/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/26/canada-toronto-indian-students-killed-news-2025-12-26-12-38-16.jpg)
বাড়িতে উদ্ধার হিমাংশির মৃতদেহ, কিছুদিনের মধ্যেই শিবাঙ্ককে গুলি করে খুন
কানাডার টরন্টোতে গত ছয় দিনের ব্যবধানে দুই ভারতীয় নাগরিকের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। নিহতদের একজন ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় মহিলা হিমাংশী খুরানা এবং অপরজন ২০ বছর বয়সী ভারতীয় মেডিকেল ছাত্র শিবাঙ্ক অবস্থি। দুটি ঘটনাই টরন্টোতে ঘটলেও পুলিশ জানিয়েছে, এর মধ্যে কোনও যোগসূত্র নেই।
প্রথম ঘটনায়, টরন্টোতে বসবাসকারী ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক হিমাংশী খুরানার মৃতদেহ একটি বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয়। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করতেন। টরন্টো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ১০টা ৪১ মিনিটে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন, ২০ ডিসেম্বর সকাল প্রায় ৬টা ৩০ মিনিটে স্ট্রাচান অ্যাভিনিউ ও ওয়েলিংটন স্ট্রিট ওয়েস্ট এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে ঘোষণা করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর দ্বারা সংঘটিত ভয়ঙ্কর হত্যার ঘটনা, কারণ ভুক্তভোগী ও সন্দেহভাজন একে অপরকে চিনতেন। এই ঘটনায় টরন্টোর বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী আব্দুল গফুরির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে কানাডা জুড়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে খুঁজছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি ছিল ২০২৫ সালে টরন্টোর ৪০তম হত্যাকাণ্ড।
হিমাংশী খুরানার হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে টরন্টোতে অবস্থিত ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল। এক বিবৃতিতে কনস্যুলেট জানিয়েছে, তারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় অত্যন্ত শোকাহত এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। কনস্যুলেট পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।
এর কয়েক দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে। ২০ বছর বয়সী ভারতীয় ছাত্র শিবাঙ্ক অবস্থিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন বিজ্ঞানে ডক্টরেট (পিএইচডি) করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিট নাগাদ হাইল্যান্ড ক্রিক ট্রেইল ও ওল্ড কিংস্টন রোড এলাকায়, ক্যাম্পাসের খুব কাছেই এই গুলির ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ শিবাঙ্ককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়, তবে ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়ে গিয়েছিল। হামলাকারীরা পুলিশ আসার আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে ক্যাম্পাস লকডাউন করা হয়। পুলিশ শিবঙ্কের ছবি প্রকাশ করে জনসাধারণের সাহায্য চেয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল ২০২৫ সালে টরন্টোর ৪১তম হত্যার ঘটনা।
শিবাঙ্ক অবথির মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করেছে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কনস্যুলেট নিহত ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
টরন্টো পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনও যোগসূত্র নেই এবং এগুলি সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনা। তবে পরপর দুই ভারতীয় নাগরিকের হত্যার ঘটনায় কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় ছাত্র ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পুলিশ উভয় ঘটনাই আলাদাভাবে তদন্ত করছে এবং কারও কাছে কোনও তথ্য থাকলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন- ভয়াবহ বিমান হামলা আমেরিকার, ট্রাম্পের বিরাট হুঙ্কারে কেঁপে উঠল বিশ্ব
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু যুবক খুন, সাধুদের নিয়ে হাই কমিশনে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারীরা
আরও পড়ুন- মোবাইল কেড়ে জোর করে দেহ ব্যবসায়, তারপর? বাংলাদেশি তরুণীর বিস্ফোরক জবানবন্দি ফাঁস
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us