/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/tmc-slams-bjp-bande-mataram-controversy-anurag-thakur-bande-bharat-abhijit-gangopadhyay-gaffe-2025-12-11-10-13-37.jpg)
লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’-এর বদলে ‘বন্দে ভারত’, মোদীকে বাজপেয়ী বলে উল্লেখ অভিজিতের
লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’-এর বদলে ‘বন্দে ভারত’, মোদীকে বাজপেয়ী বলে উল্লেখ অভিজিতের, ভুলে ভরা সংসদে বিজেপিকে নিয়ে 'ঠাট্টা' তৃণমূলের।
লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্কের সময় পরপর দু’বার ‘বন্দে ভারত’ বলে ফেলেন বিজেপি সাংসদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। আর সেই ভুলকে কেন্দ্র করেই বিজেপি তুমুল কটাক্ষ করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, “সর্বসমক্ষে কথা বলার আগে অন্তত চতুর্থ শ্রেণির ইতিহাস বইটা দেখে আসুন।”
আরও পড়ুন- ভোটের আগে বিজেপিকে চাপে ফেলতে 'বাংলা বঞ্চনাকে'ই হাতিয়ার, সংসদ চত্ত্বরে বিরাট প্রতিবাদে তৃণমূল
এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে “এরা আদৌ দেশপ্রেমিক তো?” পোস্টে আরও লেখা হয়েছে “যারা ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করতে পারেন না, তাঁরা আবার দেশপ্রেম শেখান কীসের জোরে?” তৃণমূলের দাবি, এটা স্রেফ অনুরাগ ঠাকুরের মুখ ফসকে বলা কথা নয় বরং এটা “বিজেপির অজ্ঞতা”, যেটা প্রকাশ্যে ধরা পড়েছে"।
তৃণমূল আরও অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই যখন বাংলার আইকন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেন, তখন ইতিহাস বিকৃতির শুরু যে উপরের স্তর থেকেই হচ্ছে, তা স্পষ্ট। “এটা দেশপ্রেম নয়, ভারতের ঐতিহ্যের তামাশা। লজ্জাজনক”! মন্তব্য তৃণমূলের।
এর আগে লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই তৃণমূল মোদীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে বাংলা বিদ্বেষী বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রকাশ্যে এনিয়ে ক্ষমা চাওয়ারও দাবি জানান। “বাংলার সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন” দল হিসেবে বিজেপিকে কটাক্ষ ছুঁড়তে ছাড়েনি তৃণমূল নেতৃত্ব।। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ২৩ মিনিট পর তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “দা নয়, বাবু বলা উচিত।”
আরও পড়ুন-জানুয়ারিতে টানা ছুটি সরকারি কর্মীদের, নবান্নের বিরাট ঘোষণায় উল্লাস, ঝটপট করে ফেলুন 'হলিডে প্ল্যানিং'
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ ইস্যুটি তুললেও শেষমেশ বাংলার মহাপুরুষদেরই অপমান করেছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “গোটা বিজেপিই জানে না কাকে দাদা আর কাকে বাবু ডাকতে হয়, এটিই মূল সমস্যা তাদের কাছে।”
মোদীর পর অনুরাগ ঠাকুরের 'বন্দে ভারত' মন্তব্যে তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে বলেন, বিজেপির ‘মোদী-আসক্তিই’ এই ভুলের মূল কারণ। তাঁর কথায়, “বিজেপি এতটাই মোদী-আসক্ত যে ‘বন্দে মাতরম’-এর জায়গায় ‘বন্দে ভারত’ বেরিয়ে আসে। তাঁদের কাছে মোদী-ই সব, দেশেরও ঊর্ধ্বে।”
বুধবার তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠাট্টার সুরে লেখে, "অনুরাগ ঠাকুর যেন প্রকাশ্যে কথা বলার আগে “চতুর্থ শ্রেণির ইতিহাস বইটা দেখে নেন।” তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন প্রশ্ন তোলেন, "স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা ‘একটি শব্দও’ রাখেনি, তারা কীভাবে সুর্য সেন বা ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের মতো মহাত্মাদের মূল্য বুঝবে? তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে বিকৃত করছেন"।
আরও পড়ুন-ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনে দল ছাড়তে চলেছেন দাপুটে তৃণমূলনেত্রী ! হুমায়ুন কবীরের পথে এবার শাহনাজ?
দোলা সেনের আরও বক্তব্য “নাম বিকৃত করে, বাংলার আইকনদের বিদ্রূপ করে, আমাদের সংস্কৃতিকে খাটো করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলা মাথা নোয়ায় না। বাংলা মনে রাখবে এবং বাংলার মানুষ এর জবাব দেবে ভোটবাক্সে ”।
এদিকে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীকে ‘নরেন্দ্র বাজপেয়ী’ বললেন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এনিয়েও অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বদলে ‘নরেন্দ্র বাজপেয়ী’ বলে ফেললেন বিজেপি সাংসদ ও কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও ভুল বুঝেই মুহূর্তে সংশোধন করেন তিনি। তবুও ওই মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কটাক্ষ, অস্বস্তিতে বিজেপিও।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে বিতাড়িত হওয়ার আতঙ্কে ৭৬ বছরের বৃদ্ধা, ২০০২ এ নাম থাকা সত্ত্বেও ভিটে মাটি হারানোর ভয়....
সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন বুধবার ভাষণ দিচ্ছিলেন তমলুকের সাংসদ। বক্তব্যের মাঝেই তিনি বলেন, “আমাদের দেশে এখন এক জন প্রধানমন্ত্রী আছেন, তাঁর নাম নরেন্দ্র বাজপেয়ী।” কয়েক মুহূর্তেই দ্রুত ভুল ঠিক করে ছন্দে ফেরেন তিনি। বলেন, “নরেন্দ্র মোদী।” এই অংশের ভিডিওই এখন ভাইরাল। তৃণমূল অবশ্য কটাক্ষ করার সুযোগ হাতছাড়া করেনি। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেন, “রক্তে তো বাঙালি, তাই বঙ্কিমচন্দ্রে র অপমান সহ্য হয়নি। প্রতিবাদে সংসদে দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রীকে ‘নরেন্দ্র বাজপেয়ী’ বলে দিলেন!”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us