আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে আমি চাই পার্টি অফিসটি খোলা হোক। বিষয়টি উচ্চ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।" জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই অফিসটি খোলার ব্যবস্থা করা হবে।
ভোটের মুখে শাসকদলের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করতে ময়দানে নেমেছে বিজেপি ও সিপিএম। জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের কটাক্ষ, "সবটাই ভাগ-বাটোয়ারার লড়াই। টাকা নিয়ে বনিবনা নেই বলেই তৃণমূলের এই দশা।"
সিপিএম নেতা বিনোদ ঘোষের দাবি আরও বিস্ফোরক। তিনি বলেন, "ওটা আদতে সিপিএমের অফিস ছিল যা তৃণমূল দখল করেছিল। তোলাবাজির ভাগ নিয়ে ঝগড়ায় নিজেরাই তালা মেরে রেখেছে। সময় এলেই বাম কর্মীরা অফিসটি পুনরুদ্ধার করবে।"
একদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো যখন গোষ্ঠীকোন্দল ভুলে এক হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন, তখন রায়নার হিজলনায় পুলিশ পাহারায় বন্ধ দলীয় কার্যালয় জেলা রাজনীতির এক অদ্ভুত ছবি তুলে ধরছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us