TMC: দিদির দূতেরা কি তবে একে অপরের শত্রু? বিধায়ক বনাম ব্লক সভাপতির ইগোয় 'বন্দি' দলীয় কার্যালয়!

TMC Inner Clash: শাসকদলের অন্দরেই চরমে কোন্দল! পূর্ব বর্ধমানের রায়নার হিজলনায় এক বছর ধরে তালাবন্ধ তৃণমূলের পার্টি অফিস। বিধায়ক শম্পা ধাড়া বনাম ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডলের গোষ্ঠীর লড়াইয়ে এখন পুলিশ পাহারায় দলীয় কার্যালয়।

TMC Inner Clash: শাসকদলের অন্দরেই চরমে কোন্দল! পূর্ব বর্ধমানের রায়নার হিজলনায় এক বছর ধরে তালাবন্ধ তৃণমূলের পার্টি অফিস। বিধায়ক শম্পা ধাড়া বনাম ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডলের গোষ্ঠীর লড়াইয়ে এখন পুলিশ পাহারায় দলীয় কার্যালয়।

author-image
Pradip Kumar Chattopadhyay
New Update
তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ,TMC Inner Clash,রায়না ১ নম্বর ব্লক,Raina 1 Block,  হিজলনা তৃণমূল পার্টি অফিস,Hijolna TMC Party Office,  শম্পা ধাড়া বনাম বামদেব মণ্ডল,Shampa Dhara vs Bamdeb Mondal,  পূর্ব বর্ধমান রাজনীতি,Purba Bardhaman Politics,তালাবন্ধ পার্টি অফিস ,Locked Party Office,রায়নার বিধায়ক,MLA of Raina,  তৃণমূলের ব্লক সভাপতি,TMC Block President,  পঞ্চায়েত নির্বাচন ২০২৩ বিবাদ,Panchayat Election 2023 Conflict,হিজলনায় পুলিশ ক্যাম্প,Police Camp in Hijolna,বিরোধীদের কটাক্ষ,Opposition Criticism

TMC Inner Clash: শাসকদলের অন্দরের দ্বন্দ্বে বন্ধ তৃণমূল কার্যালয়।

রাজ্যে পালাবদল হয়েছে এক দশকেরও বেশি সময় আগে। বাম আমলের সেই রক্তক্ষয়ী রাজনীতির স্মৃতি পেছনে ফেলে রায়নায় ফুটেছে ঘাসফুল। কিন্তু শান্তি কি ফিরেছে? পূর্ব বর্ধমানের রায়নার হিজলনার বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত সেই প্রশ্নই তুলে দিচ্ছে। তবে এবার লড়াই বিরোধীদের সঙ্গে নয়, বরং তৃণমূল বনাম তৃণমূলের। আর সেই গোষ্ঠীদ্বন্দের জেরে গত এক বছর ধরে হিজলনার তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে ঝুলছে তালা।

Advertisment

মূল বিবাদ কোথায়?

স্থানীয় সূত্রে খবর, রায়নার বিধায়ক শম্পা ধাড়া এবং তৃণমূলের ১ নম্বর ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডলের গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকে এই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, গত এক বছর ধরে কোনো পক্ষই দলীয় কার্যালয়টি ব্যবহার করতে পারছে না। গোলমাল এড়াতে বর্তমানে ওই পার্টি অফিসের সামনে পুলিশ ক্যাম্প পর্যন্ত বসাতে হয়েছে প্রশাসনকে।

আরও পড়ুন- West Bengal News Live: তারেক রহমানের রাজ্যাভিষেক! কালই বাংলাদেশে নতুন সরকার, সাক্ষী থাকতে ঢাকা যাচ্ছেন ওম বিড়লা

Advertisment

নেতাদের বয়ান ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পার্টি অফিসে তালা দেওয়া প্রসঙ্গে ব্লক সভাপতি বামদেব মণ্ডল সরাসরি বলেন, "তৃণমূল সেজে থাকা কিছু ব্যক্তি পার্টি অফিসে অসামাজিক কাজ করে দলের মুখ পোড়ানোর চেষ্টা করছিল। তাই দলের সম্মান রক্ষার্থেই আমি তালা দিয়েছি। উচ্চ নেতৃত্ব নির্দেশ দিলে তবেই তালা খোলা হবে।"

আরও পড়ুন- AERO suspension: কমিশনের কড়া চাবুক! ৭ অফিসারের কাজ কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ নবান্নকে, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

অন্যদিকে, বিবাদের কথা কার্যত এড়িয়ে গিয়ে বিধায়ক শম্পা ধাড়া বলেন, "আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে আমি চাই পার্টি অফিসটি খোলা হোক। বিষয়টি উচ্চ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।" জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই অফিসটি খোলার ব্যবস্থা করা হবে।

ভোটের মুখে শাসকদলের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করতে ময়দানে নেমেছে বিজেপি ও সিপিএম। জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের কটাক্ষ, "সবটাই ভাগ-বাটোয়ারার লড়াই। টাকা নিয়ে বনিবনা নেই বলেই তৃণমূলের এই দশা।" 

আরও পড়ুন- ভোটের আগে রাজ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতির গতি বাড়াল বিজেপি, রথ যাত্রা, ব্রিগেডে জনসভায় শক্তি প্রদর্শন গেরুয়া শিবিরের

সিপিএম নেতা বিনোদ ঘোষের দাবি আরও বিস্ফোরক। তিনি বলেন, "ওটা আদতে সিপিএমের অফিস ছিল যা তৃণমূল দখল করেছিল। তোলাবাজির ভাগ নিয়ে ঝগড়ায় নিজেরাই তালা মেরে রেখেছে। সময় এলেই বাম কর্মীরা অফিসটি পুনরুদ্ধার করবে।"
 
একদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো যখন গোষ্ঠীকোন্দল ভুলে এক হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন, তখন রায়নার হিজলনায় পুলিশ পাহারায় বন্ধ দলীয় কার্যালয় জেলা রাজনীতির এক অদ্ভুত ছবি তুলে ধরছে।

Bengali News Today Raina TMC Inner Clash